AFSPA Explained: ‘লাইসেন্স টু কিল’! আফস্পা কি সত্যিই পুরোপুরি আইনি রক্ষাকবচ দেয়?

Demand of Repealing AFSPA: আফস্পা হল এমন এক আইন যা একটি সামরিক বাহিনীকে আইনভঙ্গকারী কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে সামরিক বল প্রয়োগ বা গুলি চালানোর ক্ষমতা দেয়।

AFSPA Explained: 'লাইসেন্স টু কিল'! আফস্পা কি সত্যিই পুরোপুরি আইনি রক্ষাকবচ দেয়?
আফস্পার মেয়াদ বৃদ্ধি করল কেন্দ্র। ফাইল চিত্র।

নয়া দিল্লি: নাগাল্যান্ডে সেনার অভিযানে এক মারাত্মক ‘ভুল’, আর তার জেরে নিরপরাধ গ্রামবাসীদের মৃত্যু। এই ভয়ঙ্কর ঘটনাকে অনেকেই গণহত্যার সামিল বলে তুলনা করছেন। আর এরই মধ্যে ফের একবার সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন (AFSPA) নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আফস্পা হল এমন এক আইন যা একটি সামরিক বাহিনীকে আইনভঙ্গকারী কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে সামরিক বল প্রয়োগ বা গুলি চালানোর ক্ষমতা দেয়।

ইতিমধ্যেই নাগাল্যান্ড সরকার কেন্দ্রকে এই নিয়ে চিঠি লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রের কাছে আফস্পা আইন প্রত্যাহার করার আবেদন জানাতে চলেছে নাগাল্যান্ড সরকার। নাগাল্যান্ডের মন জেলার ওটিংয়ে মৃত সাধারণ নাগরিকদের শেষকৃত্যে যোগ দিয়েছিলেন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী নেফু রিও। তখনই তিনি বলেছিলেন, নাগাল্যান্ড থেকে আফস্পা প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ করেছেন। কারণ তাঁর মতে, এই আইনটি “দেশের ভাবমূর্তির উপর একটি কালো দাগ”।

উল্লেখ্য, ওটিং গ্রামে প্রাণহানির ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমাও। নাগাল্যান্ডে হত্যাকাণ্ডের পর এনডিএর জোট শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সভাপতি সাংমাও আফস্পা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এবং কংগ্রেস নেতা প্রদ্যুৎ বরদলুইও এই বিতর্কিত আইন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

আফস্পা আইন কী?

আফস্পা হল এমন এক আইন যা সশস্ত্র বাহিনীকে কোনও “অশান্ত এলাকা”য় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিশেষ ক্ষমতা দেয়। এই আইনের আওতায়, সশস্ত্র বাহিনীকে গুলি চালানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কোনও অপরাধের সন্দেহ করলে, ওয়ারেন্ট ছাড়াই কোথাও ঢুকতে পারে, তল্লাশি করতে পারে এবং প্রয়োজনে যে কোনও ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র বাহিনীকে আইনি রক্ষাকবচও দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে আফস্পা আইনে।

কোথায় কোথায় আফস্পা কার্যকর রয়েছে?

কোনও একটি এলাকায় “অশান্ত” হিসাবে ঘোষিত হওয়ার পরে সেই এলাকায় আফস্পা কার্যকর করা যেতে পারে। কোনও এলাকা অশান্ত কিনা, তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা প্রাথমিকভাবে রাজ্যগুলির হাতে ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালে সেই ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে চলে যায়। আফস্পা (জম্মু ও কাশ্মীর)-এর ৩ নং ধারায় বলা হয়েছে, যদি রাজ্যপাল বা কেন্দ্রীয় সরকার মনে করেন, তাহলে এলাকাটিকে অশান্ত বলে ঘোষণা করা যেতে পারে।

বর্তমানে, জম্মু ও কাশ্মীর, নাগাল্যান্ড, অসম, মণিপুর (ইম্ফলের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র বাদে) এবং অরুণাচল প্রদেশের কিছু অংশে আফস্পা আইন কার্যকর রয়েছে। যদি প্রশাসন মনে করে ওই এলাকায় পরিবেশ এখন আর অশান্ত নয় কিংবা যদি মনে করা হয় এলাকার পরিস্থিতি পুলিশ বাহিনী দিয়ে পরিচালানা করার যোগ্য, তখন এই আইনটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ত্রিপুরা থেকে আফস্পা আইন বাতিল করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে মেঘালয় থেকেও আফস্পা সরিয়ে নেওয়া হয়। অরুণাচল প্রদেশেও এই আইনের ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে।

আফস্পা নিয়ে এত বিতর্ক কেন?

