গগনচুম্বী বুর্জ খলিফার গায়ে ভেসে উঠল বাংলাদেশের মোশারফের ছবি, স্যালুট জানাল মরুশহর
শিক্ষক হতে চাইতেন মোশারফ (Mosharraf Hossain)। কিন্তু পরিবারের কথা ভেবে একটু ভালভাবে বাঁচার তাগিদে ২০০৩ সালে আরবে যান তিনি।
৩৮ বছর বয়সী মোশারফ দুবাইয়ের এক সংবাদমাধ্যমকে জানান, “সে সময় আমি বুঝতে পারিনি এটা কী হতে চলেছে। আমার জীবনেই বা এর ভূমিকা কী হবে।” কিন্তু ১৬ এপ্রিলের পর বদলে গিয়েছে তাঁর জীবন। অনেকেই এখন তাঁকে আলাদা করে চেনেন। বন্ধু, পরিবারের কাছ থেকে লাগাতার ফোন এসেছে। একজন ‘ফ্রন্টলাইন হিরো’কে স্যালুট জানিয়েছে সকলে।
২০০৬ সাল থেকে দুবাই মিউনিসিপ্যালিটিতে কাজ করেন মোশারফ হোসেন। পেস্ট কনট্রোল বিভাগের কর্মী তিনি। পোকামাকড় মারতে পুরসভার যে সমস্ত উদ্যোগ, তাঁর দফতর সে কাজই করে। ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে যখন করোনার প্রথম ঢেউ চলছে, তখন রাতভর পিপিই কিট করে দুবাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় জীবাণুনাশক ছড়িয়েছেন তিনি। রীতিমত প্রশিক্ষণ নিয়ে এই কাজটা করেছিলেন। এমনও হয়েছে, বহু এলাকায় সংক্রমণের জন্য প্রবেশ করাও সম্ভব ছিল না। কিন্তু ড্রোনের সাহায্যে সেখানকার মানুষকে নিরাপদ রাখার সমস্ত চেষ্টা করেছেন মোশারফ।
আরবে রাতে কার্ফু চলত। দোকানপাট বন্ধ, মানুষ ঘরবন্দি। সে সময় একমাত্র পুরসভার স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা বের হতেন। মোশারফও সেই তালিকায় ছিলেন। রাত আটটা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত রাস্তাঘাটে জীবাণুনাশক ছড়ানো, পরিষ্কার করার কাজ করতেন। মোশারফের কথায়, “আমরা একটা দল কাজ করতাম। রোজই ভাবতাম কাল কী হবে। তিন, পাঁচ কিংবা সাতজনের দলে আমরা কাজ করতাম। ওরাই বলত, সকলে পারলে আমরাও পারব। আমি সাহস পেতাম। মানুষকে বাঁচাব। এটা ভাবলেই একটা আলাদা শক্তি পেতাম।”
আরও পড়ুন: ইভিএম নিতে এসে হঠাৎই শরীর অস্থির করতে থাকে, গাড়ি অবধি তোলার আগেই সব শেষ!
শিক্ষক হতে চাইতেন মোশারফ। কিন্তু পরিবারের কথা ভেবে ২০০৩ সালে আরবে যান তিনি। গত ১৬ এপ্রিল ‘ফ্রন্টলাইন হিরোজ ইউএই’ নামে একটি ফেসবুক পেজে ৩ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়। সেখানে বুর্জ খলিফার গায়ে আলোর খেলায় ভেসে ওঠে ঢাকা থেকে ১০৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চাঁদপুরের এই যুবকের মুখ। সঙ্গে লেখা, ‘আপনারা ভ্যাকসিন নিয়ে আমাদের হিরোদের সমর্থন জানান।’