৫০০টাকা থেকে একলাফে ৪০০০ টাকা! বন্ধ ক্যাম্পাস, বেড়েই যাচ্ছে ফি, একাধিক কলেজে বিক্ষোভ পড়ুয়াদের

Education: পরীক্ষার ফি বাড়ানোর অভিযোগে একাধিক কলেজে বিক্ষোভে সামিল হলেন পড়ুয়ারা। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের তিনটি কলেজে ও মালদার একটি কলেজে বর্ধিত ফি মকুবের দাবি জানিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করলেন পড়ুয়ারা। 

৫০০টাকা থেকে একলাফে ৪০০০ টাকা! বন্ধ ক্যাম্পাস, বেড়েই যাচ্ছে ফি, একাধিক কলেজে বিক্ষোভ পড়ুয়াদের
বিক্ষোভ পড়ুয়াদের, নিজস্ব চিত্র

দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা: অতিমারীর জেরে প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়। অনলাইনেই চলছে পঠনপাঠন, পরীক্ষা। স্নাতক স্তর হোক বা স্নাতকোত্তর সবক্ষেত্রেই অনলাইনই ভরসা। প্রায় থমকে গিয়েছে গবেষণার কাজ। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার ফি (College Fee) বাড়ানোর অভিযোগে একাধিক কলেজে বিক্ষোভে সামিল হলেন পড়ুয়ারা। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের তিনটি কলেজে ও মালদার একটি কলেজে বর্ধিত ফি মকুবের দাবি জানিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করলেন পড়ুয়ারা।

দক্ষিণ দিনাজপুর:

পরীক্ষার ফি (College Fee) মুকুবের দাবিতে ফের বৃহস্পতিবার বালুরঘাট কলেজের সামনে ও অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু করলেন পড়ুয়ারা। শুধুমাত্র বালুরঘাট কলেজ নয় বালুরঘাট গার্লস কলেজেও একই দাবিতে কলেজের অধ্যক্ষের ঘরের মেঝেতে বসে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন ছাত্রীরা। অন্যদিকে, পতিরাম যামিনী মজুমদার কলেজেও একই দাবিতে বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়ারা।

বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের অভিযোগ, করোনার জন্য গত এক বছরের বেশি সময় থেকে বন্ধ ছিল কলেজ ক্যাম্পাস। অফলাইনে ক্লাস করতে গেলে কলেজের যে যে পরিষেবাগুলি প্রাপ্য তার কোনটিই পাননি পড়ুয়ারা। অথচ, কলেজ বন্ধ থাকার পরও কলেজের লাইব্রেরি ফি, ল্যাবরেটরি ফি, সাইকেল স্ট্যান্ড ফি সহ বিভিন্ন ফি পরিক্ষা ফি’র সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। যেখানে কোনও  পরিষেবাই পেলেন না পড়ুয়ারা সেখানে কী করে এই ফি বাড়ানো হল তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

বিক্ষোভরত এক পড়ুয়ার কথায়, “আমরা নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেমেয়ে। এত টাকা আমরা কোথায় পাব! কোনও ক্লাস হল না, কিছুই হল না তারপরেও কী করে এত ফি নেওয়া হচ্ছে তা জানতে আমরা অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের ঘর থেকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। আমাদের ফি মকুব না করা হলে আমরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাব।” যদিও, এ বিষয়ে  বালুরঘাট কলেজের অধ্যক্ষ ড. পঙ্কজ কুণ্ডু বলেন, “যে পড়ুয়াদের সমস্যা রয়েছে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। জানিয়েছি, সমস্যার সমাধান করাতে হবে। যারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তাদের দাবি তারা পাশ না করলেও পাশ করাতে হবে। এখন নিজেরা ভর্তি হতে পারছে না বলে যারা হতে চাইছে তাদেরও দিচ্ছে না। আমরা পড়ুয়াদের ভালমন্দ বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেব।”

মালদা: 

অন্যদিকে,  অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধির দাবিতে মালদার গৌড় কলেজে  অধ্যক্ষকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পড়ুয়ারা। তাঁদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইডলাইন অমান্য করে মোটা টাকা ফি নেওয়া হচ্ছে। যেখানে নেওয়ার কথা ৫০০ টাকা সেখানে নেওয়া হচ্ছে ৪০০০ টাকা। এক একটি ডিপার্টমেন্টে একেক রকম ফি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ছাত্র ছাত্রীদের। যে কলেজে জিমের কোনও ব্যবস্থা নেই, সেই জিমের খরচ দেখিয়ে অতিরিক্ত ১১৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এর জেরেই বৃহস্পতিবার অধ্যক্ষের ঘরের সামনেই অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন পড়ুয়ারা।

উল্লেখ্য, করোনাকালে পরীক্ষা বিভ্রাট, বর্ধিত ফি-সহ একাধিক সমস্যায় ভুক্তভোগী হওয়ার অভিযোগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েক কলেজস্ট্রিট ক্যাম্পাস চত্বরে বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়ারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগও তোলেন তাঁরা। রেজিস্ট্রেশন, মাইগ্রেশন সার্টিফিকেট না পাওয়া, পরীক্ষার ফলাফল সংক্রান্ত বিভ্রাট, বর্ধিত ফি-সহ একাধিক বিষয়ে বিক্ষোভ দেখান পড়ুয়ারা। আরও পড়ুন: ‘কেন সাসপেনশন?’ রিপোর্ট চেয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে নোটিস ইউজিসির

 

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla