Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

IIT-Bombay: মাছ-মাংস নিষিদ্ধ আইআইটি-বম্বের ক্যান্টিনে? কারা দিল বিভেদমূলক পোস্টার?

IIT-Bombay canteen: মেধা চর্চার এই প্রতিষ্ঠানে এবার উসকে উঠল জাতি বিদ্বেষের বিতর্ক। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে আইআইটি-বম্বের ১২ নম্বর হোস্টেলের ক্যান্টিনে সাটানো একটি পোস্টার। পোস্টারে লেখা ছিল 'শুধুমাত্র নিরামিষাশীরাই এখানে বসতে পারবে'।

IIT-Bombay: মাছ-মাংস নিষিদ্ধ আইআইটি-বম্বের ক্যান্টিনে? কারা দিল বিভেদমূলক পোস্টার?
মেধা চর্চার প্রতিষ্ঠানে উসকে উঠল জাতি বিদ্বেষের বিতর্কImage Credit source: Twitter
Follow Us:
| Edited By: | Updated on: Jul 31, 2023 | 12:04 PM

মুম্বই: বর্তমান ভারতে মানের শ্রেষ্ঠতায় ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি-বম্বের কাছাকাছি নেই একটিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মেধা চর্চার এই প্রতিষ্ঠানে এবার উসকে উঠল জাতি বিদ্বেষের বিতর্ক। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে আইআইটি-বম্বের ১২ নম্বর হোস্টেলের ক্যান্টিনে সাটানো একটি পোস্টার। পোস্টারে লেখা ছিল ‘শুধুমাত্র নিরামিষাশীরাই এখানে বসতে পারবে’। এই পোস্টারের একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তারপরই আইআইটি-বম্বের এই ঘটনা জানাজানি হয়েছে। তাহলে কি দেশের এই সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও জাত-বর্ণের ভাগাভাগি প্রবেশ করল? এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে শিক্ষার্থীদের সংগঠন আম্বেদকর পেরিয়ার ফুলে স্টাডি সার্কেল বা এপিপিএসসি। ওই পোস্টার তারা ছিঁড়ে ফেলেছে। শুধু তাই নয়, তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় এবং হোস্টেলের সাধারণ সম্পাদককে ইমেল করে, তারা জানতে চেয়েছে, আইআইটি-বম্বেতে কি ভিন্ন প্রকারের খাদ্য গ্রহণের ভিন্ন ভিন্ন জায়গা নির্দিষ্ট করা হয়েছে?

আরটিআই-এর উত্তরে জানা গিয়েছে, আইআইটি-বম্বেতে এমন কোনও হোস্টেল নেই যেখানে আমিষভোজী শিক্ষার্থীদের ডিম বা মাংসের তৈরি খাবার গ্রহণ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জৈন শিক্ষার্থীদের নিরামিষ খাদ্য গ্রহণের জন্যও বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা কোনও জায়গা করা নেই। ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে যদি আইআইটি বম্বের হোস্টেলের জৈন খাদ্য বিভাগে কোনও আমিষভোজী শিক্ষার্থী আমিষ খাবার নিয়ে আসে, তার বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধি নেই। আইআইটি-বম্বের কোনও মিটিং-এও জৈন ছাত্রছাত্রীদের জন্য আলাদা খাওয়ার জায়গা তৈরি করার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই ধরনের কোনও নির্দেশ জারির কোনও প্রস্তাব কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে দেননি, আর তাতে কেউ সম্মতিও জানাননি। অর্থাৎ, ওই বিভেদমূলক পোস্টার আইআইটি-বম্বে কর্তৃপক্ষ দেয়নি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ কিছু না বললেও, কিছু ব্যক্তি হোস্টেলের কিছু নির্দিষ্ট এলাকাকে শুধুমাত্র নিরামিষভোজীদের জন্য সীমাবদ্ধ করতে চাইছে। অন্যান্য ছাত্রদের সেখানে বসতে দেওয়া হচ্ছে না, বের করে দেওযা হচ্ছে। তারাই এই পোস্টার দিয়েছে বলে অভিযোগ আম্বেদকর পেরিয়ার ফুলে স্টাডি সার্কেলের। এই প্রবণতার প্রতিবাদ করে এপিপিএসসি আইআইটি-বম্বে টুইট করে বলেছে, “বিশুদ্ধতার ধারণা নিয়ে খাবারের জন্য আলাদা আলাদা স্থান নির্দিষ্ট করার চেষ্টা আসলে ক্যাম্পাসে সাবর্ণদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টা। এমন একটা পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা, যাতে মনে হয়, দলিত-বহুজন-আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের তুলনায় তাদের খাদ্যাভ্যাস ভাল।”

বিভেদমূলক পোস্টার দেওয়ার নিন্দা করেছেন হোস্টেলের সাধারণ সম্পাদকও। সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের ইমেল করে তিনি এই বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের আচরণকে সমর্থন করে না আইআইটি-বম্বে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহনশীলতার মূল্যবোধে চলে। এই ধরনের আচরণ তার বিরোধী। ইমেলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বা খাদ্যাভ্যাসের ভিত্তিতে, হোস্টেলের কোনও জায়গা থেকে কোনও শিক্ষার্থীকে সরিয়ে দেওয়ার অধিকার কারও নেই।