Makar Sankranti : মকর সংক্রান্তিতে কাশ্মীরিদের সূর্য নমস্কারের নির্দেশ! সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপণের চেষ্টা বিজেপির!

J & K : মকর সংক্রান্তি তিথিতে জম্মু ও কাশ্মীরের কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সূর্য নমস্কারের নির্দেশ। এই নিয়ে জোর জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।

Makar Sankranti : মকর সংক্রান্তিতে কাশ্মীরিদের সূর্য নমস্কারের নির্দেশ! সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপণের চেষ্টা বিজেপির!
প্রতীকী ছবি

শ্রীনগর : জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের একটি নির্দেশিকা ঘিরে জোর জল্পনা। করতে হবে সূর্য নমস্কার! মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে জম্মু ও কাশ্মীরের উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের তরফে এইরকমই এক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সহ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সূর্য নমস্কার করতে হবে। এরকম নির্দেশিকা এই প্রথমবার দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকা ঘিরে প্রশ্ন উঠছে যে, যেখানে বেশিরভাগ মানুষই মুসলিম সম্প্রদায়ের সেখানে এইরূপ নির্দেশিকা কেন জারি করা হল। বহু মুসলিম সম্প্রদায়ের ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সূর্য নমস্কার করা সম্ভব নয় এবং এটা তাঁদের বিশ্বাসের পরিপন্থী।

জম্মু ও কাশ্মীর উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের কলেজের ডিরেক্টর নির্দেশিকায় বলেছেন, “১৪ জানুয়ারি ২০২২ এর মকর সংক্রান্তির পুণ্য তিথি উদযাপন করতে ভারত সরকার চেয়েছেন আজাদির অমৃত মহোৎসব উদযাপনের অন্তর্গত ভার্চুয়াল সূর্য নমস্কার করা হোক।” এই প্রোগ্রামের নাম দেওয়া হয়েছে “জীবনশক্তির জন্য সূর্য নমস্কার”। এই নির্দেশিকায় সূর্য নমস্কার কলেজের সব ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও করতে বলা হয়েছে। নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, “অনুগ্রহ করে নিশ্চিত করবেন যাতে সবাই সাগ্রহে এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন।” এই নির্দেশিকার নিন্দা করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এই নির্দেশকে সরকারের ‘পিআর বিভ্রান্তি’ এবং ‘সাম্প্রদায়িক মানসিকতার’ প্রতিফলন বলে তোপ দেগেছেন টুইট বার্তায়। তিনি টুইট বার্তায় বলেছেন, “ভারত সরকারের বিভ্রান্তিকর পিআর এর লক্ষ্য কাশ্মীরিদের হেয় করা এবং সম্মিলিতভাবে অপমান করা। ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করে তাঁদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে ছাত্র ও কর্মীদের সূর্য নমস্কার করতে বাধ্য করা তাঁদের সাম্প্রদায়িক মানসিকতার প্রমাণ দেয়।”

প্রাক্তন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আব্দুল্লাহও এই নির্দেশিকার ভর্ৎসনা করেছেন। তিনি টুইট বার্তায় বিজেপি সরকারকে এক হাত নেন। তিনি টুইট বার্তায় বলেছেন, “কেন মুসলিম ছাত্রদের মকর সংক্রান্তি উদযাপনের জন্য যোগব্যায়াম সহ কিছু করতে বাধ্য করা হবে? মকর সংক্রান্তি একটি উৎসব এবং এটি উদযাপন করা বা না করা অবশ্যই একটি ব্যক্তিগত পছন্দ। অমুসলিম ছাত্রদের ঈদ উদযাপন করার জন্য এই একই ধরনের আদেশ জারি হলে বিজেপি কি খুশি হবে?” অন্য এক ন্যাশনাল কনাফারেন্সের যুব নেতা উমেশ তালাশি বলেছেন, যদি আগামিকাল কোনও মুসলিম সম্প্রদায়ের মুখ্য়মন্ত্রী সবাইকে রমজানের উপবাস রাখতে বলে নির্দেশিকা জারি করলে সবার প্রতিক্রিয়া কী হবে।

উল্লেখ্য, মকর সংক্রান্তি প্রধানত একটি হিন্দুদের উৎসব। এই পুণ্য তিথিতে হিন্দুরা গঙ্গা স্নান করে সূর্য দেবতার পুজো হয়। কিন্তু আগাগোড়া হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের রেওয়াজ জোর করে মুসলিমদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তে নিন্দা কুড়িয়েছে বিজেপি প্রতিনিধিরা। অনেকেই এর পিছনে বিজেপির সাম্প্রদায়িক চিন্তাভাবনার বহিঃপ্রকাশকেই দায়ী করেছেন।

আরও পড়ুন : Punjab Assembly Election 2022 : মুখ্যমন্ত্রীর পদপ্রার্থী কে? ২৪ ঘণ্টায় মিলল প্রায় ৩ লক্ষের সাড়া! ভোটের আগেই ভোট পড়ছে আপের ঘরে

Related News

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla