চোখের সামনে পড়ে থাকবে, তবু কোনোদিন মার্কিন সেনার ফেলে আসা ৭৩ টি বিমান ওড়াতে পারবে না তালিবান

গতকাল মধ্যরাতে কাবুল বিমানবন্দর থেকে মার্কিন সেনার শেষ বিমানটি ওড়ানো হয়েছে।

চোখের সামনে পড়ে থাকবে, তবু কোনোদিন মার্কিন সেনার ফেলে আসা ৭৩ টি বিমান ওড়াতে পারবে না তালিবান
ফাইল ছবি
Follow Us:
| Edited By: | Updated on: Aug 31, 2021 | 9:58 AM

কাবুল: ২০০১ থেকে বিমান, অস্ত্র অনেক কিছুই পাঠিয়েছে আমেরিকা। হাজার হাজার সৈন্য পাঠানো হয়েছে সন্ত্রাস দমনে। তবু শেষ রক্ষা হল না। ২০ বছর পর ফের ইতিহাসের পুনরাবৃ্ত্তি ঘটিয়ে কাবুলের মসনদে প্রবেশ করেছে তালিবান। আর ২০ বছরের যুদ্ধ শেষ করে গত রাতেই কাবুল ছেড়েছে মার্কিন সৈন্য। কিন্তু প্রশ্ন একটা থেকেই যাচ্ছিল। আমেরিকার ফেলে আসা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র নিয়ে কী করবে তালিবান, কী হবে আমেরিকার ওই সব অত্যাধুনিক এয়ারক্রাফট বা গাড়িগুলির ভবিষ্যৎ? বাকিটা জানা না গেলেও পেন্টাগন এটুকু নিশ্চিত করেছে যে আমেরিকার ফেলে আসা বিমান কোনোদিন আর ওড়ানো যাবে না। কাবুল বিমানবন্দর ছাড়ার আগেই সেগুলিকে বিকল করে দিয়ে আসা হয়েছে।

শুধু এয়ারক্রাফট নয়, সেই সঙ্গে রকেট হামলার মোকাবিলা করার বিশেষ ‘রকেট ডিফেন্স সিস্টেম’গুলিও বিকল করে দেওয়া হয়েছে। হামি কারজাই বিমানবন্দরে আগেই নিয়ে আসা হয়েছিল মার্কিন সেনার অন্তত ৭৩টি বিমান। চেষ্টা করলেও তালিবান বা অন্য কেউ আর ওড়াতে পারবে না সেগুলি। অকেজো হয়েই আফগানিস্তানের মাটিতে পড়ে থাকবে সেগুলি। শুধু এয়ারক্রাফট নয়, হামভিজ নামে বেশ কয়েকটি গাড়িও ফেলে গিয়েছে আমেরিকা। শেষ বিমানে যে সব কিছু নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, তা আগে থেকেই অনুমান করা হয়েছিল। তাই তালিবান যাতে সেগুলো ব্যবহার করতে না পারে, সেই ব্যবস্থাই করা হয়েছে।

মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছেন, আগে থেকেই ৭৩টি বিমান নিয়ে আসা হয়েছিল কাবুল বিমানবন্দরে। আর সেগুলি সবই বিকল করে দেওয়া হয়েছে। গত ২ সপ্তাহ ধরে উদ্ধারকাজ চালানোর পর বিকল করা হয়েছে সেগুলি। জেনারেল ম্যাকেঞ্জি বলেন, ‘ওগুলো আর কোনোদিনই উড়বে না। ওরা কোনোদিন ওগুল ওড়াতে পারবে না। তিনি আরও জানিয়েছেন, অন্তত ৭০টি সাজোয়া গাড়িও ফেলে এসেছে আমেরিকা, আর সেগুলিও চালাতে পারবে না তালিবান। ওই গাড়িগুলির একেকটির দাম ১০ লক্ষ ডলা বলে জানা গিয়েছে। গত ১৪ অগস্ট যে এয়ারলিফট করার প্রক্রিয়া শুরু হয়, তার জন্য কাবুল বিমানবন্দরে মোতায়েন করা হয়েছিল ৬০০০ সৈন্য।

এ ছাড়া রকেট হামলার মোকাবিলা করার জন্য আমেরিকার বিশেষ সিস্টেমও রেখে যাচ্ছে তারা। সোমবারও ইসলামিক স্টেটের হামলার হাত থেকে রক্ষা করেছে ওই সিস্টেম। সেটাও বিমান ছাড়ার আগে বিকল করে দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এগুলি সব কার্যকর করে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল পেন্টাগনের তরফে। আর এগুলি ভেঙে ফেলা অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার, তাই এগুলি নিস্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন: পরপর গুলির শব্দ, আমেরিকার শেষ বিমান অন্ধকারে মিলিয়ে যেতেই বন্দুক উঁচিয়ে শুরু তালিবানের উল্লাস