জন্ডিসের লক্ষণ দেখলে হেলাফেলা নয়! এই ৫ ঘরোয়া টোটকায় দ্রুত সারবে লিভারের রোগ

শুধু প্রাপ্তবয়স্কদেরই নয়, সদ্যোজাতদের মধ্যেও জন্ডিসের প্রবণতা দেখা যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে জন্ডিস দেখা যায় ।

জন্ডিসের লক্ষণ দেখলে হেলাফেলা নয়! এই ৫ ঘরোয়া টোটকায় দ্রুত সারবে লিভারের রোগ
ছবিটি প্রতীকী

সারা বিশ্বে প্রতিবছর জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। লিভার বা যকৃত্ দেহের বিপাকতন্ত্রের মূল অঙ্গ। শরীরের বিভিন্ন কাজে ভূমিকা পালন করে। লিভারের যে সমস্ত রোগগুলি দেখা যায়, সেগুলির মধ্যে খুব চেনা রোগ হল জন্ডিস বা ভাইরাল হেপাটাইটিস।

লিভারের সমস্যা কোনও রোগ নয়, রোগের লক্ষণ মাত্র। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারে লিভারের সমস্যা বেশি মাত্রায় দেখা যায়। অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়া, মদ্যপান করা, জাঙ্ক ফুডের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক তৈলাক্ত ও মশলাদার খাবারের পাশাপাশি অনিদ্রা, আতঙ্ক, মাত্রারিক্ত স্ট্রেস, উদ্বেগের কারণে লিভারের একিউট হেপাটাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তবে শুধু প্রাপ্তবয়স্কদেরই নয়, সদ্যোজাতদের মধ্যেও জন্ডিসের প্রবণতা দেখা যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে জন্ডিস দেখা যায় । এক্ষেত্রে জন্মের পরই শিশুর জন্ডিস রয়েছে কিনা তা পর্যবেক্ষন করা হয়।

জন্ডিস হলে রক্ত ও লিভারের পেশির টিস্যুগুলির উপর দারুণ প্রভাব পড়ে। ফলস্বরূপ, রক্তের মধ্য বিলির মাত্রা বেড়ে গেলে চোখ ও ত্বক হলুদ বর্ণের আকার ধারণ করে। তবে ঘরোয়া টোটকায় এই মারাত্মক রোগ থেকে মুক্তি পারেন

সদ্যোজাতকে বারে বারে স্তন্যপান করান

শিশুর রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে তাকে বারে বারে স্তন্যপান করান। সদ্যোজাতের ক্ষেত্রে এটাই মোক্ষম দাওয়াই। আর যদি ব্রেস্টফিড না করানো যায়, তাহলে ২ চামচ ফরমুলা দুধ গুলে সময়মতো বারে বারে খাওয়ানো উচিত।

আরও পড়ুন: হেঁসেলেই রয়েছে মৃত্যুফাঁদ! এই ৪ খাবার খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে

সূর্যের রশ্মি-

প্রাকৃতিক সূ্যের আলোয় কিছুক্ষণ থাকলে জন্ডিস রোগ অনেকটা নিরাময় হয়। একে সাধারণত বিলি-ব্ল্যাঙ্কেট বলে। চড়া রোদে নয়, সকালের দিকে মিঠের রোদ অনেক উপকারী। শিশুর জন্য সূর্যের তাপ অনেক বেশি কার্যকরী। এক থেকে দু ঘণ্টা রোগে রাখলে শিশুর ত্বকের উন্নতি হয়। শিশুর ক্ষেত্রে এই বিষয়ে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করুন। প্রাপ্ত বয়স্করা অবশ্যই সানস্ত্রিন ক্রিম মেখেই রোদের মধ্যে থাকতে পারেন।

গাজর ও পালং শাকের জুস

কুচি কুচি করে কাটা গাজ ও কিছু পালংশাকের পাতা দিয়ে নিভরে বা ব্লেন্ড করে জুস বানাতে পারেন। একসঙ্গে দুই উপাদান ব্লেন্ড করে নিয়মিত পান করতে পারেন। শিশুর ক্ষেত্রে কয়েকফোঁটা এই জুস মুখে দিতে পারেন। জন্ডিসের জন্য এই ঘরোয়া টোটকা অত্যন্ত উপকারী।

আখের রস

আখের রস আমাদের দেশে জন্ডিসের একটি বহুল প্রচলিত ওষুধ। অথচ সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে রাস্তার পাশের যে দুষিত জলের মধ্যে আখ ভিজিয়ে রাখা হয় সেই জল থেকেই অনেক সময় আখের রসে এবং তারপর ঐ রস থেকে হেপাটাইটিস এ বা ই ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। বাড়িতেই আখের রস বানিয়ে নিয়মিত খেতে পারেন।

টমেটোর রস

টমেটোর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লাইকোপেন, যা রক্তের মান ও বিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে। সকালে উঠে এক গ্লাস টমেটোর জুস খাওয়ার অভ্যেস হলে লিভারের স্বাস্থ্য ভাল থাকে। জন্ডিস হলে সেই রোগও নিরাময় হয়ে যায়।

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla