বর্ষায় থাবা বসাতে পারে ডায়েরিয়া! কী কী করবেন আর করবেন না, জানুন

দোরগোড়ায় বর্ষা। করোনাভাইরাস অতিমারি পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি ছত্রাক সক্রিয় হয়ে ওঠায় অবস্থা জটিল হয়ে গিয়েছে। সাবধানতার কোনও বিকল্প নেই।

বর্ষায় থাবা বসাতে পারে ডায়েরিয়া! কী কী করবেন আর করবেন না, জানুন
ছবিটি প্রতীকী

বর্ষা আসতে না আসতেই শহর ও শহরাঞ্চলে ডেঙ্গি, ডায়েরিয়ার প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। আর্দ্র জলবায়ুতে জীবাণুরা বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। আর এই ব্যাকটেরিয়াগুলিই জল বা খাবারের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করলে ডায়েরিয়া-সহ অন্যান্য সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ডায়েরিয়া দুরকমের। অ্যাকিউট ডায়েরিয়া, যা এক বা দুদিন ধরে জলের মতো মল নির্গত হতে থাকে। সাধারণত এমন ডায়েরিয়াতেই মানুষে বেশি আক্রান্ত হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে অর্থাত ৩-৪ সপ্তাহ ধরে জলের মতো পায়খানা  হলে তাকে ক্রনিক ডায়েরিয়া বলা হয়ে থাকে। ক্রনিক ডায়েরিয়া হলে বুঝতে হবে, এমন কিছু খেয়েছেন, যার কারণে শরীরের জটিল সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে যে কোনও ধরনের ডায়েরিয়াই হোক না কেন, ঘরোয়া উপায়ে এই রোগের উপশম করা যেতে পারে…

পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খান

ডায়েরিয়া হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাওয়া। কারণ, ডায়েরিয়ায় আক্রান্তের শরীর থেকে মলের সঙ্গে অনবরত জল বের হতে থাকে। তাতে পর্যাপ্ত জল না খেলে ডিহাইড্রেশন হয়ে যেতে পারে। এই সময় স্পোর্টস পানীয় বা ফোটানো জল খেলে পেটের পক্ষে আরামদায়ক। ডায়েরিয়ায় অসুস্থ হলে অ্যালকোহল, সফট ড্রিংকস, ক্যাফেইন, প্রচুর চিনি দেওয়া জল না খাওয়াই উচিত।

ডায়েটের উপর নজর রাখুন

ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে সাধারণ খাবার দেওয়া প্রয়োজন। যাতে এনার্জি ও ইমিউনিটি বৃদ্ধি হয়। মশালাদার খাবার, বার্গার, ট্যাকোসের মতো খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল। কারণ এইগুলি খেলে পেটের সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। এই সময় BRATডায়েট করতে পারেন । পেট ঠান্ডা ও ভাল রাখতে কলা, ভাত, অ্যাপেলসস আর টোস্ট খেতে পারেন। সাধারণ ও হালকা খাবার খেলে হজমের ক্ষেত্রে উপকারী। এই বিশেষ ডায়েটে আলু সেদ্ধ, বেকড চিকেন (চিকেনের উপরিভাগে ত্বক বাদ দেওয়া উচিত), ওটমিল ও চিকেন স্যুপ খেতে পারেন।

আরও পড়ুন: প্রেগন্যান্সির সময়ে রসুন খাচ্ছেন? এখনই সাবধান হোন

প্রোবায়োটিক

পেটের মধ্যে বাজে ও ভাল দুধরণেরই ব্যকটেরিয়া থাকে। ডায়েরিয়ার সময় পেট সুস্থ রাখতে প্রোবায়োটিক খাবার কাওয়া অত্যন্ত জরুরি। ফলে পেটের মধ্যে আরও ভাল ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশ ঘটতে পারে। ডার্ক চকোলেট, পুরনো ননরম চিজ, পনির, গ্রিন অলিভস, আচার, দই, আটার রুটি খেলে শরীরের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভাল ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে। তাতে দ্রুত পেটের সমস্যা দূর হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রোবায়োটিকের পিল বা পাউডারও খেতে পারেন ।

কোন কোন খাবার একেবারেই খাওয়া উচিত নয়

ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের যেমন অ্যালকোহল খাওয়া একেবারেই উচিত নয়, তেমন কিছু কিছু সবজি বা ফল রয়েছে, যা খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। ফাইবার-যুক্ত সবজি বা ফল এড়িয়ে যাওয়া উচিত। কৃত্রিম মিষ্টিজাতীয় খাবার, ফুলকপি, ব্রোকোলি, বেরিজ, বাংদাকপি, ভুট্টা, বিনস, আইসক্রিম, দুধ, সবুজ শাকসবজি, ক্যাপসিকাম, পিপার, চা- এগুলি খেলে অবস্থা আরও জটিল হয়ে যেতে পারে।

শরীরচর্চা বন্ধ রাখুন

ডায়েরিয়া হলে কখনওই শরীরচর্চা করবেন না। এই সময় যতটা সম্ভব শরীরকে রেস্ট নিতে দিন। ডায়েরিয়ার প্রাথমিক লক্ষণই হল ডিহাইড্রেশন। তাই ওয়ার্কআউট বা যোগব্যায়ামের অভ্যাস থাকলে, তা কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখুন। শরীরচর্চার ফলে শরীর থেকে ঘাম নির্গত হয়। এর জেরে শরীরে ক্লান্তিভাব, ডিহাইড্রেশন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে যায়।