পরপর গুলির শব্দ, আমেরিকার শেষ বিমান অন্ধকারে মিলিয়ে যেতেই বন্দুক উঁচিয়ে শুরু তালিবানের উল্লাস

এখনও অনেক মার্কিন নাগরিক আফগানিস্তানে আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

পরপর গুলির শব্দ, আমেরিকার শেষ বিমান অন্ধকারে মিলিয়ে যেতেই বন্দুক উঁচিয়ে শুরু তালিবানের উল্লাস
আফগানিস্তানের আকাশে বাজি ফাটাল তালিবান (ছবি- টুইটার থেকে প্রাপ্ত)

কাবুল: আফগানিস্তানের মাটি থেকে উড়ে গেল আমেরিকার শেষ বিমান। ৩১ অগস্টের মধ্যেই সেনা সরানোর কথা বলেছিল আমেরিকা। সেই মতো ৩০ তারিখ মধ্যরাতেই রওনা হয়েছে সেই বিমান। আর সেই বিমান উড়ে যেতেই আফগানিস্তানের আকাশে ধরা পড়ল উল্লাসের ছবি। তালিবানের দাবি, ২০ বছর পর এ দিন পূর্ণ স্বাধীনতা পেল আফগানিস্তান। তাই রাতের আকাশে বাজি ফাটিয়ে সেই ‘স্বাধীনতা’ উদযাপন করে তারা। সোমবার রাতে বিমান ওড়ার পরই কাবুলের বিভিন্ন জায়গায় শোনা যায় গুলির শব্দ।

তালিবানের মুখপাত্র জাবিবুল্লাহ মুজাহিদ মার্কিন সেনার সরে যাওয়াকে আফগানিস্তানের পূর্ণ স্বাধীনতা বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমেরিকার সেনা কাবুল বিমানবন্দর ছাড়ল। সেই সঙ্গে আমাদের দেশ পূর্ণ স্বাধীনতা পেল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে পাওয়া ছবিতে দেখা গিয়েছে, কাবুল বিমানবন্দর থেকে ওড়ার পর যখন রাতের আকাশে একটু একটি করে মিলিয়ে যাচ্ছে মার্কিন সেনার শেষ বিমান, সেই দৃশ্য আফগানিস্তানের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রত্যক্ষ করেছে তালিবান। এরপরই তাদের ‘উৎসব’ শুরু হয়ে যায়।

কাবুল বিমানবন্দরে থাকা এক তালিব সদস্য হেমাদ শেরজাদ বলেন, ‘আমি আমার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। ২০ বছর ধরে আমরা যে আত্মত্যাগ করেছি, তারপর অবশেষে এই দিন এল। পেন্টাগনের তরফে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি ঘোষণা করেন, ‘আফগানিস্তান থেকে সেনা সরানোর কাজ শেষ হল ও আমেরিকানদের উদ্ধারকাজও শেষ হল।’

৩১ অগস্ট উদ্ধারকাজের শেষ দিন হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শুধু আমেরিকান নয়, বহু আফগান যারা মার্কিন সেনার জন্য কাজ করেছিল, তাদেরও উদ্ধার করা হয়েছে গত দু’সপ্তাহে। তারপরও কেনেথ ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছেন, যারা আফগানিস্তান ছাড়তে চেয়েছিলেন, এমন অনেককেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে কাবুল বিমানবন্দর ছাড়ার সময় সেখানে আর কেউ বাকি ছিলেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। কার্যত ২০ বছরের এক ইতিহাস পিছনে ফেলে গেল এ দিন মার্কিন সেনা।

মার্কিন এয়ার ফোর্সের সি-১৭ গ্লোবমাস্টারে বিমানবন্দর ছাড়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্য ও বেশ কয়েকজন আধিকারিক। জানা গিয়েছে, বিমানে সেনাবাহিনীর সদস্য ছাড়াও ছিলেন কমান্ডাররা। এ ছাড়া ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত রস উইলসন। দূতাবাস সম্পূর্ণ বন্ধ করে আমেরিকায় উড়ে গেলেন তিনি। গত কয়েকদিনে তালিবান কাবুল দখল করার পর থেকেই উদ্ধারকাজ জারি রেখেছিল মার্কিন সেনা। অন্তত ১ লক্ষ ২৩ হাজার মানুষকে উদ্ধার করেছে তারা। গতকাল, রাতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বিমানটি বিমানবন্দর ছাড়ে। কারণ, গত কয়েকদিনের পর পর দু’টি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে কাবুল বিমানবন্দরে। একটি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জন মার্কিন সেনা। আরও পড়ুন: আফগানরা ফিরতে পারবে তো? তালিবানের দেওয়া কথাই মনে করিয়ে দিল রাষ্ট্রপুঞ্জ

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla