Tesla : শেয়ার বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে টেসলার তৃতীয় বৃহত্তম একক অংশীদারিত্বের মালিক

Leo Koguan: সম্প্রতি যখন টেসলার সঙ্গে হার্টজ গ্লোবাল হোল্ডিংসের ১ লাখ গাড়ির চুক্তি হয়, তখন টেসলার শেয়ার এক লাফে ১৩ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। আর সেই সঙ্গে লম্বা লাফ দেয় কোগুয়ানের অংশীদারিত্বও।

Tesla : শেয়ার বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে টেসলার তৃতীয় বৃহত্তম একক অংশীদারিত্বের মালিক
ইলন মাস্কের সঙ্গে লিও কোগুয়ান ( ছবি - টুইটার)

ক্যালিফোর্নিয়া: লিও কোগুয়ান। চেনেন? না চেনাটাই স্বাভাবিক! তিনি তো আর কোনও সেলেব্রিটি নন। সিঙ্গাপুরে নিজের ব্যবসা রয়েছে কোগুয়ানের। দেখতে আদ্যোপ্রান্ত ছা-পোষা ধরনের এক মানুষ। কিন্ত সিঙ্গাপুরে নিজের পেন্টহাউজে বসে বসেই তিনি স্বপ্ন দেখেন, একদিন ইলন মাস্কের টেসলা ইনকর্পোরেশনের সবথেকে বড় অংশীদার হবেন।

কী ভাবছেন! লোকটা পাগল হতে হয়ত। কিন্তু না, সিঙ্গাপুরের এই অচেনা-অজানা লোকটাই সবার অলক্ষ্যে ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক হয়ে গিয়েছেন টেসলায় বিনিয়োগ করে। এখন টেসলা ইনকর্পোরেশনের তৃতীয় বৃহত্তম একক অংশীদার তিনি। ধনকুবের ইলন মাস্ক এবং ল্যারি অ্যালিসনের পরেই টেসলায় সবথেকে বড় একক অংশীদারিত্ব রয়েছে লিও কোগুয়ানের।

সম্প্রতি এক টুইটবার্তায় তিনি বলেছেন, ইলন মাস্কের মহার মিশনের উপর তাঁর আস্থা রয়েছে। তাঁর কথায়, জীবনযুদ্ধে হার-জিত লেগেই থাকবে। কখনও তুমি জিতবে আবার কখনও হারবে। কপাল ভাল, আমি হারের চেয়ে জয়ের আনন্দ বেশি উপভোগ করেছি।

সম্প্রতি লিও কোগুয়ানের ব্যাঙ্কের রেকর্ড এবং তার বিনিয়োগের বিষয়ে ওয়াকিবহাল ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ব্লুমবার্গ নিশ্চিত করেছে, ওই ব্যবসায়ীর সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তিনি ৬.৩১ মিলিয়ন টেসলা শেয়ারের মালিক। কোগুয়ান তার ব্যবসায়িক সম্পত্তির জন্য একটি নো-ফ্রিলস রোডম্যাপ তৈরি করেছিলেন। তিনি একটি একক অংশীদারিত্বে বিনিয়োগের চিন্তাভাবনা করেছিলেন। কোগুয়ান ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে টেসলা শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। শেয়ার এবং অপশন উভয়ই কিনেন তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি যখন টেসলার সঙ্গে হার্টজ গ্লোবাল হোল্ডিংসের ১ লাখ গাড়ির চুক্তি হয়, তখন টেসলার শেয়ার এক লাফে ১৩ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। আর সেই সঙ্গে লম্বা লাফ দেয় কোগুয়ানের অংশীদারিত্বও। এখন আরও বেশি অংশীদারিত্ব পাওয়ার উচ্চাকাঙ্খা রয়েছে কোগুয়ানের। তিনি এখন বলেন, “আমি এখন পুরোপুরিভাবে এর মধ্যে ঢুকে গিয়েছি। এখন আমার হাতে যা অর্থ আসবে, সব টেসলায় বিনিয়োগ করব।”

আমেরিকায় এসএইচআই ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন নামে তাঁর একটি সংস্থা রয়েছে। নিউ জার্সির সমারসেটের বাইরে একটি সফ্টওয়্যার সংস্থা। বছরে আয় প্রায় ১১.১ বিলিয়ন ডলার। চিনে বেশ কিছু প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুদানও দেন তিনি। সম্প্রতি ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জেমস ডাইসনের থেকে ৪৬ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে সিঙ্গাপুরের একটি পেন্টহাউজ কিনে নেন। সেই সময় সংবাদ শিরোনামেও এসেছিল কোগুয়ানের নাম।

শুরু থেকেই কিছু বিলাসবহুল জীবন পছন্দ করতেন কোগুয়ান. অতীতের বেশ কিছু রিপোর্টে এমনটাই দেখা গিয়েছে। ২০০৮ সালে কোগুয়াল বিলাসবহুল হোটেলের ব্যবসার সঙ্গ যুক্ত ছিলেন সাংঘাইতে। সেই সময়েই বেন্টলির কনভার্টেবল গাড়ি চড়তেন তিনি। পরে ২০১৯ সালে শেয়ার বাজার বিনিয়োগ শুরু করেন তিনি। কোগুয়ান নিজেকে একজন রিটেল ইনভেস্টর হিসেবেই বর্ণনা করেন। সেই সময় প্রথমে বাইডু, নিও, এনভিডিয়া সহ অন্যান্য বেশ কিছু সংস্থায় বিনিয়োগ করেন তিনি। শুরুতে বেশ লাভের মুখ দেখলেও বছর শেষ হতে হতে ছবিটা পাল্টে যায়।

সেই সময় যেসব সংস্থার শেয়ার তিনি কিনেছিলেন, সেই সব বিক্রি করে দেন। রেখে দেন কেবল একটি সংস্থার শেয়ার। সেটি হল টেসলা। তখন থেকে ওই একটি সংস্থাতেই বিনিয়োগ শুরু করেন তিনি। লাভের মুখও দেখতে থাকেন. ২০২০ সালের শুরুর দিকে ২.৩ মিলিয়ন শেয়ার ছিল তাঁর হাতে। যার তখনকার বাজার দর ১.৫ বিলিয়ন ডলার। গতবছর লস অ্যাঞ্জেলেসে স্পেসএক্সর সদর দফতরে ইলন মাস্কের সঙ্গে দেখাও করেন তিনি।

আরও পড়ুন : Accident in US: ব্যারিকেড ভেঙে ভিড়ের মধ্যে ঢুকল SUV, নিমেষে গাড়ির চাকায় পিষ্ট একাধিক

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla