AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

বিশ্বের বৃহত্তম কবরস্থান: ভূতের হাতে ‘মার’ খেয়ে কেউ ভর্তি হাসপাতালে, কেউ বা পক্ষাঘাতে আক্রান্ত

জায়গার অভাব, অন্যদিকে ভূতের উপদ্রব- দুই মিলিয়ে কর্মচারীদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হলেও ওয়াদি-উস-সালামে(Wadi-us-Salaam) মৃতদেহ কবর দেওয়ার লাইন বেড়েই চলেছে প্রতিনিয়ত।

| Updated on: Mar 19, 2021 | 1:59 PM
Share
শক্ত করে দড়ি দিয়ে বাঁধা রয়েছে মৃতদেহ। অতি সাবধানে কবর দেওয়ার সময় কবরস্থানের কর্মীর গালে সপাটে এক চড় কষাল মৃতদেহ। হকচকিয়ে গেলেন ওই কর্মী। মৃতদেহ কীভাবে চড় মারতে পারে?- এই প্রশ্নই প্রতিদিন কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল বছর ২৩-র ওই কর্মীকে। বছরের পর বছর কেটে গেলেও হাড় হিম করা ওই অভিজ্ঞতা ভুলতে পারেননি তিনি, শেষমেশ তাঁর ঠাই হয় মানসিক হাসপাতালে।

শক্ত করে দড়ি দিয়ে বাঁধা রয়েছে মৃতদেহ। অতি সাবধানে কবর দেওয়ার সময় কবরস্থানের কর্মীর গালে সপাটে এক চড় কষাল মৃতদেহ। হকচকিয়ে গেলেন ওই কর্মী। মৃতদেহ কীভাবে চড় মারতে পারে?- এই প্রশ্নই প্রতিদিন কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল বছর ২৩-র ওই কর্মীকে। বছরের পর বছর কেটে গেলেও হাড় হিম করা ওই অভিজ্ঞতা ভুলতে পারেননি তিনি, শেষমেশ তাঁর ঠাই হয় মানসিক হাসপাতালে।

1 / 8
প্রায় একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছিল আর এক কর্মচারীরও। বংশ পরম্পরায় এই কবরস্থানে কাজ করা ২৬ বছরের ওই কর্মচারী প্রতিদিনের মতোই কাজ করছিলেন। আচমকাই তাঁর পিছনে একটি ছায়ার উপস্থিতি অনুভব করেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রচন্ড জোরে মাথায় আঘাত নেমে আসে। এই ঘটনায় ওই যুবক এতটাই চোট পান যে এখনও সোজাভাবে হাটতে পারেন না। ওই যুবকের বিশ্বাস, এখনও তাঁর শরীরে বাস করছে অশরীরী আত্মা। সেই কারণেই কোনও চিকিৎসাতেই তাঁর সোজা হয়ে চলতে না পারার কারণ ধরা পড়ছে না।

প্রায় একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছিল আর এক কর্মচারীরও। বংশ পরম্পরায় এই কবরস্থানে কাজ করা ২৬ বছরের ওই কর্মচারী প্রতিদিনের মতোই কাজ করছিলেন। আচমকাই তাঁর পিছনে একটি ছায়ার উপস্থিতি অনুভব করেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রচন্ড জোরে মাথায় আঘাত নেমে আসে। এই ঘটনায় ওই যুবক এতটাই চোট পান যে এখনও সোজাভাবে হাটতে পারেন না। ওই যুবকের বিশ্বাস, এখনও তাঁর শরীরে বাস করছে অশরীরী আত্মা। সেই কারণেই কোনও চিকিৎসাতেই তাঁর সোজা হয়ে চলতে না পারার কারণ ধরা পড়ছে না।

2 / 8
এগুলি শুধু একটা-দুটো উদাহরণ, এ রকম হাজারো অভিজ্ঞতা রয়েছে ওয়াদি-উস-সালামের কর্মচারীদের। ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে ১৫০ কিলো মিটার দক্ষিণে নাজাফ শহরে অবস্থিত ওয়াদি-উস-সালাম বিশ্বের বৃহত্তম কবরস্থান হিসাবেই পরিচিত। শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিমদের কাছে এটি অত্যন্ত পবিত্র স্থান, অনেকে এই কবরস্থানকে 'শান্তির উপত্যকা'ও বলে থাকেন। তাঁদের বিশ্বাস, ওয়াদি-উস-সালাম স্বর্গেরই একটি অংশ। ১২জন শিয়া ইমামের মধ্যে প্রথম ছিলেন ইমাম আলি, তাঁর কবরও রয়েছে এখানেই।

এগুলি শুধু একটা-দুটো উদাহরণ, এ রকম হাজারো অভিজ্ঞতা রয়েছে ওয়াদি-উস-সালামের কর্মচারীদের। ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে ১৫০ কিলো মিটার দক্ষিণে নাজাফ শহরে অবস্থিত ওয়াদি-উস-সালাম বিশ্বের বৃহত্তম কবরস্থান হিসাবেই পরিচিত। শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিমদের কাছে এটি অত্যন্ত পবিত্র স্থান, অনেকে এই কবরস্থানকে 'শান্তির উপত্যকা'ও বলে থাকেন। তাঁদের বিশ্বাস, ওয়াদি-উস-সালাম স্বর্গেরই একটি অংশ। ১২জন শিয়া ইমামের মধ্যে প্রথম ছিলেন ইমাম আলি, তাঁর কবরও রয়েছে এখানেই।

3 / 8
ইউনেসকোর বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত এই শান্তির উপত্যকায় দীর্ঘ ১৪০০ বছর ধরে দেহ সমাধি দেওয়ার কাজ চলছে বলে মনে করা হয়। নাজাফ শহরের প্রায় ১৩ শতাংশ জুড়েই রয়েছে এই কবরস্থান। এই কবরস্থানের আয়তন ১৪৮৫ একর, যা আয়তনে প্রায় ৯০০টি রাগবি খেলার মাঠের সমান।

ইউনেসকোর বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত এই শান্তির উপত্যকায় দীর্ঘ ১৪০০ বছর ধরে দেহ সমাধি দেওয়ার কাজ চলছে বলে মনে করা হয়। নাজাফ শহরের প্রায় ১৩ শতাংশ জুড়েই রয়েছে এই কবরস্থান। এই কবরস্থানের আয়তন ১৪৮৫ একর, যা আয়তনে প্রায় ৯০০টি রাগবি খেলার মাঠের সমান।

4 / 8
বংশ পরম্পরায় বহু মানুষ এই কবরস্থানে কাজ করে আসছেন। তাঁদের কাজ খুবই সীমিত, কবরগুলির দেখভাল করা এবং মৃতদেহ কবর দেওয়ার জন্য গর্ত খোঁড়া। যারা এই কবর খোঁড়ার কাজ করেন, তারা প্রতি মাসে প্রায় ৩০০ ডলার আয় করে। মোটা অঙ্কের বেতন হওয়া সত্ত্বেও নতুন প্রজন্মের অধিকাংশই এই কাজ করতে নারাজ। কারণ অন্য কিছু নয়, ভূতের ভয়। বহু কর্মচারীই ভৌতিক ঘটনা উপলব্ধি করার পরই কাজ ছেড়ে পালিয়েছেন।

বংশ পরম্পরায় বহু মানুষ এই কবরস্থানে কাজ করে আসছেন। তাঁদের কাজ খুবই সীমিত, কবরগুলির দেখভাল করা এবং মৃতদেহ কবর দেওয়ার জন্য গর্ত খোঁড়া। যারা এই কবর খোঁড়ার কাজ করেন, তারা প্রতি মাসে প্রায় ৩০০ ডলার আয় করে। মোটা অঙ্কের বেতন হওয়া সত্ত্বেও নতুন প্রজন্মের অধিকাংশই এই কাজ করতে নারাজ। কারণ অন্য কিছু নয়, ভূতের ভয়। বহু কর্মচারীই ভৌতিক ঘটনা উপলব্ধি করার পরই কাজ ছেড়ে পালিয়েছেন।

5 / 8
এই কবরস্থানের আরও একটি বৈশিষ্ট্য হল এখানে রয়েছে এক কোটিরও বেশি মানুষের কবর। ইরাকের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০টি মৃতদেহ কবর দেওয়া হত বলে মনে করা হয়। পরবর্তী সময়ে তা কমে প্রতিদিন গড়ে ১০০টি মৃতদেহে এসে দাঁড়িয়েছে।

এই কবরস্থানের আরও একটি বৈশিষ্ট্য হল এখানে রয়েছে এক কোটিরও বেশি মানুষের কবর। ইরাকের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০টি মৃতদেহ কবর দেওয়া হত বলে মনে করা হয়। পরবর্তী সময়ে তা কমে প্রতিদিন গড়ে ১০০টি মৃতদেহে এসে দাঁড়িয়েছে।

6 / 8
প্রতিবছরই বিশ্বের নানা প্রান্তের শিয়া মুসলিমরা এখানে মৃতদেহ কবর দেওয়ার জন্য নিয়ে আসেন বা কবর দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু এত জায়গা কোথায়? ১৪০০ বছর ধরে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃতদেহ দেওয়া হয় এই ওয়াদি-উস-সালাম-এ। ফলে জায়গার অভাব দেখা দেওয়া খুবই স্বাভাবিক। এখানে কবর দেওয়ার পদ্ধতিতেও রয়েছে বিশেষত্ব। ওয়াদি-উস-সালামে রয়েছে ভূগর্ভস্থ সমাধিক্ষেত্র, যেখানে প্রতিটি সমাধিগৃহে ৫০টি মৃতদেহ রাখা যায়।

প্রতিবছরই বিশ্বের নানা প্রান্তের শিয়া মুসলিমরা এখানে মৃতদেহ কবর দেওয়ার জন্য নিয়ে আসেন বা কবর দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু এত জায়গা কোথায়? ১৪০০ বছর ধরে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃতদেহ দেওয়া হয় এই ওয়াদি-উস-সালাম-এ। ফলে জায়গার অভাব দেখা দেওয়া খুবই স্বাভাবিক। এখানে কবর দেওয়ার পদ্ধতিতেও রয়েছে বিশেষত্ব। ওয়াদি-উস-সালামে রয়েছে ভূগর্ভস্থ সমাধিক্ষেত্র, যেখানে প্রতিটি সমাধিগৃহে ৫০টি মৃতদেহ রাখা যায়।

7 / 8
তবে ২০১৪ সালে অভিযোগ ওঠে, জায়গার অভাবে বহু কবর চুরি, বেআইনি ভাবে পুনরায় বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। কবরস্থানের এক কর্মচারী জানান, তিনি আগে কখনও এত ব্যস্ত থাকতেন না। এমনকি ২০০৩-২০০৬ সালে ইরাক যুদ্ধের সময়ও মৃতদেহ কবর দেওয়ার জন্য এত চাপ ছিল না। একদিকে জায়গার অভাব, অন্যদিকে ভূতের উপদ্রব- দুই মিলিয়ে কর্মচারীদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হলেও মৃতদেহ কবর দেওয়ার লাইন বেড়েই চলেছে প্রতিনিয়ত।

তবে ২০১৪ সালে অভিযোগ ওঠে, জায়গার অভাবে বহু কবর চুরি, বেআইনি ভাবে পুনরায় বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। কবরস্থানের এক কর্মচারী জানান, তিনি আগে কখনও এত ব্যস্ত থাকতেন না। এমনকি ২০০৩-২০০৬ সালে ইরাক যুদ্ধের সময়ও মৃতদেহ কবর দেওয়ার জন্য এত চাপ ছিল না। একদিকে জায়গার অভাব, অন্যদিকে ভূতের উপদ্রব- দুই মিলিয়ে কর্মচারীদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হলেও মৃতদেহ কবর দেওয়ার লাইন বেড়েই চলেছে প্রতিনিয়ত।

8 / 8
Follow Us