Medical College: কোভিডকালে নিয়োগ, এখন বলছে বসে যেতে, ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীরা
Covid19: ওয়ার্ড সাফাই করা, ওয়ার্ড বয়, সিকিউরিটি, রোগীদের খাবার পৌঁছনো-সহ নানা কাজে যুক্ত করা হয়েছিল ওই ১৫০ জন অস্থায়ী কর্মীকে।

পুরুলিয়া: কোভিডকালে ১৫০ জনকে ঠিকাকর্মী হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছিল পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। আপাতত করোনার বিপদ কাটিয়ে ছন্দে ফিরেছে জনজীবন। নোটিস এসেছে সেইসব অস্থায়ী কর্মীদের কাছে, ‘আপনাদের ডিসকন্টিনিউ করা হচ্ছে’। মাথায় হাত তাঁদের। তারই প্রতিবাদে হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখালেন কাজ হারা ঠিককর্মীরা। তাঁদের দাবি, স্থায়ী পদে নিয়োগ করা হোক তাঁদের। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কোভিড পরিস্থিতিতে গোটা রাজ্যের সঙ্গে সঙ্গে পুরুলিয়া জেলাতেও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ১৫০ জনকে অস্থায়ী হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছিল দেবেন মাহাতো হাসপাতালে। কোভিড রোগীদের পরিষেবা দিতেন তাঁরা। রোগীদের দেখভাল তাঁদের হাতেই ছিল।
ওয়ার্ড সাফাই করা, ওয়ার্ড বয়, সিকিউরিটি, রোগীদের খাবার পৌঁছনো-সহ নানা কাজে যুক্ত করা হয়েছিল ওই ১৫০ জন অস্থায়ী কর্মীকে। সেই সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া সমস্ত দায়িত্ব পালন করতেন তাঁরা। আজ কাজ হারিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী পুরুলিয়া জেলার ১৫০ জন অস্থায়ী কর্মীর কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে মার্চ মাসে। এরপর হাসপাতাল ব্যক্তিগত উদ্যোগে আরও কিছুদিন কাজে বহাল রাখে তাঁদের। ১৫ অগস্ট তাঁর শেষ দিন ছিল। এরপরই মঙ্গলবার বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
অঞ্জন মিত্র নামে এক ঠিকাকর্মী বলেন, “আমরা আড়াই তিন বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছি। এখন বলা হচ্ছে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে তো আমরা সমস্যায় পড়ে যাব। পরিবারের দায়িত্ব আছে আমাদের কাঁধে, সেখানে এভাবে বাদ দিয়ে দিলে আমাদের কী হবে? কোথায় যাব? আমরা কোভিডের সময় এখানে এসে মানুষকে সেবা দিয়েছি। এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে ডিসকন্টিনিউ করে দিচ্ছে। এরপর নতুন করে নিয়োগ করা হলে তোমরাই থাকবে বলছে। একবার যদি কাজ চলে যায় তা হলে আর কী করে আশা করব আবার নেবে।”
মেডিক্যাল কলেজ পুরুলিয়ার এমএসভিপি সুকোমল বিষয়ী বলেন, “আমাদের দফতরের নির্দেশিকা আছে ৩১.৩.২০২২ পর থেকেই ওনাদের কাজ ডিসকন্টিনিউ হয়ে যাবে। কোভিড সংক্রান্ত যা কিছু সবটাই বন্ধ হয়ে গেছে। তবে আমরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে আরও কিছুদিন রেখেছি। সেটা আর পারলাম না বাড়াতে। ১৫ অগস্ট অবধি ঘোষিত দিন ছিল। এর বাইরে তো আমাদের হাতে কিছু নেই।”





