মঙ্গলের বুকে উড়েছে হেলিকপ্টার Ingenuity, পৃথিবীর বাইরে অন্য গ্রহে কীভাবে সফল হল উড়ান?

তবে শুধু উড়লেই কিন্তু মার্স হেলিকপ্টার Ingenuity- র কাজ শেষ ছিল না। সফল উড়ান তখনই সম্পন্ন হয়, যখন নিখুঁত অবতরণ হয়। এক্ষেত্রে আবার তথ্য-নমুনা সংগ্রহ, ছবি তোলা এইসব কাজও যুক্ত ছিল।

মঙ্গলের বুকে উড়েছে হেলিকপ্টার Ingenuity, পৃথিবীর বাইরে অন্য গ্রহে কীভাবে সফল হল উড়ান?
লাল গ্রহের বুকে রোভার পারসিভের‍্যান্স এবং হেলিকপ্টার ingenuity

পৃথিবীর বাইরে এই প্রথম অন্য কোনও গ্রহে সফল ভাবে উড়েছে হেলিকপ্টার। মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠদেশে একাধিকবার সফল ভাবে উড়েছে মার্স হেলিকপ্টার Ingenuity। গত ১১ এপ্রিল প্রথমবার উড়েছিল এই হেলিকপ্টার। মঙ্গল গ্রহের অপরিচিত আবহাওয়া এবং অত্যন্ত ফিনফিনে বায়ুমণ্ডলে এই হেলিকপ্টারের ওড়া মোটেই সহজ ছিল না।

শুধু তাই নয়, লাল গ্রহের বুকে দিনের বেলায় চরম উষ্ণ এবং রাতের বেলায় তীব্র শীতল আবহাওয়ায় টিকে থাকাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল Ingenuity- র কাছে। আর শুধু হেলিকপ্টার ঠিক থাকলেই তো হবে না, সঠিক ভাবে তার সমস্ত যন্ত্রাংশও কাজ করতে হবে। কারণ লাল গ্রহের বুক থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবে এই কপ্টার। সেইসব তথ্য গবেষণা করে তবেই বিজ্ঞানীরা মঙ্গল গ্রহ প্রসঙ্গে বিস্ময়কর কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন। কারণ মঙ্গলের বুকে প্রাণ এবং জলের সন্ধান করছে এই হেলিকপ্টার। এর পাশাপাশি সেখানকার ভূ-প্রাকৃতিক গঠন, বায়ুমণ্ডলীয় স্তর এবং অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখছে Ingenuity।

লাল গ্রহের বুকে থাকা হেলিকপ্টার Ingenuity উড়তে শুরু করার পর তার নিয়ন্ত্রণ কারও হাতে ছিল না। অর্থাৎ পৃথিবীতে বসে নাসার জেপিএল ল্যাব থেকে এই কপ্টারের উড়ান নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ছিল বিজ্ঞানীদের হাতে। রোভার পারসিভের‍্যান্সের মধ্যে Ingenuity হেলিকপ্টার পাঠানো, রোভার থেকে মঙ্গলের বুকে কপ্টারের অবতরণ এবং উড়ানের আগে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ঠিক ভাবে কাজ করছে কি না, তা দেখে নেওয়া— এই পর্যন্তই নিয়ন্ত্রণ ছিল বিজ্ঞানীদের হাতে। উড়ান শুরু পর Ingenuity একটি স্বয়ংসক্রিয় বা অটোনমাস ফ্লাইট হিসেবে কাজ করেছে।

তবে Ingenuity- র প্রতিটি উড়ানের আগে বিজ্ঞানীরা একটি খসড়া দিতেন, যার সাহায্যে এটা বোঝা যেত যে এই উড়ানের মাধ্যমে মার্স হেলিকপ্টারের করণীয় কাজগুলো ঠিক কী কী। এছাড়া পৃথিবী থেকে মঙ্গল গ্রহে পাঠানোর আগে Ingenuity- র মধ্যে কিছু ফ্লাইট কন্ট্রোল অ্যালগোরিদম সেট করে দেন বিজ্ঞানীরা। এর উপর ভিত্তি করেই লাল গ্রহের পৃষ্ঠদেশে উড়েছে Ingenuity। সফল ভাবে নিজের সব কাজও সম্পন্ন করেছেন। মঙ্গল গ্রহে পাঠানোর আগে অবশ্য জেপিএল ল্যাবে একটি ট্রায়াল হয়েছিল। সেই মহড়ার সময় লাল গ্রহের পরিবেশের কাছাকাছি আবহাওয়া তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। আর সেই পরিস্থিতিতে উড়িয়ে দেখা হয়েছিল Ingenuity।

নাসার জেপিএল ল্যাবে একটি ২৫ মিটার লম্বা এবং ৭.৫ মিটার ব্যাসের ভ্যাকুয়াম চেম্বার তৈরি করা হয়েছিল। সেখানেই উড়িয়ে দেখা হয়েছিল Ingenuity। এই ভ্যাকুয়াম চেম্বারেই মার্সিয়ান অ্যাটমোস্ফিয়ার তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে সফল ভাবে যাতে উড়তে পারে, সেজন্য Ingenuity- র মধ্যে একাধিক ফ্লাইট কন্ট্রোলিং অ্যালগোরিদম সেট করা হয়েছিল।

তবে শুধু উড়লেই কিন্তু মার্স হেলিকপ্টার Ingenuity- র কাজ শেষ ছিল না। সফল উড়ান তখনই সম্পন্ন হয়, যখন নিখুঁত অবতরণ হয়। এক্ষেত্রে আবার তথ্য-নমুনা সংগ্রহ, ছবি তোলা এইসব কাজও যুক্ত ছিল। আর মঙ্গলের বুকে উড়তে শুরু করার পর থেকে এই সমস্ত কাজ একাই নিয়ন্ত্রণ করেছে হেলিকপ্টার Ingenuity। সফলও হয়েছে। বিজ্ঞানীদের সেট করা অ্যালগোরিদম যে সঠিক ভাবে কাজ করেছে, তার নমুনা পাওয়া গিয়েছে Ingenuity- র তিনটি উড়ানে।