eSanjeevani: করোনাকালে মোদী সরকারের ‘ই-সঞ্জীবনী’ই সঞ্জীবন মন্ত্র, ২ লক্ষের বেশি ফোন গিয়েছে বাংলা থেকেই

Telemedicine Service: এখনও অবধি ১ কোটির উপরে মানুষ এই টেলিমেডিসিন পরিষেবা নিয়েছে বলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে।

eSanjeevani: করোনাকালে মোদী সরকারের 'ই-সঞ্জীবনী'ই সঞ্জীবন মন্ত্র, ২ লক্ষের বেশি ফোন গিয়েছে বাংলা থেকেই
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য বলছে, গত এক বছরে দেশজুড়ে ১ কোটির উপরে 'ই-সঞ্জীবনী'র পরিষেবা নিয়েছে।

নয়া দিল্লি: এখন ঘরে বসেও হাতের মুঠোয় চলে আসে যা কিছু দরকার। সৌজন্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। রান্না করা খাবার থেকে শুরু করে ক্ষেতের আনাজপাতি। পোশাক থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় যা কিছু, সবই এখন চাইলেই মুঠোবন্দি। হোম ডেলিভারি হচ্ছে সব কিছুরই। এমনকী এখন বিভিন্ন অ্যাপের সৌজন্যে জীবনদায়ী ওষুধও মিলছে ঘরে বসেই। গত দেড় বছরে (Covid-19) ঘরবন্দি জীবন অনেক কিছু শিখিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বাস জুটিয়েছে, ডিজিটাল যুগে এই চার দেওয়ালের সীমায় বসেই পেতে পারেন নানা পরিষেবা। তা কোনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শও হতে পারে। কোভিড-১৯’র কঠিন সময়ে কেন্দ্রের টেলিমেডিসিন পরিষেবা ‘ই-সঞ্জীবনী’ (eSanjeevani) ক্রমাগত সেই কাজটাই করে চলেছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য বলছে, গত এক বছরে দেশজুড়ে ১ কোটির উপরে মানুষ ‘ই-সঞ্জীবনী’র পরিষেবা নিয়েছেন। ধীরে ধীরে এই পরিষেবা দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও বৃহৎ টেলিমেডিসিন উদ্যোগ হয়ে উঠছে। বর্তমানে দৈনিক ভিত্তিতে প্রায় ৯০ হাজার রোগী এই পরিষেবায় চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাচ্ছেন। এখনও অবধি ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষকে পরামর্শ দিয়েছে ‘ই-সঞ্জীবনী’।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের জাতীয় টেলিমেডিসিন পরিষেবা ই-সঞ্জীবনী দু’টি পদ্ধতিতে কাজ করে। একটি হল ই-সঞ্জীবনী আয়ুষ্মান ভারত– রোগী কল্যাণ কেন্দ্র। অপরটি সঞ্জীবনী ওপিডি। ই-সঞ্জীবনী আয়ুষ্মান ভারত– রোগী কল্যাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ৬৭ লক্ষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও রোগী কল্যাণকেন্দ্রগুলিতে এই পরিষেবা পাওয়া যায়। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে এই পরিষেবার সূচনা হয়। অন্ধ্র প্রদেশ দেশের প্রথম রাজ্য, যেখানে এই পরিষেবা চালু হয়। কর্মসূচির সূচনার সময় থেকে বিভিন্ন রাজ্যে ২ হাজারেরও বেশি হাব চালু হয়েছে।

পাশাপাশি ই-সঞ্জীবনী ওপিডি পরিষেবায় সাধারণ মানুষ কোভিড ও কোভিড বহির্ভূত পরিষেবা পেয়েছেন। দেশে যখন হাসপাতালগুলিতে ওপিডি বা বহির্বিভাগ পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তখন গত বছরের ১৩ এপ্রিল লকডাউনের সময় এই পরিষেবা শুরু হয়। এখনও পর্যন্ত ৫১ লক্ষেরও বেশি রোগী ই-সঞ্জীবনী ওপিডি থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ পেয়েছেন। এইমস-এর একাধিক কেন্দ্র থেকে এই পরিষেবা মানুষ পেয়েছেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য বলছে, ই-সঞ্জীবনী – জাতীয় টেলিমেডিসিন পরিষেবা শুরু হওয়ার পর শহর ও গ্রামীণ ভারতে ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ফারাক অনেকাংশে মেটানো সম্ভব হয়েছে। এমনকী, এই পরিষেবার ফলে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের সংখ্যায় ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্য মিশনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশে ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রসারে এই পরিষেবা বড় ভূমিকা নিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রক কোভিডের মতো আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় টেলিমেডিসিন পরিষেবার কার্যকারিতা বিবেচনায় রেখে দৈনিক ৫ লক্ষ পরামর্শ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ সহ আরও ৯টি রাজ্য ই-সঞ্জীবনী পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে। কেন্দ্র স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য বলছে, গত সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ২ লক্ষ ৭৪ হাজার ৩৪৪টি টেলিমেডিসিন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিষেবা গ্রহণকারী রাজ্যের তালিকায় প্রথম দশে রয়েছে বাংলা। শীর্ষে রয়েছে অন্ধ্র প্রদেশ। এ রাজ্যে ৩৭ লক্ষ ৪ হাজার ২৫৮টি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কোন রাজ্যে কত পরিষেবা (তথ্য- স্বাস্থ্যমন্ত্রক)

অন্ধ্র প্রদেশ- ৩৭ লক্ষ ৪ হাজার ২৫৮
কর্ণাটক- ২২ লক্ষ ৫৭ হাজার ৯৯৪
তামিলনাড়ু- ১৫ লক্ষ ৬২ হাজার ১৫৬
উত্তর প্রদেশ- ১৩ লক্ষ ২৮ হাজার ৮৮৯
গুজরাট- ৪ লক্ষ ৬০ হাজার ৩২৬
মধ্য প্রদেশ- ৪ লক্ষ ২৮ হাজার ৫৪৪
বিহার- ৪ লক্ষ ৪ হাজার ৩৪৫
মহারাষ্ট্র- ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার ৯১২
পশ্চিমবঙ্গ- ২ লক্ষ ৭৪ হাজার ৩৪৪
কেরল- ২ লক্ষ ৬০ হাজার ৬৫৪

আরও পড়ুন: Dilip Ghosh: ‘এসব ডায়লগ অনেক শুনেছি, এ দোকান বেশিদিন চলবে না’, অভিষেকের মন্তব্যের পাল্টা দিলেন দিলীপ

Read Full Article

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla