মামাবাড়ি যাওয়ার আনন্দে রাস্তার দু’ধার দেখেনি ছোট্ট প্রীতম, বাসের ধাক্কায় কোল খালি হল অর্চনার

একমাত্র ছেলের ইচ্ছেপূরণ করতে গিয়েই যে কোল খালি হয়ে যাবে, তা হয়তো দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি ৯ বছরের প্রীতমের অভিভাবকেরা। আনন্দ করে মামাবাড়ি ঢোকার আগেই ট্রাকের ধাক্কায় মৃত্যু হল দাসপুর থানার শ্রীধরপুর গ্রামের প্রীতম দোলুইয়ের।

মামাবাড়ি যাওয়ার আনন্দে রাস্তার দু'ধার দেখেনি ছোট্ট প্রীতম, বাসের ধাক্কায় কোল খালি হল অর্চনার
নিজস্ব চিত্র

পশ্চিম মেদিনীপুর: অনেকদিন হয়ে গিয়েছিল, মামাবাড়ি যাওয়া হয়নি। তাই বেশ কয়েকদিন ধরেই বাবা-মায়ের কাছে মামাবাড়ি যাওয়ার বায়না করে যাচ্ছিল ছোট্ট প্রীতম। অবশেষে শুক্রবার প্রীতমের বাবা-মাও ছেলের বায়না পূরণ করবেন বলে ঠিক করেন। কিন্তু, একমাত্র ছেলের ইচ্ছেপূরণ করতে গিয়েই যে কোল খালি হয়ে যাবে, তা হয়তো দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি ৯ বছরের প্রীতমের অভিভাবকেরা। আনন্দ করে মামাবাড়ি ঢোকার আগেই ট্রাকের ধাক্কায় মৃত্যু হল দাসপুর থানার শ্রীধরপুর গ্রামের প্রীতম দোলুইয়ের।

দাসপুর থানারই টালিভাটাতে প্রীতমের মামাবাড়ি। মা অর্চনার কাছে অনেকদিন ধরেই সে বায়না করেছিল মামাবাড়ি যাবে। সেই মতো এ দিন প্রীতমের মা ও ঠাকুমা প্রীতমকে নিয়ে মামাবাড়ি যাচ্ছিলেন টোটোয় চেপে। গোটা রাস্তা নির্বিঘ্নেই আসেন তাঁরা। সন্ধে নেমে যাওয়ার ফলে আলো-আঁধারের মধ্যেই টোটো থেকে জাতীয় সড়কে নেমে পড়ে প্রীতমের পরিবার।

যেহেতু অনেকদিন পর মামাবাড়ি আসা, তাই টোটো থেকে নেমেই উৎসাহে রাস্তা পেরোতে যায় প্রীতম। কিন্তু, ছোট্ট প্রীতম আনন্দের চোটে রাস্তার দু’ধার দেখেনি। মুহূর্তেই মধ্যে এসে ধাক্কা দেয় এক যাত্রীবাহী বাস। ধাক্কা দিয়ে অনেকটা টেনেও নিয়ে চলে যায়। অন্ধকার নেমে আসে প্রীতমের পরিবারের চোখের সামনে।

আরও পড়ুন: যোগ্য প্রার্থীই নেই, ৩০ আসনের দাবি থেকে সরছেন আব্বাস

আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত প্রীতমকে উদ্ধার করে ঘাটাল হাসপাতালে নিয়ে যায় দাসপুর থানার কর্তব্যরত পুলিশ ও স্থানীয়রা। কিন্তু, শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন প্রীতমকে।

ঘটনার জেরে ঘাটাল-পাঁশকুড়া রাজ্য সড়কে দেখা দেয় তীব্র যানজট। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দাসপুর থানার পুলিশ গিয়ে ঘাতক বাসটিকে আটক করে। তবে চালক পলাতক। প্রীতমের বাড়ির এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া।

আরও পড়ুন: নন্দীগ্রাম-কাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা পড়ল কমিশন ও রাজভবনে, কী লেখা সেখানে?