‘আমি জানতাম এর থেকে বড় গদ্দার আর কেউ নেই’

মুকুল রায় চলে গেলে পদ্মের সম্মান বাড়বে, এমনটাই দাবি ব্যারাকপুরের সাংসদের।

'আমি জানতাম এর থেকে বড় গদ্দার আর কেউ নেই'
দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন অর্জুন। উপস্থিত ছিলেন মুকুল

নয়া দিল্লি: এত বড় গদ্দার আর হয় না, এটা আর কেউ না জানুক অর্জুন সিং (Arjun Singh) জানত। তৃণমূলে ভবনে যখন মমতার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেছেন মুকুল রায় (Mukul Roy), তখন দিল্লিতে বসে এমনই প্রতিক্রিয়া দিলেন বিজেপির সাংসদ অর্জুন সিং। এক সময় মুকুল রায়ের উপস্থিতিতেই দিল্লির বিজেপি হেডকোয়ার্টারে গিয়ে পদ্মের হাত ধরেছিলেন অর্জুন সিং। মুকুলের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতেই তাঁকে ‘দু-নম্বরি’, ‘গদ্দার’ তকমা দিলেন তিনিই।

এ দিন তিনি বলেন, ‘মুকুল রায় যাওয়ায় পদ্মফুলের মান-সম্মান আরও বাড়ল।’ তাঁর দাবি, বিজেপিতে কেউ তাঁকে বিশ্বাস করত না। শুধ দুর্ভাগ্যবশত কিছু মানুষ বিশ্বাস করে তাঁকে পদ দিয়েছিলেন। ব্যারাকপুরের সাংসদের কথায়, ‘মুকুল রায় যে গদ্দার-বেইমান, অর্জুন সিং জানত। এর থেকে বড় গদ্দার আর কেউ নেই। আমি দলে থেকেও সবসময় বলতাম এই লোকটা দলের ক্ষতি করবে।’

একসময় তৃণমূলের সাফল্যে যে মুকুলের ভূমিকা ছিল, তা কোনোভাবেই মানতে চান না অর্জুন সিং। তাঁর দাবি, বিজেপি তাঁকে সম্মান দিয়েছিল কিন্তু তিনি তা ধরে রাখতে পারেননি। অর্জুন সিং বলেন, ‘মুকুল রায় নাকি বড় নেতা! কেন্দ্রীয় সুরক্ষা নিয়ে তৃণমূল ভবনে যাচ্ছেন, বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দেননি। তারপর তাঁকে বেইমান ছাড়া আর কী বলা হয়।’ ভবিষ্যতে দল বদল করে কেউ বিজেপিতে আসতে চাইলে তাঁর ব্যাকগ্রাউন্ড খতিয়ে দেখা উচিৎ বলেও মন্তব্য করেছেন অর্জুন সিং।

আরও পড়ুন: কীভাবে ধাপে ধাপে পুরোনো দলের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচালেন মুকুল? রইল ফ্ল্যাশব্যাক

গত কয়েক দিন ধরেও অভিষেকের সঙ্গে মুকুলের ঘনিষ্ঠতা তিনি ভালো চোখে দেখছিলেন না। অর্জুন বারবার বলেছেন, বিজেপি এই বিষয়টা মোটেই ভাল চোখে দেখছে না। এরই মধ্যে অর্জুন সিং, সৌমিত্র খাঁদের দিল্লিতে তলব করেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আপাতত দিল্লিতেই আছেন তাঁরা। এ দিন মুকুল রায়ের তৃণমূল ভবনে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তড়িঘড়ি অর্জুন সিং-এর বাড়িতে আসেন সৌমিত্র খাঁ।