WB Politics: ভবানীপুরে বিদ্যাসাগর! মমতা বললেন, ‘আজ ২০০ তম জন্মদিন’, শুভেন্দুর কটাক্ষ ‘জানেন না তো কিছুই’

TMC VS BJP: ভবানীপুর উপনির্বাচনের আগে রবিবাসরীয় প্রচারে তৃণমূল, বিজেপি সবপক্ষই।

WB Politics: ভবানীপুরে বিদ্যাসাগর! মমতা বললেন, 'আজ ২০০ তম জন্মদিন', শুভেন্দুর কটাক্ষ 'জানেন না তো কিছুই'
ভবানীপুরের উপনির্বাচনের রবিবাসরীয় প্রচার।

কলকাতা: ভবানীপুরের উপনির্বাচনের (Bhabanipur By-Election) রবিবাসরীয় প্রচার। এদিনই আবার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিনও। তৃণমূল-বিজেপির রাজনীতির প্রচারে তাই অনায়াসে ঢুকে গেলেন এই মানুষটিও! মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার যদুবাবুর বাজারে ভোট প্রচারে গিয়ে বিদ্যাসাগরের কততম জন্মদিন তা নিয়ে যখন খানিক ‘ধন্দে’। সদর স্ট্রিটে তখন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ‘মাননীয়া’র ভুল ধরাতে ব্যস্ত।

এদিন যদুবাবুর বাজারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০০ বছর পূর্ণ হল। আজ তাঁর পবিত্র জন্মদিন।” মঞ্চে উপবিষ্ট কেউ তখন ধরিয়ে দেন, ২০১। তা শুনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এক বছর আগে থেকেই শুরু হয়। ২০০। ২০১।” এরপরই এর সঙ্গে তিনি মিলিয়ে দেন, ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের আগে কলকাতায় সেই লজ্জার দিনটি। যেদিন একদল দুষ্কৃতী বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে তাণ্ডব চালিয়েছিল। যে ঘটনায় তৃণমূলের দাবি ছিল, ‘এটা বিজেপির কাজ।’ পাল্টা বিজেপির যুক্তি ছিল, ‘তৃণমূলের লোকেরা ভেঙে বিজেপির নামে চালাচ্ছে।’ এদিন আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই বিজেপি ঈশ্বরচন্দ্রের মূর্তি ভেঙেছিল। এর আমরা তীব্র নিন্দা করি।”

এরপরই সদর স্ট্রিটে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের হয়ে প্রচারে গিয়ে বলেন, “আমার কাছে মাননীয়ার যদুবাবুর বাজারের বক্তব্যগুলো এল। শনিবার চেতলাতে উত্তরগুলো আমরা এমন কড়া কড়া দিয়েছি, আজ আর নন্দীগ্রামের কথা বলেননি। আজকে বলছেন, আজ নাকি বিদ্যাসাগরের ২০০ তম জন্মদিবস। এই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী জানেন না, আজ তাঁর ২০১তম জন্মদিন। এটাই বাংলার দুর্ভাগ্য। উনি বলছেন ২০০ তম জন্মদিন। আজ শুনে রাখুন কাল কারেকশন করে নেবেন। আজ ২০২ তম এবং ২০১ পূর্তি। আপনার ভাইপো, এই পার্টির যিনি মালিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কিছুদিন আগে বলেছিলেন বর্ণপরিচয়ের স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই তো কালচার। এই তো জ্ঞান।”

মণীষীদের নিয়ে রাজনীতি এ রাজ্যে গত কয়েক বছরে বেশ ‘ট্রেন্ডিং’। আর কাকতালীয় ভাবে বার বার সেই আলোচনায় উঠে আসেন যে মানুষটি, তাঁর হাত ধরে বাঙালির বর্ণ পরিচয় হয়েছিল। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়। সেই ২০১৯-এর লোকসভা ভোট থেকে চলে আসছে এই ধারা। সকলেরই মনে আছে, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ কেমন অবলীলায় বলে দিয়েছিলেন, ‘সহজপাঠের রচয়িতা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।’ এরপর বাবুল সুপ্রিয়, এখন যিনি তৃণমূলে, সে সময় বিজেপিতে এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বাবুল বলেছিলেন, ‘সতীদাহ প্রথার বিলোপ করেন বিদ্যাসাগর’।

প্রসঙ্গ রোমের বিশ্বশান্তি সম্মেলন

এদিন যদুবাবুর বাজারে ভোট প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে আমাকে ডাকলে যারা হিংসুটে তারা বলে যাওয়া যাবে না। ওটা নাকি ফিট নয়! তা কোনটা ফিট, আর কোনটা আনফিট? কে ঠিক করবে? আমার ভাল মন্দ আমি বুঝব না? তোমাদের বোঝাতে হবে? অনেক রাজ্যে আছে যারা কোনও অনুমতিই নেয় না। আমি নিই। কারণ, সৌজন্য-শৃঙ্খলা। আমি চাই আমার দেশের বিদেশমন্ত্রকের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভাল থাকুক। কিন্তু এ ভাবে আটকানো কেন? বিশ্বশান্তির আরেক নাম ভ্রাতৃত্ববন্ধন, সম্প্রীতি। নাই যা যেতে পারলাম সেখানে। এখান থেকেই যা বলার বলব।”

এরপরই পাল্টা শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষ, “বলছেন ওনাকে নাকি কেন্দ্রীয় সরকার যেতে দেয়নি। আপনি নাকি যদুবাবুর বাজার থেকে বিশ্বশান্তির প্রার্থনা করেছেন। আরে যাচ্ছিলেন তো এমন এক সংস্থায় যে সংস্থা লোকের অভাবের সুযোগ নিয়ে ধর্ম পরিবর্তন করায়।… পররাষ্ট্রমন্ত্রককে ধন্যবাদ জানাব, যে এরকম একজন লেডি হিটলারকে আপনারা আটকে দিয়েছেন, যেতে দেননি।”

আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: ‘খালি হিংসা! দেখবে ঝুড়ি ভরে ১০০টা লাড্ডু নিয়ে যাচ্ছ, রাস্তায় সব পড়ে গেছে, ঝুড়ি ফাঁকা’, তোপ মমতার

Read Full Article

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla