Farmers Meeting: এখনও কি প্রয়োজন আন্দোলনের? চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে মুখোমুখি ৩২টি কৃষক সংগঠন

Farmers Meeting on Protest: অধিকাংশ কৃষকই শীতকালীন অধিবেশন অবধি অপেক্ষা করে যেতে রাজি, তবে কেবল ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি গ্যারান্টির দাবি নিয়ে তারা আন্দোলন চালিয়ে যেতে রাজি নয়। একাংশের দাবি, আন্দোলন শুরু হয়েছিল কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে। সেই দাবি পূরণ হয়েছে।

Farmers Meeting: এখনও কি প্রয়োজন আন্দোলনের? চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে মুখোমুখি ৩২টি কৃষক সংগঠন
দুদিনের বৈঠকেই নির্ধারিত হবে কৃষক আন্দোলনের ভবিষ্যৎ। ছবি:PTI

চণ্ডীগঢ়: দাবি পূরণ হয়েছে কৃষকদের (Farmers), তিন কৃষি আইন (Farm Laws) প্রত্য়াহার করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে খুশি প্রকাশ করলেও শুক্রবার কৃষক নেতা রাকেশ তিকাইত (Rakesh Tikait) জানিয়েছিলেন, এখনই আন্দোলন তুলে নেওয়া হবে না। সংসদে আইন প্রত্যাহারের কাজ সম্পূর্ণ হলে এবং কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (MSP) আইনি গ্য়ারান্টি দেওয়া হলে, তবেই প্রায় এক বছর ধরে চলা আন্দোলনে ইতি টানা হবে। তবে পঞ্জাবের ৩২ টি কৃষক সংগঠন আজই বৈঠকে বসছে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য।

আন্দোলনকারী কৃষকেরা জানিয়েছেন, আপাতত তাঁরা আন্দোলনস্থল ছেড়ে কোথাও যাবেন না। আগামিদিনে আন্দোলন কোন পথে এগোবে, নাকি এখানেই ইতি টানা হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে শনি ও রবিবার বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার সংযুক্ত কিসান মোর্চা(Samyukta Kisan Morcha)-র কোর কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কৃষক নেতা তথা সংযুক্ত কিসান মোর্চার কোর কমিটির সদস্য দর্শন পাল বলেন, “কেন্দ্র যে আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ভাল, তবে আমরা সংসদে আইন প্রত্যাহার হওয়ার পরই আন্দোলন শেষ করতে চাই। একইসঙ্গে কেন্দ্র যাতে ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি গ্যারান্টি দেওয়া হয়, সেই বিষয়েও আলোচনা করতে হবে। আমরা চাই এমএসপিতে আইনি গ্যারান্টি দেওয়া হোক।”

সংযুক্ত কিসান মোর্চার তরফে বিদ্য়ুৎ সংশোধনী আইন প্রত্যাহারের যে দাবি কেন্দ্র মেনে নিয়েছিল, তা এখনও কার্যকর হয়নি বলেও জানায় আন্দোলনকারীরা। কৃষকদের যাবতীয় দাবিগুলি পরিপূর্ণ হওয়ার পরই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে। আগামিকাল, ২১ নভেম্বর মোট ৪০টি কৃষক সংগঠন দিল্লির সিংঘু সীমান্তে বৈঠকে বসবে। আন্দোলন ও ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত ওই বৈঠকেই হবে।

সূত্রের খবর, অধিকাংশ কৃষকই শীতকালীন অধিবেশন অবধি অপেক্ষা করে যেতে রাজি, তবে কেবল ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি গ্যারান্টির দাবি নিয়ে তারা আন্দোলন চালিয়ে যেতে রাজি নয়। একাংশের দাবি, আন্দোলন শুরু হয়েছিল কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে। সেই দাবি পূরণ হয়েছে। এরপর আর আন্দোলন জারি রাখার কোনও অর্থ নেই।

আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে কৃষক নেতা বলবীর সিং রাজেওয়াল বলেন, “অত্যন্ত খুশি ও সন্তুষ্টির খবর যে কেন্দ্র অবশেষে তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ব জুড়ে সমস্ত মানুষ কিসান মোর্চাকে যে সমর্থন জানিয়েছিলেন, তার কারণেই এই আন্দোলন সফল হয়েছে। একেবারেই না হওয়ার থেকে দেরীতে হওয়া ঢের ভাল।”

কৃষক আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ রাকেশ তিকাইতও বলেন, “আমাদের কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। সংসদে এই আইন প্রত্যাহার না হওয়া অবধি শান্তি নেই। আজ বৈঠকে বসে কৃষকদের পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করা হবে।”

গতকাল আইন প্রত্য়াহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই সংযুক্ত কিসান মোর্চার তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়,”কিসান মোর্চার তরফে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। আমরা সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই তিন আইন প্রত্যাহারের কাজ শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করব। যদি সেটা বাস্তবায়িত হয়, তবে এক বছর ধরে চলে আসা কৃষক আন্দোলনের ঐতিহাসিক জয় হবে। শুধুমাত্র এই তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারই নয়, কৃষকদের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনও বকেয়া রয়েছে। কৃষকরা ফসল বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারে কাছে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দাবি নিয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিক সরকার। আমরা বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছিলাম। বকেয়া দাবি গুলি নিয়ে বৈঠকে বসবে সংযুক্ত কিসান মোর্চা। তারপরেই পরবর্তী সিদ্ধান্তের কথা জানানো হবে।”

আরও পড়ুন: Andhra Pradesh Rain: ভয়ঙ্কর রূপ স্বর্ণমুখী নদীর, একটানা বৃষ্টিতে মৃত বেড়ে ১৭, নিখোঁজ শতাধিক

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla