What Bengal Thinks Today : মিডিয়ার দায়, দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গে সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন টিভি নাইন নেটওয়ার্কের সিইও বরুণ দাস

সাংবাদিকতা প্রশ্ন করতে শেখায়। ভাবাতে শেখায়। অথচ, সেই সাংবাদিকতাই আজ প্রশ্নের মুখে। সাধারণের সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন টিভি নাইন নেটওয়ার্কের সিইও বরুণ দাস

What Bengal Thinks Today : মিডিয়ার দায়, দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গে সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন টিভি নাইন নেটওয়ার্কের সিইও বরুণ দাস
বরুণ দাস, CEO টিভি নাইন নেটওয়ার্ক
tista roychowdhury

|

Jan 31, 2021 | 11:36 AM


টিভি নাইন এক্সক্লুসিভ : হিকিজ বেঙ্গল গেজেট দিয়ে যে সাংবাদিকতার (Media) যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই যাত্রা আজ বিজ্ঞাপন, টিআরপির দৌড়ে বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নকে উসকে দিচ্ছে। আম জনতার দরবারে ‘ট্রাস্ট ফ্যাক্টর’ একটা বড় ইস্যু। ‘গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ কি বিশ্বাস হারাচ্ছে ?’ অভিনেত্রী অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়ের তির্যক প্রশ্ন কিংবা, মিডিয়ার বাজারিকরণ নিয়ে বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তের ধারণা…সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন দেশের এক নম্বর নিউজ নেটওয়ার্কের সিইও বরুণ দাস।

প্রসঙ্গ :  মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ও দায়বদ্ধতা 

 

বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ ভারতবর্ষ। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ মিডিয়ার স্বাধীনতা আসলে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার অন্য নাম। ভুয়ো সংবাদের জেরে এই দায়বদ্ধতা যেন হারিয়ে না যায়। বাংলার বিধানসভা নির্বাচন জরুরি। কারণ, দেশের যে কোনও প্রান্তের নির্বাচনই আসলে সরকারি অঙ্গীকারের ধারক। সেই ক্ষেত্রে মিডিয়ার দায় অনেক বেশি। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর তাঁর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। 

  • ‘স্ব-অহম’ আমাদের মূল মন্ত্র…

এ প্রসঙ্গে সিইও বরুণ দাস বলেন : বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ যাত্রা টিভি নাইন বাংলার। একই সঙ্গে কঠিন। বিশেষ করে যখন সমগ্র মিডিয়াই একটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। টিআরপি স্ক্যাম নিয়ে জাতীয় স্তরে মিডিয়ার (Media) দায়বদ্ধতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তা কেবল সংবাদ মাধ্যমের জন্য ক্ষতিকারক নয়, নেতিবাচক প্রভাবও পড়ছে। এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের প্রধানরা নানা রকম ব্যবসায়িক যুক্তি দেখাতে পারেন। কিন্তু, এ গুলো কোনওটাই আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আমি বিশ্বাস করি, অন্যকে একটা আঙুল দেখালে, নিজের দিকে তিনটে আঙুল থাকে। আমি ‘স্ব-অহম’-এ বিশ্বাসী। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, মিডিয়ায় সব সঠিক নয়। তবে তা ঠিক করতে হবে। এটাই আমাদের দায়, দায়বদ্ধতাও ।

 

টিআরপি প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বললেই সাম্প্রতিক বার্ক বিতর্কটির কথা বলতেই হয়। এখন টেলিভিশন নিউজের ইমেজ নামতে নামতে শেষ ধাপে চলে এসেছে। টিআরপি কি শেষ কথা? মিডিয়া রাজস্বের দাপটে কি গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ ধূলিসাৎ হতে চলেছে? প্রশ্ন করলেন অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়

 

  • ‘নো ফলস সাজেশন, নো ট্রুথ সাবপ্রেশন’

 প্রশ্নের উত্তরে সিইও বরুণ দাস বলেন, ‘আমরা যদি বিশ্বাসের দায়ে দুষ্ট হই, তবে আমাদের উচিত নিজস্ব মৌলিকত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া। আর সেই মৌলিকত্ব খুঁজতে গেলে উৎসে যেতে হবে। সংবাদ মাধ্যমের যাত্রা শুরু হয়েছিল নিজস্ব এক দর্শন ও ধারণা থেকে। মূল লক্ষ্য ছিল দেশের স্বাধীনতা। শতক পার হয়ে সেই যাত্রা এখন প্রত্যেক ঘরের অন্দরে অব্যাহত। টেকনোলজির সঙ্গে টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির সুদীর্ঘ বদলে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে বিপণনী কেন্দ্রগুলি। বিজ্ঞাপন এখন মিডিয়ার জরুরি অংশ। কারণ, আমাদের দেশে নিউজ চ্যানেল বিনামূল্যে দেখতে পান মানুষ। তার জন্য আলাদা অর্থ দিতে হয় না। সেই ক্ষেত্রে মিডিয়া রাজস্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়ায়। তবে, টিভি নাইন নেটওয়ার্ক বিশ্বাস করে ‘নো ফলস সাজেশন, নো ট্রুথ সাবপ্রেশন’। তাই, আমাদের লক্ষ্য প্রথমে সম্মান, তারপর টিআরপি, শেষে মিডিয়া রাজস্ব। এর থেকে সরে গেলে চলবে না।’

 

একটি বিশেষ দলের তরফদারি করা মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ব্যবসা চালাতে টিআরপি প্রয়োজন। কিন্তু, তা যেন এথিক্যাল হয়। সর্বজনগ্রাহ্যতার পাশাপাশি সত্যনিষ্ঠ থাকা মিডিয়ার দায়িত্ব। মানুষ যদি মিডিয়াকে বিশ্বাস না করতে পারে তবে কাকে করবে? মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করলেন তৃণমূল অভিনেত্রী সাংসদ নুসরত জাহান

 

  • টিআরপির ইঁদুর দৌড়ে আমাদের আস্থা নেই…

নুসরতের প্রশ্নের উত্তরে সিইও বলেন, ‘টিআরপি নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে টিআরপি কী, কেনই বা এর প্রয়োজন তা জানা দরকার। টিআরপি বা টেলিভিশন রেটিং পয়েন্টের দৌলতেই মিডিয়া রাজস্বের জোগান সম্ভব। কারণ, আমাদের দেশের নিউজ চ্যানেলগুলি ফ্রি টু এয়ার। বিজ্ঞাপনদাতারা সে ক্ষেত্রে অবশ্যই নজরে রাখেন কোন চ্যানেলে দর্শক বেশি হবে, তাঁরা তাঁদের ব্যবসাটা বোঝেন। এন্টারটেইনমেন্টের ক্ষেত্রে দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী লেখক ঘটনাক্রম বদলাতে পারেন। কিন্তু সংবাদ মাধ্য়ম রিপোর্ট ঘটাতে  পারবে না বা তৈরি করতে পারবে না। তাই টিআরপি রেটিং-এর দৌড় থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। একটি স্বতন্ত্র ধ্যান ধারণার চিন্তা করতে হবে।’

প্রসঙ্গ: মিডিয়া রাজস্ব ও টিআরপি

 

টিআরপি নিয়ে একটা প্রতিযোগিতা চলছে। টিআরপি যেমন জরুরি তেমন টিআরপি একটা রহস্যও বটে। যেন একটা পরাবাস্তব। টিআরপিকে ঠিক মাপা যায়না। বোঝা যায় না। টিআরপির দৌড়ে বারবারই হারিয়ে যাচ্ছে আসল খবর। দর্শক টিআরপি দ্বারা চালিত হন। টিআরপি নিয়ে ম্যানুপুলেশন চলে। এই ঠাণ্ডা যুদ্ধকে আটকানোর কোনও উপায় নেই। দাবি, চলচ্চিত্র পরিচালক  গৌতম ঘোষের

একই সুর অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়ের গলায়। তিনি বলেন, ‘টেলিভিশন রেটিং-এর ক্ষেত্রে  ১৯৫০ সালের সিস্টেম কেন ব্যবহার করছি? ডিজিটাল কনটেন্টের ক্ষেত্রে আমরা জানতে পারি কারা দেখছেন, কোথা থেকে দেখছেন, টেলিভিশনের ক্ষেত্রে এই দৈন্য দশা কেন? ’

বিজ্ঞাপন দিয়ে বেশিদিন বোকা বানানো যায় না…

এ প্রসঙ্গে সিইও বরুণ দাস জানান,  টিআরপি জরুরি। বিজ্ঞাপনদাতারা যে মিডিয়া (Media) রাজস্বের জোগান দেবেন তার আগে প্রোগামিং-এর একটা সুষ্পষ্ট ধারণা তাঁরা নিজেদের আয়ত্তাধীন করবেন এটাই স্বাভাবিক। এখন টেকনোলজি অনেক এগিয়ে গিয়েছে। ডিজিটালাইজেশনের যুগে ডিজিটাল সেট টপ বক্স এসে গিয়েছে। সমস্যা হল স্যাম্পলিং নিয়ে। স্যাম্পলিং-এর উপর নির্ভরতা কমাতে হবে। নিউজ চ্যানেলের রেটিং মাসে একবার এলেই যথেষ্ট। ডিজিটাল মিডিয়ার ক্ষেত্রে আমরা দর্শকদের ট্রেস করতে পারি। টেলিভিশনেও তা থাকবে না কেন? দর্শক টাকা দিয়ে চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করবেন। যে চ্যানেল দেখতে চান সেটাই দেখবেন। মার্কেট ফোর্স বলে ভাল কন্টেন্ট দর্শক গ্রহণ করেন, খারাপটা বর্জন করেন। চ্যানেলের ক্ষেত্রেও তাই হবে।সোজাসুজি রিয়াল ভিউয়ারশিপ পরিমাপ করা উচিত। আমাদের কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন শীঘ্রই এমনটাই জানিয়েছেন। একটা বিষয় মনে রাখা দরকার, বিজ্ঞাপন দিয়ে খুব বেশিদিন বোকা বানানো যায় না।

 

প্রসঙ্গ: সংবাদ মাধ্যমের নিরপেক্ষতা

খাস কলকাতা শহরে কেউ মিডিয়ার নিরপেক্ষতার কথা বলছে এটাই তো অস্বাভাবিক। মিডিয়া কোনওদিনই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলনা। মুনাফার দায়ে এতটাই ব্যতিব্যস্ত বর্তমান সংবাদ মাধ্যম যে নিরপেক্ষতা থাকা তো দূর, নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টাটাও চলে গিয়েছে। সাধে কি কেউ মিডিয়াকে ‘গোদি মিডিয়া’ বা ‘ভক্ত মিডিয়া’ বলে! এমনটাই দাবি করেছেন বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত

অনুরূপ মন্তব্য করেছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তিনি বলেছেন, ‘মিডিয়া নিউট্রালিটি বড় বিষয়। কোনও কোনও মিডিয়া রাজ্য সরকার বা কেন্দ্র সরকারের পক্ষে কাজ করে। মিডিয়ার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মানুষের যেন এমন ধারণা না হয়, যে ওই চ্যানেল অমুকের হয়ে কাজ করে। এই ধারণা অস্বাস্থ্যকর।’

ব্যক্তিস্বাতন্ত্রে মৌলিকত্বই  মূল দর্শন…

স্বপন বাবুর মন্তব্যে সিইও বরুণ দাস জানান, নিরপেক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাবজেক্টিভ বিষয়। প্রত্যেক ব্যক্তির নিজস্ব মৌলিক ধ্যান ধারণা আছে। ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যে মৌলিকত্বই মূল দর্শন। কর্পোরেট হাউজ তো সেই ব্যক্তি সমষ্টি নিয়েই তৈরি হয়। ফলে, প্রত্যেক হাউজের একটি নির্দিষ্ট মৌলিক ভাবনা ও দর্শন থাকে। তার সঙ্গে অন্য ধারণার বা মতামতের সাদৃশ্য থাকতে পারে। কিন্তু, তার অর্থ এই নয়, যে কোনও সংবাদ মাধ্যম বিশেষ দলের হয়ে কাজ করবে।  কোনও নিউজ চ্যানেল কোনও নির্দিষ্ট পার্টি লাইন থ্রো করতে পারে না। ম্যানিফেস্টোর মতো কোনও নিউজ চ্যানেল নিউজ করবে এটা কাম্য নয়। নিরপেক্ষতা ও দায়বদ্ধতা সংবাদ মাধ্যমের (Media) মূল ভিত্তি। এখানে আপোস করা যায় না। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই বাংলায় এল টিভি নাইন। স্বভাবতই অনেক প্রশ্ন সামনে আসছে। আদৌ নিরপেক্ষ থাকবে কি না? কোন দলের হয়ে কাজ করবে এই চ্যানেল? এমন নানা রকম প্রশ্ন উঠছে মানুষের মনে। কিন্তু, আমরা কোনও ফুলের দিকে যাব না। নির্ভুল, নির্ভীক, খবর পরিবেশনই আমাদের লক্ষ্য।

নিরপেক্ষতার দোসর স্বরূপ যে বিষয়টি মুখ্য হয়ে ওঠে তা হল মিডিয়া ট্রায়াল। আমরা অন্তর থেকে চাই সংবাদ মাধ্যম নিরপেক্ষ থাকুক। মিডিয়া সেই নিরপেক্ষতা ধারণ করতে সক্ষম নয়। মিডিয়া ট্রায়ালের দৌলতে নিরপেক্ষতা একটা ইউটোপিয়া হয়ে গিয়েছে। এমনটাই পর্যবেক্ষণ গৌতম ঘোষের

 

আঙুলে গোনা যায় কটা চ্যানেল ও প্রিন্ট মিডিয়ার মেরুদণ্ড আছে। মালিকের উপর মালিক এসে যাচ্ছে। তাদের দাপটে সংবাদ মাধ্যমের মেরুদণ্ড বিকিয়ে গিয়েছে। মেরুদণ্ডহীন সংবাদ মাধ্যম কতটা বিশ্বাসযোগ্য? প্রশ্ন তুলেছেন প্রসার ভারতীর প্রাক্তন সিইও জহর সরকার

টিভি নাইন নেটওয়ার্কের সুদীর্ঘ ১৫ বছরের যাত্রায় নিরপেক্ষতাই মূলমন্ত্র…

গৌতম ঘোষ ও জহর সরকারের প্রশ্নের উত্তরে  বরুণ দাস বলেন,  ভারতের গণতন্ত্র পরিণত। মানুষ নিজের ভালমন্দ বোঝে। একই কথা বলা যায়, সংবাদ মাধ্যমের ক্ষেত্রেও। খবর একটা অভ্যেস। অভ্যেস বদলাতে সময় লাগে। টিভি নাইনের যাত্রা সুদীর্ঘ ১৫ বছরের। এই ১৫ বছরে টিভি নাইন একটিই বিশেষ পন্থা গ্রহণ করেছে। নিরপেক্ষতা ও দায়বদ্ধতাই এর ভিত্তি। তাই আজ, টিভি নাইন শুধু ব্যতিক্রম নয়, দেশের এক নম্বর নিউজ নেটওয়ার্ক।

 

প্রসঙ্গ : মিডিয়া ট্রায়াল ও নৈতিক আদর্শ

 

মানুষ আজকাল নীতি, আইন ও আদালতের উপর আস্থা হারিয়েছে। কোনও এক অভিনেতার মৃত্যুতে গোটা দেশে এক উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হল, কিছুদিন পর তা মিলিয়ে গেল। ক্ষতি যা হল তা অভিনেতার। সেই কথাটা কেউ ভাবল না। একপক্ষের কথাই কেবল রসিয়ে কষিয়ে লিখলে কি টিআরপি বাড়ে ! প্রশ্ন অভিনেত্রী সাংসদ নুসরত জাহানের

সংবাদ মাধ্যমে অনেকেই আসেন প্রশ্ন নিয়ে। তাঁরা ভাবতে চান, প্রশ্ন করতে চান। নৈতিকতাই তাঁদের মূলমন্ত্র। সেখানে কর্পোরেট হাউজগুলিতে মিডিয়া ট্রায়ালের দৌলতে অনেক প্রশ্নই ধামাচাপা পড়ে যায়। হাউজ পলিসির চক্করে নৈতিকতাকে ধ্বংস করা হয়। সেই মানুষরা কীভাবে মেনে নেবেন এই পেশাকে? আর তাঁরাই যদি মানতে না পারেন তাহলে সাধারণ মানুষের কাছেই বা কী বার্তা যাবে? নৈতিকতার তিরে সংবাদ মাধ্যমকে বিঁধলেন জহর সরকার

প্রশ্ন করার ক্ষমতা অর্জন করতে হয়…

সংবাদ মাধ্যম যখন কাঠগড়ায়, উত্তর দিলেন সিইও বরুণ দাস :  ‘সবাই তো আইনজীবী আর বিচারপতি হয়ে গিয়েছে। তাহলে আদালতের আর দরকার কী!’ সম্প্রতি, এই প্রশ্ন রেখেছিল বম্বে হাইকোর্ট। আমাদের কাছে এ এক লজ্জার দিন। আসলে, আমাদের বুঝতে হবে, সংবাদ মাধ্যম আমাদের প্রশ্ন করার ক্ষমতা দেয়। কিন্তু সেই ক্ষমতা আসলে অর্জন করতে হয়। এই ক্ষমতা অর্জন করতে আমাদের নিরপেক্ষ হতে হবে। আরও স্পট ফ্রি হতে হবে। তবেই লোকে আমাদের কথা শুনবে। আর এই প্রশ্ন করার ক্ষমতা নিয়ে যদি আমরা মিডিয়া ট্রায়াল করি, তাহলে সেটা ক্রিমিনাল অফেন্স।

কস্ট কাটিং করতে নিউজ হাউজগুলো স্টুডিয়ো ডিসকাশনে জোর দেয়।বাইরের খবর করে কম। স্টুডিয়োতে সরগরম তরজায় কেউ কোনও বেফাঁস মন্তব্য করলেই সেই মন্তব্যটি পরবর্তী কয়েকদিনের টিআরপির কাজ করে। এই পরিবেশ মিডিয়া নিজেই তৈরি করছে। এটা ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ নয়, ‘মিডিয়া তামাশা’ হয়ে যাচ্ছে। দাবি, বিজেপি সাংসদ স্বপন দাশগুপ্তের

মিডিয়া বসে থাকতে চায় না। মানুষ সবসময় নতুন স্টোরি খোঁজে। মিডিয়া তাই নতুন দ্বন্দ্ব তৈরি করে। ১০ দিনের বেশি একটা স্টোরি মিডিয়াতে থাকে না। কিন্তু, প্রশ্ন হল এই ট্রায়াল কতটা স্বাস্থ্যকর? মিডিয়ার ধারাবাহিকতাকে প্রশ্ন করলেন গৌতম ঘোষ

জার্নালিজম অ্যাক্টিভিজম নয়…

প্রশ্নের উত্তরে সিইও বরুণ দাস জানান, যদি ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া না থাকে তবে তা গণতন্ত্রের জন্য একটা বড় ঝুঁকি। যেমন জেসিকা লাল মার্ডার কেস বা প্রিয়দর্শিনী মাট্টু মামলা মিডিয়ার জন্যই সামনে এসেছিল। সাম্প্রতিক কালের দিল্লি ধর্ষণ কাণ্ডের পরই সুপ্রিম কোর্ট বিশাখা গাইডলাইন নিয়ে আসে। এ সবই কিন্তু মিডিয়ার জন্য। আমজনতার মিডিয়ার উপর শ্রদ্ধা বেড়েছে। তৈরি হয়েছে আস্থা। সব সময় মনে রাখতে হবে জার্নালিজম অ্যাক্টিভিজম নয়। আমরা কি খবরের জন্য লোকের বেডরুমে ঢুকতে পারি? কীভাবে প্রশ্ন করতে হবে, কী কী প্রশ্ন করা যাবে এসব নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা প্রয়োজন। নিজেদের প্রশ্ন করার পরিধি কতটা তা বুঝতে হবে।

 

প্রসঙ্গ : ফেক নিউজ ও সোশ্যাল মিডিয়া

মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করতে ফেক নিউজের বাড়বাড়ন্ত। আর মেইন স্ট্রিম মিডিয়ার হাতে ক্ষমতা থাকা সত্বেও তারা হোয়াটস্যাপ ইউনিভার্সিটির উপর নির্ভর করে। সঠিক তথ্য বের করে আনে না। অভিযোগ সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিমের

নির্বাচনের সময়ে ফেক নিউজ বাড়তে থাকে। ফেক নিউজ কন্ট্রোল করতে পারে না মিডিয়া। এ ক্ষেত্রে, চ্যানেলের একটা সেলফ সেন্সরশিপ থাকা উচিত। জানালেন গৌতম ঘোষ।

 

ফেক নিউজে রাশ টানতে ভয় ও ভক্তিই সম্বল… 

ফেক নিউজ প্রসঙ্গে সিইও বরুণ দাস জানালেন, ফেক নিউজ আজকের ঘটনা নয়। মহাভারতেই সেই ‘অশ্বত্থামা হত ইতি গজঃ’-র কথা নিশ্চই মনে আছে। ফেক নিউজের ব্যাপারটাও  খানিকটা তেমন। প্রিন্ট মিডিয়ায় তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ থাকত। টেলিভিশন আসার পর রিপোর্টাররা ফিল্ডে থেকে কাজ করতে শুরু করে। নিউজরুমের বা স্টুডিয়ো ডিসকাশনের প্রোগ্রামে কিছুটা নজর রাখা সম্ভব হলেও ফিল্ডে সবসময় নজর রাখা সম্ভব নয়। আর ডিজিটাল এখনও অনিয়ন্ত্রিত। কারণ, খবরের সংখ্যা প্রায় শতাধিক। তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ থাকে না। সহজেই তাই ফেক নিউজ তৈরি হয়।

ফেক নিউজ তৈরি করতে সবচেয়ে বেশি কাজ করে ওয়েস্টার্ন মিডিয়া। একটা অ্যান্টি নেশন ক্যাম্পিং-এর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া ক্রমাগত ছড়াতে শুরু করে। খারাপ লাগে, যখন দেখা যায় আমাদেরই দেশের কিছু বুদ্ধিজীবী সেই ফেক ভিডিয়ো নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেন। এখন আর ব্রেকিং নিউজ হয় না। কারণ, ব্রেকিং হওয়ার আগেই তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও কন্ট্রোল আমাদের নেই। সে ক্ষেত্রে, আমরা কিছু কোম্পানি পলিসি তৈরি করি। সহজে বলা যায়, ভয় ও ভক্তি। দেশের এক নম্বর নিউজ নেটওয়ার্ক হওয়ার সুবাদে একটা সেন্টিমেন্ট কাজ করে। কিছুক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়। অর্থাৎ, কিছু ভুলের ক্ষমা নেই। সে ক্ষেত্রে, কর্মীর চাকরিও যেতে পারে। এইভাবে কিছুটা আটকানো যায় ফেক নিউজের বাড়বাড়ন্ত।

 

বাংলা চিরকালই ‘বুদ্ধিজীবীর রাজধানী’ হিসেবে সুপরিচিত। ‘হোয়াট বেঙ্গল থিংকস টুডে, ইন্ডিয়া থিংকস টুমরো’ এই ধারণাটাই এখন অবলুপ্তির পথে। সেই ধারণার সূচককে ফিরিয়ে আনতেই  টিভি নাইন বাংলার যাত্রা শুরু। কালের গর্ভ থেকে বাংলার পুনরুত্থান হোক। আশাবাদী টিভি নাইন বাংলা।

 

 

 

 

 

 

 

 

Latest News Updates

Follow us on

Related Stories

Most Read Stories

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla