কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক ছেড়ে মাঝপথে বেরিয়ে গেলেন সুদীপ, ত্রিপুরায় অস্বস্তি বাড়ছে বিজেপির

এমনকী, এ দিনের বৈঠকে হাতাহাতির অবস্থা তৈরি হওয়ার জোগাড় হয়েছিল বলেও জানিয়েছে সূত্র।

কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক ছেড়ে মাঝপথে বেরিয়ে গেলেন সুদীপ, ত্রিপুরায় অস্বস্তি বাড়ছে বিজেপির
সুদীপ রায় বর্মণ।

আগরতলা: বিজেপিকে মোটেও স্বস্তিতে থাকতে দিচ্ছেন না বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ। বিগত কয়েকদিন ধরেই তিনি তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছেন বলে খবর। এরই মধ্যে আবার দল পরিচালনার ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এই অবস্থায় সোমবার ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে চেয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু সূত্র জানাচ্ছে, সেই বৈঠকেও তিনি পদ্ম শিবিরের উৎকন্ঠা কমানোর বদলে বাড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকী, এ দিনের বৈঠকে হাতাহাতির অবস্থা তৈরি হওয়ার জোগাড় হয়েছিল বলেও জানিয়েছে সূত্র।

সোমবার আগরতলায় যান বিজেপির চার কেন্দ্রীয় নেতা দিলীপ সাইকিয়া, অজয় জামওয়াল, বিনোদ সোনকার ও ফণীন্দ্রনাথ শর্মা। দীর্ঘ সময় ধরে ত্রিপুরার সংগঠনের দেখভাল করেছেন তাঁরা। রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে বৈঠকও করেছেন প্রয়োজন অনুসারে। সুদীপ রায় বর্মণও সম্প্রতি কিছুটা বেসুরো হওয়ায় এ দিনও কেন্দ্রীয় নেতাদের তেমনই বৈঠক ছিল বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে। কিন্তু দেখা যায়, বৈঠক চলাকালীনই সেখান থেকে বেরিয়ে যান সুদীপ রায় বর্মণ। যেই ঘটনাটি বিজেপিকে মারাত্মক অস্বস্তিতে ফেলেছে।

যদিও সূত্রের দাবি, সুদীপ তাঁর ব্যক্তিগত কাজ আছে বলে বেরিয়ে যান। তবে আরেকটি সূত্র জানাচ্ছে, দলের রাজ্য সভাপতি মানিক সাহার দল পরিচালনা নিয়ে এ দিনের বৈঠকে ক্ষোভ জানান সুদীপ। এমনকী, বৈঠকে উত্তপ্ত বাদানুবাদের জেরে এক সময় ধাক্কাধাক্কির পরিবেশও তৈরি হয়।

তবে সুদীপের সঙ্গে রবিবার মঞ্চ ভাগ করে নেওয়া দুই বিজেপি বিধায়কের ভূমিকা নিয়ে এ দিনের বৈঠকে প্রশ্ন ওঠে বলে খবর। আশিস সাহা ও আশিস দাস নামক দুই বিধায়ক গতকাল দল নিয়ে প্রকাশ্যে তাঁদের অসন্তোষ ব্যক্ত করেন। এই ঘটনায় যে কেন্দ্রীয় নেতারা রীতিমতো ক্ষুব্ধ, তা বুঝিয়ে দেওয়া হয় আজকের বৈঠকে। রবিবারই সুদীপ চার বিধায়ক ও হাজার দেড়-দুয়েক কর্মী সমর্থকদের নিয়ে একটি পৃথক কর্মসূচি করেছিলেন। যেখানে দল পরিচালনা নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সঙ্গেও যে তাঁর সম্পর্ক অম্ল মধুর, সে বিষয়ে ওয়াবহাল রাজনৈতিক মহল। এই সবের পর আজকের বৈঠক চলাকালীন তা ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন সুদীপ। তাঁর এই আচরণ বিজেপির পক্ষে অশনি সঙ্কেত কি না, এই নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে ত্রিপুরার রাজনীতিতে।

পাশাপাশি সমগ্র ঘটনাপ্রবাহ কৌতুহল বাড়াচ্ছে বঙ্গ রাজনৈতিক মহলেরও। কেননা, একসময় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সুদীপ রায় বর্মণ মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ বলে জানা যায়। মুকুল রায়ের ঘর ওয়াপসির সঙ্গেই যাযুজ্য রেখে একটু একটু করে দলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন সুদীপ। দিনচারেক আগে তিনি সদলবলে কলকাতায় এসে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও জানা যায়। ফলে ত্রিপুরার রাজনীতির পট এ বার আদৌ পরিবর্তন হয় কি না, সেইদিকেই নজর থাকছে বাংলার রাজনীতিকদের। আরও পড়ুন: বিজেপিতে ভাঙন বিপ্লব-গড়ে, সদলবদলে ঘাসফুলে নাম লেখালেন প্রায় ৭০০ পদ্ম-কর্মী

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla