মুখ্যমন্ত্রীকে দরাজ শংসাপত্র দিয়ে ফেরার রাস্তা প্রশস্ত, আজ কি তৃণমূলে সব্যসাচীও?

আরও অনেক হেভিওয়েটদের মতো গা ভাসিয়েছেন সব্যসাচী দত্তও (Sabyasachi Dutta)।

মুখ্যমন্ত্রীকে দরাজ শংসাপত্র দিয়ে ফেরার রাস্তা প্রশস্ত, আজ কি তৃণমূলে সব্যসাচীও?
ফাইল চিত্র।

কলকাতা: ভোট পূর্বে ট্রেন্ডিং ছিল ‘দমবন্ধ পরিবেশ’ অতঃপর ‘বেসুরো’ আর ভোট পরবর্তী বঙ্গে রাজনীতিতে নয়া আবহ ‘ঘর ওয়াপসি’। তাতে আরও অনেক হেভিওয়েটদের মতো গা ভাসিয়েছেন সব্যসাচী দত্তও (Sabyasachi Dutta)।

মনে মনে যে তিনিও ঘাসফুলে (TMC) ফেরার ইচ্ছা পোষণ করছেন, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আঁচ করতে পেরেছিলেন মে মাসের শেষের দিকেই। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের একমাস কাটেনি তখনও। হঠাৎ সব্যসাচী দত্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) প্রশংসায় বলে উঠেছিলেন, “উনি বয়সে বড়। ব্যক্তিগত স্তরে সম্পর্ক খারাপ হয়নি। ওনার রাজনৈতিক ম্যাচিওরিটির সঙ্গে আমার কোনও তুলনা চলে না।”

ব্যস, পর্যবেক্ষকদের যা বোঝার, সেখানেই বুঝে গিয়েছিলেন। সব্যসাচী যে তৃণমূলে ঝুঁকতে শুরু করেছেন তা আচঁ করতে পেরেছিলেন গেরুয়া শিবিরেরও একাংশ। নির্বাচনের প্রাক্কালে আচমকাই বেসুরো হয়েছিলেন সব্যসাচী। মুকুল রায়কে একাধিকবার সেসময় তাঁর বাড়িতে যেতে দেখা গিয়েছিল। গুঞ্জনে জল ঢালতে উঠে এসেছিল ‘লুচি-আলুর দম’ তত্ত্ব। এবং তা সত্যি করেই মুকুলের হাত ধরে গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন সব্যসাচী।

একুশের নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই সুর চড়িয়েছিলেন বিশাল। বিজেপির টিকিটে বিধাননগরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সব্যসাচী। তবে বিরাট হাঁকডাক করলেও সতীর্থ সুজিত বসুর কাছে হেরে যান সব্যসাচী। তারপর থেকেই কার্যত ‘নিভৃতবাসে’ চলে গিয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: তৃণমূলে বাবার হাত ধরেই কি যাচ্ছেন শুভ্রাংশু? আজই জল্পনার যবনিকা পতন

তারপর আচমকাই একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত আর তাতে মুখ্যমন্ত্রীকে দরাজ সার্টিফিকেট সব্যসাচীর! খেলা বদলাতে শুরু করে সেখান থেকেই।  এবার সেই মুকুল রায়ই এখন তৃণমূল যোগ দিতে চলেছেন বলে খবর। আর তাতেই সরগরম রাজনীতি। তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন সব্যসাচী দত্তও। একুশের নির্বাচনের পর যেভাবে সব্যসাচী দত্তের গলায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা শোনা যাচ্ছে, তাতে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকেই তাঁর পাল্লা ভারি হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক কুশীলবরা।