চিনা ভ্যাকসিন নিয়ে সন্দেহ মধ্যপ্রাচ্যে, বিপাকে পাকিস্তান, কার্যকারিতায় আস্থা নেই বেজিংয়েরও!

সৌদি আরব চিনের ভ্যাকসিন নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সৌদি আরব চিনে তৈরি দু'টি ভ্যাকসিনের একটিকেও (সিনোফর্ম এবং সিনোভ্যাক) অনুমোদন দেয়নি।

চিনা ভ্যাকসিন নিয়ে সন্দেহ মধ্যপ্রাচ্যে, বিপাকে পাকিস্তান, কার্যকারিতায় আস্থা নেই বেজিংয়েরও!

জ্যোতির্ময় রায়: চিনের তৈরি করোন ভ্যাকসিনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমতি দেওয়ার পরেও সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং বাহরাইন-সহ মধ্য প্রাচ্য এশিয়ার অনেক দেশ চাইনিজ টিকাকে অনুমোদন দিচ্ছে না। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি তো বলেই দিয়েছে, চিনা ভ্যাকসিন নিয়েছে এমন লোকদেরকে তাদের দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এতে বিপাকে পড়ে গিয়েছে পাকিস্তান।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চিনে টিকাকরণ নিয়ে বহু সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশ্বের দ্রুততম টিকাদান সেশেলসে করা হয়। এখানে বেশিরভাগ লোককে চিনের তৈরি সিনোফার্ম ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। কিন্তু গত মে মাসে হঠাৎ করে সেশেলসে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। টিকাদানের পরেও হঠাৎ করে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

সেই থেকে সৌদি আরব, বাহারিন, ফিলিপিন্স এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলি চিনা ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে এই টিকাকে অনুমোদন দিতেও তারা অস্বীকার করে। মে মাসের শেষের দিকে দক্ষিণ চিনের সংবাদপত্র মর্নিং পোস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যে ফিলিপিন্সের নাগরিকরা চিনা ভ্যাকসিন নিতে চাইছে না কারণ এর নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে।

সৌদি আরব চিনের ভ্যাকসিন নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সৌদি আরব চিনে তৈরি দু’টি ভ্যাকসিনের একটিকেও (সিনোফর্ম এবং সিনোভ্যাক) অনুমোদন দেয়নি। সৌদি আরবের এই পদক্ষেপের ফলে চিনা ভ্যাকসিনের উপর নির্ভরশীল পাকিস্তান-সহ অন্যান্য কয়েকটি দেশ সমস্যার মধ্যে পড়ে গিয়েছে। কারণ এখান থেকে বহু সংখ্যক লোক জীবিকা উপার্জনের জন্য সৌদি আরব যায়। এবং তাঁদের শরীরে চিনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে বা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: টুইটার ব্যান, ‘কু’ করতে হাজির নাইজেরিয়ার সরকার

নয়া দিল্লির চিনা দূতাবাস আবার গত ১৫ মার্চ ঘোষণা করে যে চিনে যাওয়ার জন্য ভিসা পেতে হলে ভারতীয়ের কেবল চিনা ভ্যাকসিনই নিতে হবে, তবেই তাঁকে ভিসা দেওয়া হবে। চিনা দূতাবাসের এই শর্তের পরে অনেক ভারতীয় নাগরিক যাদের পড়াশোনা, ব্যবসা বা ব্যক্তিগত কাজে চিনে যেতে হয়, তাঁরা চিনে যাওয়ার জন্য চিনা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং চিনা ভ্যাকসিন নেয়। এর পর প্রায় তিন মাস কেটে গিয়েছে। এরই মধ্যে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি এই প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বেজিংয়ের শর্তানুযায়ী চিনা ভ্যাকসিন গ্রহণের পরেও চিনা দূতাবাস এখনও একজন ভারতীয় নাগরিককেও ভিসা দেয়নি।

প্রশ্ন উঠছে, তবে কি চিন তাদের দেশে তৈরি ভ্যাকসিনকেও বিশ্বাস করে না!

আরও পড়ুন: মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ শিবসেনা, তাহলে কি দূরত্ব কমছে প্রাক্তনের সঙ্গে ?