পাশে নেই গুরুং, চার বছর পর পাহাড়ে দিলীপ, চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ

বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Elections 2021) সামনে রেখেই পাহাড়ে ঘুঁটি সাজাচ্ছে পদ্ম শিবির। ফের পাহাড়ে যাচ্ছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।

  • TV9 Bangla
  • Published On - 9:13 AM, 23 Feb 2021
পাশে নেই গুরুং, চার বছর পর পাহাড়ে দিলীপ, চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
আজ পাহাড়ে দিলীপ

শিলিগুড়ি: ২০১৭’র পর ২০২১। ফের পাহাড়ে যাচ্ছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। সে বছর পাহাড়ে গোলমালের পর দার্জিলিঙে গিয়েছিলেন তিনি। সেসময় তাঁকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল। মাঝের এ কয়েক বছরে বদলে গিয়েছে পাহাড়ের অনেক সমীকরণ। বদলেছে এবার দিলীপ ঘোষের পাহাড় যাত্রার উদ্দেশ্যও। পাহাড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে  বিজেপির (BJP) পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করতে যাচ্ছেন তিনি। লক্ষ্যণীয়ভাবে গুরুং ছাড়াই পাহাড়ে সভা বিজেপির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যা গেরুয়া শিবিরের কাছে যথেষ্টই চ্যালেঞ্জের।

বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Elections 2021) সামনে রেখেই পাহাড়ে ঘুঁটি সাজাচ্ছে পদ্ম শিবির। আজ কার্যত তারই সূচনা। গুরুংহীন বিজেপির সভার দিকে তাকিয়ে গোটা পাহাড়।  কারণ রাজনৈতিক ভার্টিক্যাল ট্রেন্ডিংয়ের মত বদলের খেলায় গুরুং এবার দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার বার্তা। মঙ্গলবার সকালেই পাহাড়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন দিলীপ। সঙ্গে রয়েছেন অর্জুন সিংও। পরিবর্তন যাত্রার উদ্বোধন করবেন তিনি।

এ দিন বাগডোগরা বিমানবন্দরে দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। অভিষেকের স্ত্রীকে সিবিআই-এর নোটিস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কয়লা কাণ্ডে ভাইপোর স্ত্রী এবং শ্যালিকার কাছে নোটিস গিয়েছে। আরও বেশ কিছু নোটিস গিয়েছে ববি হাকিমের মেয়ের কাছে। তারা তদন্তে সহযোগিতা করুক। তদন্ত করতে হবে। কান টানলে মাথাও আসতে পারে। দেখা যাক।”

অন্যদিকে ২০১৭ সালে দার্জিলিঙের সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে শোনা যায় দিলীপ ঘোষকে। তিনি নিজেই বলেন, ” আবার পাহাড়ে যাচ্ছি। পরিবর্তনের কথা বলতে যাচ্ছি। আমি একমাত্র রাজনৈতিক নেতা সেই সময় পাহাড়ে গিয়েছিলাম। আবারও যাচ্ছি। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। মানুষের দাবি-দাওয়া শুনি। মানুষের কথা শুনি। মানুষের যে সব অভিযোগ রয়েছে সেসব শুনি। কিন্তু সেই সময় তৃণমূল উস্কে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছিল।”

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে দার্জিলিঙে গিয়ে একপ্রকার নিগৃহীত হতে হয়েছিল দিলীপ ঘোষকে। সে বছর ৪ অক্টোবর প্রথম দিনই লাঞ্ছিত হয় তাঁকে। ৫ অক্টোবর আরও বেশি ‘হামলা’ হয়।  সেসময় বাকি বিজেপি নেতাদের কার্যত মারধর করা হয়। দিলীপকে বাদ দিয়ে বাকিদের ভর্তি করতে হয় হাসপাতালে। কিন্তু সে সময় পাশে ছিলেন বিমল গুরুং। অভিযোগ ওঠে বিনয় তামাং গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। সেসময় দার্জিলিঙ উত্তপ্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে বিমল গুরুঙের। এরপর পুলিশ কর্মীর মৃত্যুর পর প্রায় সাড়ে তিন বছর অন্তরালে চলে যান বিমল গুরুং। প্রত্যাবর্তনের পর মমতার পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: মাদক-কাণ্ডে বিজেপি নেতা রাকেশ সিংকে তলব লালবাজারের

দিলীপ ঘোষ এবারের সফরের আগে বলেছেন, “পরিস্থিতি বদলেছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আক্ষরিক অর্থেই পরিস্থিতি বদলেছে। পাহাড়ে বেশ ভালো ভাবেই মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বিজেপি। আগামী সপ্তাহেই লাগু হতে পারে নির্বাচন বিধি। এবারের পাহাড়ের প্রধান দুটি ইস্যু হচ্ছে ১১ জনজাতি গোষ্ঠীর তফসিলি উপজাতির স্বীকৃতি এবং পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান ইস্যু। এক্ষেত্রে কেন্দ্র একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এবারের নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে কেন্দ্র কোনও সিদ্ধান্ত নেয় কিনা, সেটাই দেখার। আপাতত পাহাড়ে চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।