
ওয়াশিংটন: আমেরিকায় চলছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। তারই মধ্যে ইজরায়েলকে আর্থিক সাহায্য বন্ধ নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৭ সাল থেকে ইজরায়েলকে প্রতি বছর ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক সাহায্য দেওয়া বন্ধ করার কথা জানালেন তিনি। তবে অনুদানভিত্তিক আর্থিক সহায়তা বন্ধ হলেও মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের এই মিত্র দেশকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি চালিয়ে যাবে আমেরিকা।
এই নীতিগত পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমেরিকার আর্থিক সাহায্য ছাড়াই নিজেদের অর্থনীতি ও সামরিক শক্তি সামলানোর মতো যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে ইজরায়েলের। তাই বিপুল পরিমাণ এই আর্থিক সহায়তার আর প্রয়োজন নেই বলেই মনে করেন তিনি। সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, বিষয়টি প্রথমে তাঁর নজরে এনেছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। গত দু’বছর ধরে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ-
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, ইজরায়েলকে সামরিক সাহায্য দেওয়া নিয়ে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে এই বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মিশিগান থেকে সেনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৌড়ে থাকা আবদুল এল-সায়েদ। সামরিক সাহায্যের ধরন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, এই সহায়তাকে নগদ অর্থ কিংবা সরাসরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ—দুই ভাবেই দেখা যেতে পারে।
ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, “আপনারা এটাকে পণ্য বিনিময় হিসেবে দেখতে পারেন। সামরিক সাহায্য কিংবা নগদ অর্থ হিসেবেও বিবেচনা করতে পারেন। দেখুন, আমরা ওদের ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সরঞ্জাম ও অর্থ দিই। কিন্তু ওদের আর সেটার প্রয়োজন নেই। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিজেই আমার সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছিলেন। গত দু’বছর ধরে আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি। কারণ, এই অঙ্কটা অনেক বড়।” ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
গত কয়েক বছরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় বিপুল অর্থ খরচ আমেরিকার-
আমেরিকার এই ঘোষণার আগে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক খাতে বিপুল অর্থ খরচ করেছে ওয়াশিংটন। এপি-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর প্রকাশিত একটি অ্যাকাডেমিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইজরায়েলকে অন্তত ২১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে।
এ ছাড়াও ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াটসন স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের অধীন ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রকল্পের একটি স্বাধীন গবেষণায় উঠে এসেছে, একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত সামরিক অভিযান এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহায়তার জন্য আমেরিকা অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করেছে।