আব্বাসকে সিট ছাড়তে রাজি সিপিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত হবে বাম-কংগ্রেস জোট

আব্বাসের সঙ্গে আসন সমঝোতার ব্যাপারে গ্রিন সিগন্যাল সিপিএমের, ভাবছে কংগ্রেস

আব্বাসকে সিট ছাড়তে রাজি সিপিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত হবে বাম-কংগ্রেস জোট
ফাইল চিত্র

কলকাতা: একুশের ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই চলছে নানা ধরনের অঙ্ক কষা। বিজেপিকে ঠেকাতে বৃহত্তর স্বার্থে ভোট ভাগাভাগি এড়াতে এবার ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর (Abbas Siddiqui) দলের সঙ্গে জোট গড়তে তারা রাজি বলে জানিয়ে দিল সিপিএম। বামেদের কয়েকটি আসন আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (ISF) দলকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে সিপিএম-কংগ্রেসের জোট বৈঠকে জানালেন বিমান বসু (Biman Basu)। অন্যদিকে কংগ্রেসও জানাল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব এলে আব্বাস সিদ্দিকির সঙ্গে জোট গড়ার বিষয়ে তারাও ভাবনা-চিন্তা করবে।

রবিবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএম-কংগ্রেসের জোট নিয়ে আরও একপ্রস্ত আলোচনা হল। এতদিন বৈঠক হয়েছিল বাম ও কংগ্রেস কে কত আসনে লড়বে। এদিনের বৈঠকে আলোচনা হল আসন ধরে ধরে। সূত্রের খবর, ২৩০টি আসনের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে এদিনের আলোচনায়। বাকি ৬৪টি আসন নিয়ে আলোচনা হবে পরবর্তীতে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই বৈঠকেই উঠে এসেছে আব্বাস ফ্যাক্টরের কথা।
সিপিএমের তরফে বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্র এবং কংগ্রেসের হয়ে এদিন আলোচনায় ছিলেন অধীর চৌধুরী, আব্দুল মান্নান ও প্রদীপ ভট্টাচার্য। সূত্রের খবর, সিপিএম জানিয়েছে, একুশের ভোটে বামেদের সঙ্গে জোট নিয়ে নিজেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সিদ্দিকি। এবিষয়ে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের দলের প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস সিদ্দিকি সিপিএমকে চিঠি দিয়েছিলেন। সেই চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করে তাঁকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। জোটসঙ্গী কংগ্রেসকে সিপিএম এও জানায়, তাদের ভাগে থাকা আসন থেকে আব্বাসের দলকে কয়েকটি সিট ছেড়ে দেওয়া হবে। একইভাবে কংগ্রেসও যেন সিদ্দিকির দলের সঙ্গে আসন সমঝোতার ব্যাপারে তাদের শীর্ষ নেতৃত্বকে আবেদন করে। তবে সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী জানান, তাঁদের কাছে ফুরফুরা শরিফের পীরজাদার তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বার্তাই এখনও আসেনি। এলে তারাও এ বিষয়টি ভেবে দেখবে।

আরও পড়ুন: মিম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ ৩০ জনের, আমল দিতে নারাজ ওয়েইসির দল

পাশাপাশি আলিমুদ্দিনের এদিনের স্থির হয়েছে কংগ্রেসের এ রাজ্যের পর্যবেক্ষক-সহ অন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রতিটি জেলায় দুটি করে ওয়ার্কশপ ও সভা করবেন। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জোট সমঝোতার চিত্র স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে জানায় কংগ্রেস।

এদিকে শনিবার অশোকনগরের বালিয়াডাঙা এলাকায় একটি ধর্মীয় সভা থেকে আব্বাস বাম-কংগ্রেসকে বার্তা দিয়ে জানিয়েছিলেন ভোট যাতে ভাগাভাগি না হয়, তার জন্য সর্বদা তার দরজা খোলা। জোট নিয়ে কংগ্রেসের সদিচ্ছা আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে কিছু বলা সম্ভব নয় মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে ক’টি আসনে তিনি প্রার্থী দিতে চলেছেন, তা অবশ্য নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলেও আব্বাস জানিয়েছেন। তবে প্রাথমিকভাবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ১৮টি বিধানসভায় তাঁরা কাজ করছেন। তার মধ্যে ৮টি বিধানসভায় জোট না হলেও জয়ী হব বলে মন্তব্য করতে শোনা যায় তাঁকে। বাকি ১০টি আসনের ব্যাপারে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে আব্বাস বলেন, কোথাও ৭০ শতাংশ কোথাও ৫০ শতাংশ কাজ হয়েছে। বাকিটার জন্য কংগ্রেস-বাম আছে। সে কারণেই জোট দরকার। এখন দেখার বাম ও কংগ্রেসের সঙ্গে সিদ্দিকির দলের জোট হলে কত আসন ছাড়া হয় তাঁদের ।

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla