লকডাউনের পথেই কি হাঁটবে মহারাষ্ট্র? আগামী সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী

মুখ্যমন্ত্রী উদ্ভব ঠাকরে (Uddhav Thackeray) বলেন, "এটা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ (Second Wave) কিনা, তা আগামী ৮ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই বোঝা যাবে। এর আগে রাজ্যে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার সংক্রমণের খোঁজ মিলছিল, এখন তা প্রায় সাত হাজারে পৌঁছেছে।"

  • TV9 Bangla
  • Published On - 13:05 PM, 22 Feb 2021
লকডাউনের পথেই কি হাঁটবে মহারাষ্ট্র? আগামী সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী
ফাইল চিত্র।

মুম্বই: গতবছরের মৃত্যু মিছিল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন, তাই এবার আর করোনা(COVID-19)-কে হালকা চালে নিতে চান না মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ভব ঠাকরে (Uddhav Thackeray)। চলতি মাসের শুরু থেকেই রাজ্যে ফের একবার করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতেই জেলাগুলিতে লকডাউনের (Lockdown) ঘোষণা করা হয়েছিল। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে গোটা রাজ্যেই লকডাউন জারি করা হবে কিনা, সে বিষয়ে আগামী ৮-১৫ দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, রবিবার এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ভব ঠাকরে।

রবিবার একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মহারাষ্ট্রের করোনা সংক্রমণ গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে এবং আগামী দুই সপ্তাহেও যদি করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, তবে রাজ্যে লকডাউন জারি করা হবে। আগামী ৮ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি আন্দাজ করা যাবে এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কারণ হিসাবে রাজ্যবাসীর অসতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করাকেই দায়ী করেছিলেন। গত সপ্তাহেই লকডাউনের আগাম সতর্কতা জারি করে সাবধানবাণীও দিয়েছিলেন। রবিবারের বৈঠকে ফের একবার সেই বার্তাই দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী উদ্ভব ঠাকরে বলেন, “আমাদের কি লকডাউনের প্রয়োজন রয়েছে? যদি আপনারা দায়িত্ববান নাগরিকের মতো ব্যবহার করেন, তবে আগামী ৮ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই তার ফল জানতে পারবেন। যাঁরা লকডাউন চান না, তাঁরা মাস্ক পরবেন। আর যাঁরা লকডাউন চান, তাঁরা মাস্ক পরবেন না। সোজা কথায় মাস্ক পরুন আর লকডাউনকে না বলুন।”

আরও পড়ুন: এক সপ্তাহের লকডাউন অমরাবতীতে, নিয়ম না মানলে বাড়বে মেয়াদ

গত বছর দেশজুড়ে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর সবথেকে বেশি প্রভাবিত হয়েছিল মহারাষ্ট্র। তবে বিগত তিনমাস ধরে মহারাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণ ক্রমশ নিম্নমুখী হচ্ছিল। আচমকাই ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে করোনা। বিগত সপ্তাহে সংক্রমণের হার চার হাজারের গণ্ডিতে থাকলেও গত শুক্রবারই তা ছয় হাজারের গণ্ডি পার করে। রবিবার রাজ্যে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯৭১ জন, একদিনেই মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের।

রাজ্যের এই ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ আসলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ কিনা, এই বিষয়ে উদ্ভব ঠাকরে বলেন, “এটা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ কিনা, তা আগামী ৮ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই বোঝা যাবে। এর আগে রাজ্যে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার সংক্রমণের খোঁজ মিলছিল, এখন তা প্রায় সাত হাজারে পৌঁছেছে। সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও ৪০ হাজার থেকে একলাফে বেড়ে ৫৩ হাজারে পৌঁছেছে। গতবছর রাজ্যে করোনা সংক্রমণ যখন শীর্ষে পৌঁছেছিল, তখন যেই হারে আক্রান্তের খোঁজ মিলছিল, বর্তমানেও সেই হারেই আক্রান্তের খোঁজ মিলছে। যদি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসে, তবে আক্রান্তের সংখ্যা কী হতে পারে, একবার ভাবুন।”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসনগুলিকে প্রয়োজনে কড়া নিয়মবিধি জারির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অমরাবতী, আকোলা সহ একাধিক জেলার প্রশাসনকে বলা হয়েছে সংক্রমণে রাশ টানতে প্রয়োজনীয় লকডাউন বা অন্যান্য বিধিনিষেধ যেন একদিনের নোটিস দিয়ে জানাতে। একইসঙ্গে যেকোনও রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে, যেখানে বিশাল জনসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে, সেই ধরনের অনুষ্ঠানে অনুমতি না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যেও কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চান, তাঁদের কিছুদিনের জন্য ব্যান করে দেওয়া হবে। আপনারা দলের প্রচার করুন, করোনাভাইরাসের নয়।”

গতকালই অমরাবতী (Amravati) জেলায় এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন জারি করা হয়েছে। আজ থেকে এই লকডাউন কার্যকর হবে। পুণে(Pune)-তেও সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেকোনও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিতের সংখ্যাতেও রাশ টানা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘বিশ্বের করোনা যুদ্ধে ভারতই সেনাপতি’, ঢালাও প্রশংসা রাষ্ট্রসঙ্ঘের