জলে থৈথৈ করোনা হাসপাতাল, গামছা পরে কর্তব্যে অবিচল ‘ঈশ্বর’

ইয়াস আছড়ে পড়ার পরেই বাঁধ উপচে জল ঢুকেছে কাকদ্বীপ শহরে।

জলে থৈথৈ করোনা হাসপাতাল, গামছা পরে কর্তব্যে অবিচল 'ঈশ্বর'
নিজস্ব চিত্র

কাকদ্বীপ: গত বছর আমফানে ঝোড়ো হাওয়ার সাক্ষী থেকেছিল শহর কলকাতা। উপকূলবর্তী পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা তছনছ হয়েছিল ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে। এ বারও প্রবল শক্তি নিয়ে আছড়ে পড়েছে ইয়াস (Yaas)। স্বভাবতই সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসে ভেসেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক এলাকা ভেসেছে প্রবল জলস্রোতে। কাকদ্বীপের করোনা হাসপাতালে ঢুকে পড়েছে জল। তবু গামছা পরে চিকিৎসা করছেন চিকিৎসকরা। একে করোনা মহামারি, অন্যদিকে জলস্রোত, দ্বৈত সমস্যায় জর্জরিত কাকদ্বীপ হাসপাতাল।

ভরা কোটাল, তারপর ইয়াসের ছোবল। মুড়িগঙ্গা নদী ফুঁসছিল। ইয়াস আছড়ে পড়ার পরেই বাঁধ উপচে জল ঢুকেছে কাকদ্বীপ শহরে। হাসপাতাল পরিসর জলের তলায়। জল ঢুকেছে ওয়ার্ডেও। বিদ্যুৎ নেই। চিকিৎসায় প্রবল সমস্য়া হওয়া সত্ত্বেও দায়িত্ব পালনে অবিচল চিকিৎসকরা। প্যান্ট গুটিয়ে বা গামছা পরে চিকিৎসা পরিষেবা চালু রেখেছেন ‘ঈশ্বররা।’

কাকদ্বীপ হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা চলছে। রোগীর আত্মীয়-পরিজনদের হাসপাতালে যেতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। তার সঙ্গে সমস্যা আরও বাড়িয়েছে সাপ। চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, হাসপাতালে জলের মধ্যে প্রচুর সাপ ঢুকে গিয়েছে। সাপের ভয় দূরে সরিয়েই জলে পা ডুবিয়ে পরিষেবা সচল রেখেছেন তাঁরা। যাতে কোনও সমস্যা বা দুর্ঘটনা না ঘটে তাই মঙ্গলবার রাত থেকেই বিদ্যুৎহীন কাকদ্বীপ হাসপাতাল। সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন চিকিৎসকদের কাছে। রাতের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে অনুমান কর্তৃপক্ষের। তবে ইয়াসের শক্তিক্ষয় হলেও থাকছে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। তাই সব বাধা-বিপত্তি কাটিয়েই চিকিৎসা পরিষেবা সচল রাখার চেষ্টা করে চলেছেন চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুন: ভাঙল বহু বাঁধ, ক্ষতিগ্রস্ত ১ কোটি মানুষ, আকাশপথে এলাকা পরিদর্শন করবেন মমতা

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla