সৌজন্যের রাজনীতি: বিজেপির সুনীল দেওধরের বাড়ির গণেশ পুজোয় আমন্ত্রিত তৃণমূলের কুণাল

TV9 Bangla Digital

TV9 Bangla Digital | Edited By: সায়নী জোয়ারদার

Updated on: Sep 12, 2021 | 9:29 PM

Tripura politics: ২০১৮ সালে ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে ত্রিপুরার দায়িত্ব দেওয়া হয় সুনীল দেওধরকে। এরপরই আগরতলায় চলে যান তিনি।

সৌজন্যের রাজনীতি: বিজেপির সুনীল দেওধরের বাড়ির গণেশ পুজোয় আমন্ত্রিত তৃণমূলের কুণাল
বিজেপি নেতার বাড়ির পুজোয় আমন্ত্রিত তৃণমূলের মুখপাত্র।

সৌরভ গুহ: একদিকে ত্রিপুরায় মাটি পেতে যখন সে রাজ্যের শাসকদলের সঙ্গে প্রতিটা মুহূর্তে কার্যত লড়াই করে চলেছে তৃণমূল (Trinamool Congress)। সেখানে সে রাজ্যে বিজেপির মসনদে বসার যিনি অন্যতম কারিগর হিসাবে পরিচিত সেই বিজেপি নেতার বাড়ির গণেশ পুজোয় আমন্ত্রণ জানানো হল তৃণমূলের মুখপাত্রকে। রাজনীতির ময়দানে লড়াই তো থাকবেই, তা বলে সৌজন্য যে বিলুপ্ত নয়, সে বার্তাই উঠে এল এই ঘটনায়। বিজেপি নেতা সুনীল দেওধরের বাড়ির গণেশ পুজোয় আমন্ত্রণ পেলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

দলীয় কাজে কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) এই মুহূর্তে রয়েছেন ত্রিপুরায় (Tripura politics)। তাই তিনি নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যেতে পারেননি। তবে তাঁর প্রতিনিধি গিয়েছিলেন ফুল ও মিষ্টি নিয়ে। কুণালের উপহার গ্রহণ করেছেন সুনীলও। শুধু তাই নয়, কুণালের প্রতিনিধি পূর্ণেন্দু রায়ের হাতে পাল্টা উপহারও পাঠিয়েছেন সুনীল। একটি বই। রবিবার দিল্লির বুকে এমনই এক সৌজন্যের নজির তৈরি হল। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনীতির রং খুঁজতে চাইছেন কেউ কেউ। যদিও কুণাল ঘোষের কথায়, বিষয়টি একেবারেই ব্যক্তিগত। সুনীল দেওধরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। তাঁদের একটি ‘কমন ইন্টারেস্ট’ও রয়েছে। তাঁরা দু’জনই কুকুরপ্রেমী।

ত্রিপুরায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে জাদুকরের ভূমিকা পালন করেছিলেন সুনীল দেওধর। যদিও পরবর্তী কালে সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। দু’জনের কিছুটা দূরত্বও তৈরি হয় বলে রাজনৈতিক মহলে শোনা যায়। বিধানসভা ভোটের আগে বাংলাতেও সুনীলকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছিল। এক সময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রচারক সুনীল দেওধর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর গুজরাতের দাহোড়ের দায়িত্ব সামলান। সে সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০১৩ সালে রাজধানীতে বিধানসভা ভোটের সময় দক্ষিণ দিল্লির দায়িত্ব নেন দেওধর। পরের বছর অর্থাৎ ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটে বারাণসী কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলান।

২০১৮ সালে ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে ত্রিপুরার দায়িত্ব দেওয়া হয় সুনীল দেওধরকে। এরপরই আগরতলায় চলে যান তিনি। সুনীল দেওধরের সব থেকে বড় গুন হিসাবে ধরা হয়, তাঁর ভাষা জ্ঞান। আঞ্চলিক ভাষা সহজেই রপ্ত করার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। অন্ধ্র প্রদেশের দায়িত্বে থাকাকালীন সুনীল যেমন তেলুগুকে সহজাত করে ফেলেন, ত্রিপুরায় গিয়ে শিখে নেন ককবরক। শোনা যায়, বাংলাও তাঁর জন্য খুব একটা বড় চ্যালেঞ্জ নয়।

যদিও এখন ত্রিপুরায় সংগঠন নিয়ে তিনি একেবারেই মাথা ঘামান না বলে শোনা যায়। তবে ত্রিপুরার বেশির ভাগ বিজেপি বিধায়কই এখনও সুনীল দেওধরের লোক বলে পরিচিত। এহেন সুনীল হঠাৎ ত্রিপুরায় তৃণমূলের তরফে সংগঠনের দায়িত্বে থাকা কুণালকে গণেশ পুজোয় কেন আমন্ত্রণ করলেন? কাউকে বিশেষ কোনও বার্তা দিতেই কি এই ঘটনা? নাকি নিছক সৌজন্য?

আরও পড়ুন: Parnashree Murder: পর্ণশ্রীকাণ্ডে কালপ্রিট ‘কংস মামা’! চা কেক খেয়ে ঠান্ডা মাথায় বোন-বোনপোকে কুপিয়ে খুন

Latest News Updates

Follow us on

Related Stories

Most Read Stories

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla