Homemade Plane: ১৮ মাস ধরে নিজেই বানালেন প্লেন, সপরিবারে ইউরোপ ভ্রমণে কেরলের ইঞ্জিনিয়ার!

Kerala Engineer built his own plane: নিজের বিমান নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ ঘুরে বেড়াবেন, এমন স্বপ্ন দেখা লোক কমই আছেন। আর সেই বিমান নিজে বানাবেন, এমন স্বপ্ন দেখা ব্যক্তি বোধহয় বিরলের মধ্যে বিরল।

Homemade Plane: ১৮ মাস ধরে নিজেই বানালেন প্লেন, সপরিবারে ইউরোপ ভ্রমণে কেরলের ইঞ্জিনিয়ার!
কেরলের এই ইঞ্জিনিয়ারের গ্যারাজে জ্বলজ্বল করছে চার আসনের বিমান, যা তাঁর নিজের তৈরি
Follow Us:
| Edited By: | Updated on: Jul 27, 2022 | 9:10 AM

লন্ডন: ইউরোপ ভ্রমণের শখ অনেকেরই থাকে। নিজেদের গাড়ি চালিয়ে ইউরোপের এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাবেন, এমন শখও কারোর কারোর থাকে। তবে, নিজের বিমান নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ ঘুরে বেড়াবেন, এমন স্বপ্ন দেখা লোক কমই আছেন। আর সেই বিমান যদি নিজের বানানো হয়? এমন ব্যক্তি বধহয় বিরলের মধ্যে বিরল। সেরকমই একজন হলেন অশোক আলিসেরিল থামারক্ষণ। আদতে কেরলের আলাপুঝার বাসিন্দা। বাবা প্রাক্তন বিধায়ক, এভি থামারক্ষণ। গত কয়েক বছর ধরে অশোক পাকাপাকিভাবে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাস করছেন। বর্তমানে কেরলের এই ব্যক্তিটি, নিজের তৈরি করা চার আসনের বিমানে করে সপরিবারে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন!

৩৮ বছরের অশোক থামারক্ষণ পেশায় একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। ২০০৬ সালেই তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন। বর্তমানে স্ত্রী অভিলাশাকে নিয়ে তিনি লন্ডনেই থাকেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী সম্প্রতি অশোক একটি চার আসন বিশিষ্ট বিমান তৈরি করেছেন। আর এই ঘরে তৈরি বিমানেই এখন স্ত্রী এবং দুই মেয়েকে নিয়ে ইউকে এবং ইউরোপ জুড়ে ভ্রমণে যাচ্ছেন। বিমানটি তৈরি করতে ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ১.৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আর সময় লেগেছে প্রায় ১৮ মাস। এমনিতে এই কাজ অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। তবে, কোভিড-১৯ মহামারি ঠেকাতে লকডাউন জারি করার ফলে, এই কাজটি করার জন্য প্রচুর সময় পেয়েছিলেন অশোক।

দ্য সান পত্রিকাকে তাঁর স্ত্রী অভিলাশা বলেছেন, “প্রথম লকডাউনের সময় থেকেই আমরা এর জন্য অর্থ সঞ্চয় করা শুরু করেছিলাম। বরাবরই আমরা চাইতাম যে নিজেদের একটা প্লেন হোক। লকডাউনের প্রথম কয়েক মাসে আমরা প্রচুর অর্থ সঞ্চয় করতে পেরেছিলাম। তাই, এই কাজে এগোতে ভরসা পেয়েছিলাম।” চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিমানটি তৈরির কাজ শেষ হযেছিল। তারপর থেকে নিজে হাতে তৈরি বিমানে করে তিনি ইতিমধ্যেই সপরিবারে জার্মানি, অস্ট্রিয়া এবং চেক রিপাবলিক ঘুরে এসেছেন। ছোট মেয়ে দিয়ার নামানুসারে অশোক বিমানটির নাম রেখেছেন ‘জি-দিয়া’। তিনি জানিয়েছেন বাড়িতে তৈরি বিমানে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে ভ্রমণ করার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হয় না।

ইতিমধ্যেই জার্মানি, অস্ট্রিয়া এবং চেক রিপাবলিক ঘোরা হয়ে গিয়েছে

কিন্তু, নিজে হাতে একটি আস্ত বিমান তৈরির পরিকল্পনা মাথায় এল কীকরে? অশোক থামারক্ষন বলেছেন, “২০১৮ সালে আমি পাইলট লাইসেন্স পেয়েছিলাম। প্রথম দিকে, আমি ভ্রমণের জন্য ছোট দুই-সিটের বিমান ভাড়া করতাম। কিন্তু পরিবার বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই আসনের বিমানে আর কাজ হচ্ছিল না। বুঝেছিলাম, পরিবারকে নিয়ে ভ্রমণে যেতে গেলে একটা চার আসনের বিমান প্রয়োজন। কিন্তু এই ধরনের বিমান খুবই বিরল। তাই, নিজেই একটি এই ধরনের বিমান তৈরি কথা মাথায় আসে।”

অশোক আরও জানিয়েছেন, খোঁজ নিয়ে জেনেছিলেন, জোহানেসবার্গের একটি সংস্থা একটি নতুন ছোট আকারের বিমান বাজারে এনেছে। তাদের কারখানা পরিদর্শন করতে চলে গিয়েছিলেন অশোক থামারক্ষন। তারপর ওই সংস্থাকে কাছে তাঁর নিজস্ব বিমান তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণের বরাত দিয়েছিলেন। সেই কিট আসতেই লেগে পড়েছিলেন বিমান তৈরিতে। আর এখন, সকলের গ্যারাজে যখন নামি-দামি গাড়ি, অশোক থামারক্ষনের গ্যারাজে জ্বলজ্বল করে একটি চার আসনের বিমান!