বাংলার ৩ বিস্ময় বালক! নাসাকে দিশা দেখাল শিলিগুড়ির এই কিশোরেরা

এমন একটি গ্রহাণুর খোঁজ শিলিগুড়ির ওই তিন কিশোর দিতে পেরেছে যার খোঁজ আগে কখনও পাওয়া যায়নি। 2020JK2 হিসেবে আপাতত এর নামকরণ করা হয়েছে।

বাংলার ৩ বিস্ময় বালক! নাসাকে দিশা দেখাল শিলিগুড়ির এই কিশোরেরা
অলংকরণ- অভীক দেবনাথ

শিলিগুড়ি: মহাকাশের অজানা দুনিয়ায় ডুব দেওয়ার অদম্য ইচ্ছে থাকে প্রায় প্রত্যেক শিশু-কিশোরের মনেই। কিন্তু খুব কম কচিকাচার সেই স্বপ্ন সাকার হয়। তবে এই বাংলায় তিন কিশোর এমন কাজ করে দেখিয়েছে যা শুধু রাজ্যে নয়, অচিরেই গোটা দেশের জন্য গর্বের পালক হয়ে উঠতে চলেছে।

সূর্যকে কেন্দ্র করেই সৌরজগতে নানা গ্রহ-নক্ষত্রদের আনাগোনা। সেরকমই মঙ্গল ও বৃহস্পতির মধ্যে একটি গ্রহাণুপুঞ্জের বেল্ট রয়েছে। যেখানে অসংখ্য গ্রহ অনর্গল ঘুরে বেড়াচ্ছে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই অজানা তালিকায়। ছোট থেকে বড়, সব আকারের গ্রহদের এই সমষ্টিকে ইংরেজিতে বলা হয় অ্যাসট্রয়েডস (Asteroid)। অজানা সেই অ্যাসট্রয়েডসদের চিনে নেওয়ার অনবরত চেষ্টা চালাচ্ছে নাসা (NASA)। অজানাকে জেনে নেওয়ার আগ্রহেই মহাকাশ গবেষণা সংস্থার উদ্যোগে গত বছর থেকে একটি প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

‘প্যান-স্টারস’ নামে একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির টেলিস্কোপ রয়েছে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে। সেই টেলিস্কোপটি ২৪ ঘণ্টা ৩৬৫ দিন মহাকাশের নানা ছবি তোলার পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহ করে চলেছে। সেই তথ্যগুলি নিয়ে গবেষণা করার জন্য গত বছর প্রচুর স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্য নেয় নাসা। সেখানেই শিলিগুড়ির স্কাই ওয়াচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ বেঙ্গলের (SWAN) কয়েকজন কিশোর আবেদন করে। আবেদন গৃহীত হওয়ার পর থেকে মহাকাশের ঢালাও তথ্য ও ছবি আসতে শুরু করে তাঁদের কাছে। শুরু হয় সেই তথ্যগুলি নিয়ে গবেষণার কাজ।

আরও পড়ুন: বেহালায় শোভন-বৈশাখীর রোড শো, পালটা মিছিলে ‘নবদম্পতি’ খোঁচা রত্নার

সময় এগিয়ে চলে, ধীরে ধীরে বেশ কিছু অজানা গ্রহাণুর খোঁজ পাওয়া যায়। সেগুলি আদৌ অনাবিষ্কৃত কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য গবেষণার বিশদ তথ্য পাঠানো হয় নাসায়। এবার আরেক দফা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে নাসা। অবশেষে জানানো হয়, এমন একটি গ্রহাণুর খোঁজ শিলিগুড়ির ওই তিন কিশোর দিতে পেরেছে যার খোঁজ আগে কখনও পাওয়া যায়নি। 2020JK2 হিসেবে আপাতত এর নামকরণ করা হয়েছে।

তির দিয়ে চিহ্নিত ওই বেল্টেই নতুন গ্রহাণুর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে

এবার 2020JK2 নিয়ে আরেকপ্রস্থ গবেষণা ও অধ্যয়নের পালা শুরু হবে। তা একবার শেষ হলে সম্ভবত SWAN-কেই দায়িত্ব নেওয়া হবে এই গ্রহাণুর নামকরণ করার। নাসার প্রটোকল মেনে ওই গ্রহাণুর যে নাম দেওয়া হবে, চিরন্তনভাবে সেই নামেই চিহ্নিত হবে তা।

নাসার দেওয়া শংসাপত্র

এই আবিষ্কারের নেপথ্যে রয়েছে প্রত্যয় চৌধুরী-সহ SWAN-এর আরও দুই কিশোর। তাঁদের নাম পৃথ্বীরাজ দত্ত ও সাত্ত্বিক ভৌমিক। তবে প্রত্যয় একা এর কৃতিত্ব নিতে নারাজ। প্রত্যয়ের কথায়, “যা হয়েছে পুরো টিমের মিলিত প্রয়াসেই হয়েছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করব এই ধরনের কাজে আরও এগিয়ে আসুন ও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকুন। আন্তরিক ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার কোনও বিকল্প নেই।”

আরও পড়ুন: ‘দেউলিয়া তৃণমূলের জুতোর মালা আমাদের জন্য আশীর্বাদ’, সুর চড়ছে রাজীবের