‘টাকা ছাড়লে’ সহজেই কোভিড রোগীর দেহ সৎকারের ব্যবস্থা, পাঁচজনকে সাসপেন্ড করল কলকাতা পুরসভা

KMC: এই পাঁচজনের মধ্যে একজন পিস ওয়ার্ল্ডের নিরপত্তারক্ষী, একজন 'ডোম', বাকি তিনজন পুরসভার শববাহী গাড়ির চালক এবং খালাসি।

'টাকা ছাড়লে' সহজেই কোভিড রোগীর দেহ সৎকারের ব্যবস্থা, পাঁচজনকে সাসপেন্ড করল কলকাতা পুরসভা
ফাইল চিত্র।

কলকাতা: কোভিডে (COVID-19) মৃত্যু হলে সেই দেহের সৎকার নিয়ে উদ্বেগ-আশঙ্কার পাহাড় জমে পরিবারের মনে। একইসঙ্গে শ্মশানে কোভিড-দেহের ভিড়ের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নন-কোভিড মৃতের পরিবারকেও। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত টাকা আয়ের পথ খুলেছিলেন পাঁচজন। টাকার বিনিময়ে নন-কোভিড দেহের দাহ দ্রুত করিয়ে দিতেন তাঁরা। আর কোভিডে মৃত্যু হলে মৃতের পরিবারকে নানা সুযোগ করে দিতেন। বিনিময়ে গুনতেন মোটা অঙ্কের টাকা। যদিও শেষ রক্ষা হল না। অভিযোগ পেতেই পাঁচজনকে সাসপেন্ড করল কলকাতা পুরসভা। এই পাঁচজনের মধ্যে একজন পিস ওয়ার্ল্ডের নিরপত্তারক্ষী, একজন ‘ডোম’, বাকি তিনজন পুরসভার শববাহী গাড়ির চালক এবং খালাসি।

এই পাঁচজন হলেন, শম্ভু মণ্ডল, আনন্দ মল্লিক, সমীর হালদার, সঞ্জয় রজক, বিশ্বজিৎ মণ্ডল। শম্ভু পিস ওয়ার্ল্ড নিরাপত্তা রক্ষী পদে কাজ করছিলেন। আনন্দ কেওড়াতলা মহাশ্মশানে ডোমের পদে ছিলেন। বাকি তিনজন পুরসভার শববাহী গাড়ির চালক এবং খালাসি। পর পর তিনটি ঘটনা ঘটে। প্রথমটি ঘটেছিল ১৪ মে, তার পরেরটি ৮ জুন, তৃতীয়টি বৃহস্পতিবার।

৮ জুনের ঘটনা প্রসঙ্গে পুরসভা সূত্রে খবর, করোনায় মৃত এক ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা দাবি করেন পিস ওয়ার্ল্ডের নিরাপত্তারক্ষী শম্ভু মণ্ডল। অভিযোগ, তিনি মৃতের পরিজনদের বলেছিলেন, কিছু টাকা দিতে, তাঁরা খাওয়া-দাওয়া করবেন। বদলে দেহটি যাতে দ্রুত পিস ওয়ার্ল্ডে দাহের ব্যবস্থা করে দেওয়া যায় তা তিনি দেখবেন। অভিযোগের তদন্ত করে পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিক শম্ভুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপরই ঘটনার সত্যতা জানা যায়। পুরসভার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুব্রত রায় চৌধুরী শম্ভুকে সাসপেন্ডও করেন।

আরও পড়ুন: সাংসদ নুসরতের শপথবাক্য পাঠের ভিডিয়ো টুইট মালব্যর, কুণাল বললেন ‘তর্ক শুরু হলে বিজেপির পক্ষে ভাল হবে না’

এরপরই জানা যায়, ১৪ মে’র ঘটনা। অভিযোগ, কেওড়াতলা মহাশ্মশানে রাজেশ সিংহানিয়া বলে এক ব্যক্তি তাঁর পরিজনের মৃতদেহ দাহ করতে যান। সেই দেহের দাহ প্রক্রিয়া দ্রুত করে দেওয়ার জন্য ওই শ্মশানের ডোম আনন্দ মল্লিক তাঁর কাছ থেকে ৫০০০ টাকা নেয়। ঘটনার অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে পুরস্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকরা। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ওই ডোমকে ডেকে আনা হয়। অভিযুক্ত নিজের দোষ স্বীকার করেন। তারপরই তাঁকে দিয়ে মুচলেকা লেখানো হয়। অভিযুক্ত রাজেশবাবুকে ৫০০০ টাকা ফেরৎ দিয়ে দেন। এরপরই আনন্দকে সাসপেন্ডও করা হয়।

তৃতীয় ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে। কলকাতা পুরসভার কন্ট্রোল রুমে সিরিটি শ্মশান থেকে একজন ফোন করে জানান কলকাতা পুরসভার শববাহী গাড়ির চালক ও তার সহকর্মীরা তাঁর পরিজনের দেহ শ্মশানে নিয়ে আসার জন্য ২৭০০ টাকা চাইছেন। নির্দিষ্ট ভাড়ার থেকে যা অনেকটাই বেশি। এরপরই মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে বিষয়টি কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়। তিনি সঙ্গে সঙ্গে পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকদের শ্মশানে পাঠান।

আরও পড়ুন: কোভিডে পোয়া বারো রক্তের কালোবাজারিদের, এক ইউনিট রক্তের দাম ৫ হাজার টাকা!

হাতেনাতে ওই শববাহী গাড়ি, অভিযুক্ত সমীর হালদার, সঞ্জয় রজক, বিশ্বজিৎ নস্কর ধরা পড়েন। তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পুরসভার তরফে। অভিযোগকারী ব্যক্তিকে তাঁর টাকাও ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বারবার এই অভিযোগ ঘিরে যথেষ্ট অস্বস্তিতে রয়েছে কলকাতা পুরপ্রশাসন। আরও এমন ঘটনা ঘটেছে কি না তাও এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে পুরসভা এ ক্ষেত্রে চমক-ধমকে থাকতে চাইছে না, সরাসরি সাসপেনশনের পথে হাঁটছে।