High Court in Sandeshkhali: ‘সেই পুরুষদের কী হল?…’ সন্দেশখালি নিয়ে হাইকোর্টে প্রশ্নের পর প্রশ্ন রাজ্যকে
High Court in Sandeshkhali: বিচারপতি রাজ্যের উদ্দেশে আরও বলেন, পুলিশ তিন বছর ধরে কোনও অভিযোগ নেয়নি বলে অভিযোগ। আপনারা এই গ্রামবাসীদের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে একত্রিত হতে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ। আপনাদের মতে এই পরিস্থিতিতে আদালতের কী করনীয়?
কলকাতা: শুধুমাত্র ১৪৪ ধারা নিয়ে হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেতে হল না পুলিশকে, পড়তে হল প্রশ্নের মুখে। বছরের পর বছর অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশ অভিযোগ নেয়নি, এজলাসে এ কথাই উল্লেখ করলেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। যে মহিলারা সন্দেশখালিতে লাঠি হাতে রাস্তায় নেমেছেন, তাঁদের কথাও উল্লেখ করলেন বিচারপতি। কারা তদন্ত করছে? অভিযুক্তদের কী হল? কোথায় উত্তেজনা রয়েছে? এমন সব প্রশ্ন করা হল রাজ্যকে। সন্দেশখালিতে ১৪৪ ধারা বাতিল করার আর্জি জানিয়ে সোমবার একটি মামলা হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। মঙ্গলবারই সেই মামলায় ১৪৪ ধারা বাতিলের নির্দেশ দিল আদালত।
গত সপ্তাহে সন্দেশখালিতে দেখা যায় লাঠি হাতে গ্রামের মহিলারা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ উত্তর সর্দার ও শিবু হাজরার বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর সব অভিযোগ সামনে এনেছেন তাঁরা। রাতের অন্ধকারে মহিলাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হত দলীয় কার্যালয়ে, এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। উত্তর সর্দার ধরা পড়লেও বেপাত্তা শিবু হাজরা।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যকে আদালত প্রশ্ন করেছে, ‘এখন লাঠি হাতে গ্রামবাসী কিছু মহিলাকে দেখতে পাচ্ছেন। সেই পুরুষদের কী হল, যাঁদের বিরুদ্ধে এই মহিলারা ধর্ষণের এবং জমি দখলের অভিযোগ করছেন? তাঁদের ভেড়িতে দিনের পর দিন বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করানোর অভিযোগ করছেন?’
বিচারপতি রাজ্যের উদ্দেশে আরও বলেন, পুলিশ তিন বছর ধরে কোনও অভিযোগ নেয়নি বলে অভিযোগ। আপনারা এই গ্রামবাসীদের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে একত্রিত হতে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ। আপনাদের মতে এই পরিস্থিতিতে আদালতের কী করনীয়?
বর্তমানে সন্দেশখালির পরিস্থিতি কী, তা জানতে চাইলে এদিন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তাদের থেকে পাওয়া তথ্য মোবাইলে বিচারপতিকে দেখায় রাজ্য। রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, ডিআইজি-সিআইডি সোমা দাস মিত্রকে ওই এলাকায় বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযোগ গ্রহণ করছেন। রাজ্য আরও জানিয়েছে যে, রাজ্যের সর্বত্র রুটিন বদলি হয়েছে, তাই ওই এলাকায় যাঁরা আছেন, তাঁরা প্রায় প্রত্যেকেই নতুন। এ কথা শুনে রাজ্যকে বিচারপতি বলেন, “মানুষের মনে যতক্ষণ না পর্যন্ত আস্থা ফিরছে, ততক্ষণ ওই এলাকায় যে পদমর্যাদার আধিকারিককেই মোতায়েন করা হোক না কেন, তাতে কোনও লাভ হবে না।”