Loyalty and Turncoats: বিকল্পের অভাবেরই অপর নাম আনুগত্য

Loyalty of Politicians : সচিন পাইলটের কথাই ধরুন। একেবারে অল্প বয়সেই রাজনীতির মই বেয়ে তড়তড়িয়ে উঠে এসেছেন। মন্ত্রিত্ব পেতেই বেশি দেরি হয়নি। বলা হত, কংগ্রেসের নতুন তারকা এসে গিয়েছে।

  • Publish Date - 4:48 pm, Sat, 25 September 21
Loyalty and Turncoats: বিকল্পের অভাবেরই অপর নাম আনুগত্য
জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাচনে দারুণ ফল বিজেপির। ফাইল চিত্র।

বিক্রম বোহরা: যখন আমরা বিষন্ন থাকি, শুধুমাত্র তখনই আমরা আলোর দিকে তাকিয়ে থাকি। কেন বলুন তো? কারণ সেই অলিভার টুইস্টের মতোই, আমরা আরও চাই; অথচ সামনে রাখা সুপের পাত্রটায় আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। অলিভার না হয় তাও ক্ষুধার্ত ছিলেন। কিন্তু আমাদের রাজনীতিকদের ক্ষেত্রে, গোটা বিষয়টাই নির্ভেজাল লালসা। পঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংয়ের কথাই ধরে নেওয়া যাক। এতদিন কংগ্রেসের সঙ্গে ঘর করার পর, এখন তাঁকে বিজেপি সুরসুরি দিচ্ছে। আর তিনিও বিষয়টি বেশ উপভোগ করছেন। যদি তাঁর সমস্যা শুধুমাত্র নভজ্যোৎ সিং সিধুকে নিয়েই হত, তাহলে হয়ত এমন ছবি দেখা যেত না। আর তাহলে ইস্তেহারে এমন ‘গালভরা’ কথাগুলোরই বা কী গ্রহণযোগ্যতা থাকছে! বিশেষ করে যখন বছরের পর বছর ধরে একটি ব্রান্ডকে বিক্রি করার পর, এখন তার প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রান্ডকেই আবার বিক্রি করছেন। আর তারপরেও আশা করছেন, তাঁর কথা আমজনতার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

শুধুমাত্র অমরিন্দর সিং একা নন। তালিকায় আরও রয়েছেন। সচিন পাইলটের কথাই ধরুন। একেবারে অল্প বয়সেই রাজনীতির মই বেয়ে তড়তড়িয়ে উঠে এসেছেন। মন্ত্রিত্ব পেতেই বেশি দেরি হয়নি। বলা হত, কংগ্রেসের নতুন তারকা এসে গিয়েছে। খুব কম বয়সেই অনেক বেশি সাফল্য পেয়েছেন কংগ্রেসের হাত ধরে। আর যেই মুহূর্তে অশোক গেহলটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে একটু তিক্ততা এল, তখনই সব বদলে গেল। একবারের জন্যও ভাবলেন না, দল সবসময় আগে। কংগ্রেস অতীতে তাঁকে কী কী দিয়েছে, তাও বেমালুম ভুলে গেলেন। যে মুহূর্তে তাঁরা যা চাইছেন তা পাচ্ছেন না, তখনই দলের প্রতি দৃঢ়তা এবং আনুগত্য কর্পুরের মতো উবে যায়। গুলাম নবি আজাদও দলের থেকে দূরে সরে গিয়েছেন। রাজ্যসভায় তাঁর সেই চোখের জলে বিদায়। দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বিজেপির পক্ষ থেকে গুলাব নবি আজ়াদের প্রশংসা। আর কংগ্রেস সাংসদরা এক কোনে চুপ করে বসে ছিলেন। কংগ্রেসকে দেখে মনে হচ্ছিল, কেউ যেন কেকের উপর বসে গোটা ‘পার্টি’টাই মাটি করে দিয়েছে।

এবার আসা যাক এস এম কৃষ্ণার কথায়। প্রায় ৪৬ বছর ধরে একটি দলে বসে সমস্ত রাজনৈতিক ক্ষমতা উপভোগ করার পর এস এম কৃষ্ণের মুখেও একই সুর। তিনি নাকি দলের মধ্যে একঘরে হয়ে যাচ্ছিলেন। আর তাই প্রায় অর্ধ্ব শতাব্দী একটি দলে কাটিয়ে নাটকীয়ভাবে সেই সঙ্গ ত্যাগ করেন। অথচ এই ৪৬ বছরে তিনি কতটা ক্ষমতা ভোগ করেছেন, সেটা মনে রাখলেন না।

কিন্তু এটা শুধু রাজনীতি নয়। এই ধরনের ছিটকে বেরিয়ে যাওয়াটাই যেন চল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমলাতন্ত্রের মধ্যে আমরা এমন লক্ষণ দেখতে পারি। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার পথে এবং তাদের রাজনীতিকদের আনুগত্য থাকলে সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার পথটা অনেক সহজ। আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও এমন ছবি দেখা যায়। বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মরত যাঁরা খুব দ্রুত একটি চাকরি ছেড়ে অন্য সংস্থায় গিয়ে চাকরি শুরু করে, তাদের ক্ষেত্রেও এই প্রবণতা দেখা যায়। অনেকসময়ই পদোন্নতি এবং প্রশংসার জন্য পুরানো সংস্থার ভিতরের খবর নতুন সংস্থায় চালান করতে দেখা যায়।

কর্মী থেকে শুরু করে নতুন সংস্থার আধিকারিকরা, প্রত্যেকেই নতুন মশলা পান আলোচনার জন্য। কিন্তু এসব থেকে বিরত থাকা এত কঠিন কেন? যেমন চলছে চলুক না। এই একই সিনিয়ররা জনশক্তি সম্পদ পুনর্নির্মাণ, পুনরায় ছাঁটাই, ডাউনসাইজ় করে, দ্বিগুণ করে, কর্মীদের সাময়িক ছুটিতে পাঠিয়ে নিজেদের সংস্থার কৌশল হিসাবে। আর তারপর তারা চির কৃতজ্ঞতা আশা করে যখন তারা কিছু ভাল কাজ করছে।

বিশ্বাস। আস্থা। অকৃতজ্ঞতা। রাগ। হতাশা। আঘাত। ক্ষত। ভয়। আশ্চর্যজনকভাবে একজন নিচু তলার কর্মী আর একজন উচু তলার কর্মী এই একই ধরনের অনুভূতিগুলির মধ্যে দিয়ে যান। মানবজাতির নিষ্ঠুরতা এবং এর মধ্যে থাকা দুর্বলতাগুলিকে আমরা আনুগত্য বলি। আনুগত্য বিকল্পের অভাব ছাড়া আর কিছুই নয়।

আজকাল সেই প্রথাগত নীতিবোধের বিষয়টি একেবারেই কমে যাচ্ছে। আসলে গোটা বিষয়টাই একটি বাথটবে জল ভরতি করার মতো। আপাতভাবে মনে হবে জল ভরছে, কিন্তু অচিরেই তা আবার খালি হয়ে যাবে। অর্থাৎ, পুরানো কাপড়ের মতো পুরানো মূল্যবোধগুলিও আজকের দিনে আর ফ্যাশনেবল নয়। আমরা প্রত্যেকেই এখন স্বাচ্ছন্দ্যের পিছনে ছুটছি। আমরা মনে করি, আমরা কারও উপর ঋণী নই।

রব আসগর ফোর্বসে লিখেছেন, আনুগত্য একটি অপরিহার্য গুণ বলে মনে হলেও আদতে তেমনটা নয়। একজন অনুগত ব্যক্তি নিজেকে যতই বড় সাধু বলে মনে করুন, আদতে তিনি তা নন। বাস্তবিক ক্ষেত্রে দেখতে গেলে, আনুগত্য কোনও পুণ্যও নয়, আবার কোনও দোষও নয়। এটি কেবল একটি প্রবণতা, একটি বাধ্যবাধকতা। কিন্তু বাস্তবে, এটি মানব ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ বিষয় হল এই আনুগত্য এবং উন্নয়নের পাশাপাশি আজ সাধারণ অফিসগুলির মধ্যে অনেক পচনের কারণ এই আনুগত্য।

বিশ্বস্ততা, অখণ্ডতা, ন্যায্যতা, বেঁচে থাকা এবং এই গোটা বিষয়টাই একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তির মতো অন্যান্য মূল্যবোধের একটি আনুষ্ঠানিক তকমা হল আনুগত্য। হাই টেক প্রযুক্তির যুগে আমাদের কাছে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে এই বেঁচে থাকার চাহিদা। যোগ্যতা, ফলাফল সবসময় আনুগত্যের চেয়ে আগে গুরুত্ব পাওয়া দরকার।

আর, যে ইঁদুররা জাহাজ ডুবে যাওয়ার আগে সেই জাহাজ ছেড়ে পালিয়েছিল, তারা ভালই বোঝে, কখন কোন জাহাজটি ডুবতে চলেছে।

আরও পড়ুন : Vaccine Certificate: আগামী সপ্তাহ থেকেই বদলে যাচ্ছে টিকা সার্টিফিকেট, কী কী থাকবে নয়া সার্টিফিকেটে?

Read Full Article

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla