Cyclone Gulab: ‘তিতলি’র মতোই ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে ‘গুলাব’, ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার আগেই শুরু উদ্ধারকার্য

Evacuation Begins in Odisha: নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভবনায় শনিবার থেকেই অন্ধ্র প্রদেশের উত্তর অংশে এবং পার্শ্ববর্তী ওড়িশার দক্ষিণ উপকূলে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

Cyclone Gulab: 'তিতলি'র মতোই ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে 'গুলাব', ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার আগেই শুরু উদ্ধারকার্য
বৃহস্পতিবার গুজারাটের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ছবি:PTI

ভূবনেশ্বর: মাত্র চার মাস হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের। এরইমধ্যে ফের আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় গুলাব। রবিবার বিকেলে ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশ করলেও শনিবার থেকেই ঝড়বৃষ্টি টের পাবে ওড়িশা ও অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। বড় বিপদের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই ওড়িশা উপকূল থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, শনিবারই অন্ধ্র প্রদেশ(Andhra Pradesh)-র উত্তর উপকূলে এবং ওড়িশা(Odisha)-র দক্ষিণ উপকূলে দুটি ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ (Depression)-ও গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। রবিবার তা অতি গভীর নিম্নচাপের রূপ নেবে। রবিবার সন্ধ্যায় ওই নিম্নচাপ ওড়িশা উপকূলে পৌঁছবে। গোপালপুর ও বিশাখাপত্তনমের মাঝে কলিঙ্গপত্তনম দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে সেটি। বঙ্গোপসাগর উপকূলের নিম্নচাপটি আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভবনায় শনিবার থেকেই অন্ধ্র প্রদেশের উত্তর অংশে এবং পার্শ্ববর্তী ওড়িশার দক্ষিণ উপকূলে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব দেখা যাবে রাজ্যেও। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই সেখানে হলুদ সর্তকতা জারি করা হয়েছে। সোমবার পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির সর্তকতা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবারও জারি করা হয়েছে কমলা সর্তকতা। কলকাতা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলেই জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের নাম দেওয়া এই ঘূর্ণিঝড় গুলাব আপাতত ওড়িশার গোপালপুর থেকে ৩৭০ কিমি পূর্ব-দক্ষিণে অবস্থান করছে এবং অন্ধ্র প্রদেশের কলিঙ্গাপত্তনম থেকে ৪৪০ কিমি পূর্বে অবস্থান করছে। গত ৬ ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়টি ৭ কিলোমিটার বেগে পশ্চিমভাগে এগিয়েছে বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

ওড়িশা সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই সাতটি জেলায় উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। মূলত গঞ্জম ও গজপতিতেই ঘূর্ণিঝড়ে সবথেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওড়িশার পার্বত্য় অঞ্চলগুলিতেও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হড়পা বানের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সগঞ্জম, গজপতি, রায়গড় ও কোরাপুটের জেলাশাসকদের জেলার বাসিন্দাদের জন্য যাবতীয় সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  এই অঞ্চলগুলিতে ভূমিধস নামতে পারে বলে কাঁচা বাড়ির বাসিন্দাদের অনত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওড়িশার স্পেশাল রিলিফ কমিশনার পিকে জানা বলেন, আপাতত ওড়িশা বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (ODRAF) ৪২টি দল এবং জাতীয় বিপর্য়য় মোকাবিলা দফতরের ২৪টি দল প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়াও দমকল বিভাগের ১০২টি দলকেও গজপতি, গঞ্জম, রায়গড়, কোরাপুট, মালকানগিরি, নবরংপুর ও কান্দামাল জেলায় ইতিমধ্য়েই পাঠানো হয়েছে। গঞ্জমে সবথেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকায়, সেখানে ১৫টি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও দমকল বিভাগ, রাজ্য় ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: Weather Update: ঘূর্ণিঝড়ে সব থেকে বেশি দুর্যোগের আশঙ্কা কলকাতায়, লাল সতর্কতার তালিকায় এই এলাকাগুলিও…

Read Full Article

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla