Winter Session: পার্লামেন্টে হানা বিতর্কে সাসপেন্ড করা হল ডেরেক-সহ ১৫ বিরোধী সাংসদকে
লোকসভার নিরাপত্তা লঙ্ঘন নিয়ে সংসদের ভিতর বিক্ষোভ দেখানোর জেরে সাসপেন্ড করা হল লোকসভার ১৪ বিরোধী সাংসদকে। সাসপেন্ড করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও'ব্রায়েনকেও। বুধবার লোকসভায় ভিতরে ঢুকে স্মোক বম্ব নিয়ে দাপিয়ে বেরিয়েছিল দুই যুবক।

নয়া দিল্লি: লোকসভার নিরাপত্তা লঙ্ঘন নিয়ে সংসদের ভিতর বিক্ষোভ দেখানোর জেরে সাসপেন্ড করা হল লোকসভার ১৪ বিরোধী সাংসদকে। সাসপেন্ড করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনকেও। লোকসভার যে ১৪জন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাঁরা হলেন – কংগ্রেসের টিএন প্রতাপন, হিবি ইডেন, এস জোথিমনি, রম্যা হরিদাস, ডিন কুরিয়াকোস, বেনি বেহানান, ভিকে শ্রীকান্দন, মহম্মদ জাভেদ এবং মানিকম ঠাকুর, সিপিআইএম-এর পিআর নটরাজন ও এস ভেঙ্কটেসন, ডিএমকে-র কানিমোঝি করুণানিধি ও এসআর পার্থিবন এবং সিপিআই-এর কে সুব্রহ্মণ্যম। সকল সাংসদকেই সভার কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটানোর দায়ে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংসদের শীতকালীন অধিবেশন চলবে। ততদিন পর্যন্ত এই সাংসদরা সাসপেন্ড থাকবেন।
বুধবার, সংসদের অধিবেশন চলাকালীন, লোকসভায় ঢুকে পড়েছিল সাগর শর্মা এবং মনোরঞ্জন ডি নামে দুই যুবক। দর্শকাসন থেকে লাফিয়ে, সাংসদদের বসার জায়গায় এসে পড়েছিল তারা। লোকসভা কক্ষের ভিতরে স্মোক বম্বও ফাটায়। যার জেরে হলুদ ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল লোকসভা কক্ষ। ওই ধোঁয়ায় কোনও বিষাক্ত রাসায়নিক ছিল না ঠিকই, তবে, এই ঘটনাকে সংসদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে বিরোধীরা। নয়া সংসদ ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে, এদিন সকাল থেকেই সংসদের ভিতরে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান বিরোধী সাংসদরা। ২০০১ সালের সংসদ হামলার বর্ষপূর্তির দিনেই এই ঘটনা ঘটায়, এই বিষয়ে দুই কক্ষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিবৃতি দাবি করেন বিরোধীরা।
যার জেরে এদিন বারবার ব্যআহত হয়েছে লোকসভা এবং রাজ্যসভার কার্যক্রম। বিরোধী সাংসদদের তীব্র হইহট্টগোলের মধ্য়েই, সংসদ বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী ওই ১৪ জন লোকসভা সাংসদকে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব তোলেন। ধ্বণিভোটে সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়। অন্যদিকে, রাজ্যসভায় একই বিষয় নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন বিরোধী সাংসদরা। প্রবল শোরগোলের মধ্যে রাজ্যসভার অধ্যক্ষ তথা উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে অবিলম্বে কক্ষত্যাগের নির্দেশ দেন। এরপরই, সব দলের দলনেতাদের এক বৈঠকে ডেকেছিলেন ধনখড়। কিন্ত, বিরোধী কোনও দলের দলনেতাই তাঁর আহ্বানে সাড়া দেননি। এরপরই, জগদীপ ধনখড় ডেরেক ও’ব্রায়েনকে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেন। সাসপেন্ড হওয়ার পরও অবশ্য ডেরেককে রাজ্যসভা কক্ষে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে। পরে, সভার কার্যক্রম মূলতবি করে দেওয়া হয়।
ডেরেক ও’ব্রায়েনকে রাজ্যসভা থেকে বরখাস্ত করার বিষয়ে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন বলেছেন, “আজ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ওয়েলে গিয়ে জনগণের সমস্যা তুলে ধরাটা আমাদের অধিকার। ডেরেক ও’ব্রায়েন কোনও ভুল করেননি। সংসদের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়ে নীরব প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাই বিরোধী হিসাবে আমরা এই বিষয়টি তুলেছি এবং স্লোগান দিয়েছি।”