আফস্পা আইন সশস্ত্র বাহিনীকে নিরবচ্ছিন্ন ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার দেয়। এই আইনের আওতায় সশস্ত্র বাহিনী যে পদক্ষেপ করে, তার জন্য নিরাপত্তা রক্ষা বাহিনীর জওয়ানদের কোনওরকম দায়বদ্ধতা থাকে না। আইনি রক্ষাকবচ থাকে তাঁদের জন্য। আর এই নিয়েই যাবতীয় বিতর্ক এবং সমালোচনা।

আফস্পার আওতায়, “সশস্ত্র বাহিনী” নিছক সন্দেহের ভিত্তিতে একটি বাড়ি উড়িয়ে দিতে পারে কিংবা কাউকে গুলি করে হত্যা করতে পারে। একজন নন-কমিশনড অফিসার বা সমতুল্য পদমর্যাদার এবং তার উপরের পদমর্যাদার যে কেউ সন্দেহের ভিত্তিতে, ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে বা হত্যা করতে বলপ্রয়োগ করতে পারেন। অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন যে কিছু বহনকারীর উপর গুলি চালানোর অধিকার দেওয়া হয়েছে আফস্পায়।

একবার কোনও এলাকায় আফস্পা কার্যকর করা হলে, এই আইনের আওতায় কেন্দ্রীয় সরকারের আগাম অনুমোদন ছাড়া, কোনও কিছু করা যাবে না। ২০০৪ সালে গঠিত জীবন রেড্ডি কমিটি আইনটি সম্পূর্ণ বাতিলের সুপারিশ করেছিল। বলা হয়েছিল, “আইনটি ঘৃণা এবং নিপীড়নের প্রতীক।”

আফস্পা নিয়ে কী বলছে সুপ্রিম কোর্ট?

২০১৬ সালে, সুপ্রিম কোর্ট আফস্পা আইন নিয়ে সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছিল। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই আইনটি নিরাপত্তা বাহিনীকে খোলা হাতে কাজ করার অধিকার দেয় এমন ধারণা ভুল।

মণিপুরে বিনা বিচারে মৃতদের পরিবারের এক সংগঠন এক্সট্রা জুডিশিয়াল এক্সিকিউশন ভিক্টিমস ফ্যামিলি অ্যাসোসিয়েশন (EEVFAM)-এর দায়ের করা একটি পিটিশনের রায়ে আদালত বলেছিল, আইনের ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী সম্পূর্ণ আইনি রক্ষাকবচ দেওয়া হয় না। যদি কোনও মৃত্যুর ঘটনা যুক্তিযুক্ত মনে না হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে সরকার তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে। সেই সময় সর্বোচ্চ আদালত আরও জানিয়েছিল, মণিপুর বিগত দুই দশকে ১৫০০ টিরও বেশি ‘ভুয়ো’ এনকাউন্টারের ঘটনা “তদন্ত করা দরকার”৷

এক্সট্রা জুডিশিয়াল এক্সিকিউশন ভিক্টিমস ফ্যামিলি অ্যাসোসিয়েশনের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, ১৯৭০-এর দশক থেকে, মণিপুরে ১৫২৮ টি ভুয়ো এনকাউন্টার হয়েছে৷ মানবাধিকার কর্মীরা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য আফস্পাকেই দায়ী করে। অভিযোগ, এই আইনটি সেনাবাহিনীকে এবং মণিপুরের কমান্ডোদের কোনওরকম দায়মুক্ত হয়ে হত্যা করার আইনি রক্ষাকবচ দেয়। তারা আরও অভিযোগ করেছিল, এগুলি কেবল সেই ঘটনাগুলি, যেগুলি নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া এমন অনেক লোক বছরের পর বছর ধরে নিখোঁজ যেগুলির কোনও রিপোর্ট করা হয়নি।

আরও পড়ুন : PM Modi to BJP MPs: ‘নিজেদের বদলে ফেলুন, নইলে সব কিছু বদলে যাবে’, বৈঠকে বিজেপি সাংসদদের হুঁশিয়ারি মোদীর

Published On - 4:24 pm, Tue, 7 December 21

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla