দলীয় নেতাদের জামিনের পর রাতেই কলকাতায় ফিরছেন অভিষেক, ত্রিপুরায় ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন বিপ্লব দেব

Tripura: যদিও প্রবীণ বিজেপি নেতা তথাগত রায়ের দাবি, ঝামেলা করতে তৃণমূল বিমানে চাপিয়ে লোক নিয়ে যাচ্ছে ত্রিপুরায়।

দলীয় নেতাদের জামিনের পর রাতেই কলকাতায় ফিরছেন অভিষেক, ত্রিপুরায় ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন বিপ্লব দেব
ফাইল চিত্র।

আগরতলা: দলের ১৪ জন নেতার জামিনের পরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। খোয়াই আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে অভিষেকের হুঙ্কার “বিপ্লববাবুর শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে। আর বিজেপিকে কী করে হারাতে হয় তৃণমূল কংগ্রেস জানে।” রবিবার রাতেই কলকাতায় ফিরছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে থাকবেন জামিন পাওয়া জয়া দত্ত, সুদীপ রাহারা।

ত্রিপুরায় গিয়ে অতিমারি আইন ভাঙার অভিযোগে তৃণমূলের ১৪ জন নেতাকে গ্রেফতার করে স্থানীয় খোয়াই থানার পুলিশ। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সকালেই বিপ্লব-রাজ্যে পৌঁছন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, ব্রাত্য বসু, কুণাল ঘোষ। থানায় গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করেন অভিষেক। দাবি একটাই, দলীয় নেতাদের জামিন। বিকেলের পর জামিনও পান দেবাংশু ভট্টাচার্য, জয়া দত্ত, আশিসলাল সিংরা।

এরপরই আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “চাকরি বাঁচাতে, পদ বাঁচাতে পুলিশকে এসব করতে হচ্ছে। বিপ্লব দেবের সরকারের অবসান দরকার। বিপ্লব দেবের সরকার যদি মনে করে থাকে তৃণমূল কংগ্রেসকে ইট মেরে, পাথর ছুঁড়ে ভয় দেখানো যাবে! তবে তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের উপর আঘাত করে তাদের ভিত নড়ানো যাবে না।”

অভিষেকের দাবি, এই পরিস্থিতি প্রমাণ করছে বিজেপির হাতে ত্রিপুরা ১০০ বছর পিছিয়ে গিয়েছে। কোনও উন্নয়নই হয়নি। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ অভিষেকের সংযোজন, “আমাদের সদস্যরা কোনওরকম চিকিৎসা পায়নি। মাথায় চোট লেগেছে। ন্যূনতম সহায়তা করা হয়নি। বাইরে বিজেপির গুণ্ডারা রয়েছে বলে পুলিশ বলল ওরা থানায় থাকুক। তা না হলে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি সামলানো যাবে না। কিন্তু রবিবার ভোরে হল উল্টো। সেখানে তাদের গ্রেফতার করা হল। বলল আপনারা মহামারী আইন ভেঙেছেন। আর বিজেপির সদস্যরা যে সংবাদমাধ্যমের সামনে এত জমায়েত করেছিল, সেটা মহামারী আইন ভাঙা নয়?”

এদিন ত্রিপুরায় দাঁড়িয়ে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “ভারতবর্ষের আইন সব রাজ্যের জন্য সমান। ত্রিপুরা কি আলাদা দেশ? নাকি সেটা মঙ্গল গ্রহে? নাকি বিজেপি সরকার ত্রিপুরা কিনে নিয়েছে? দেশের আইন তো সকলের জন্য সমান। তৃণমূল, কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম সকলের জন্য। কিন্তু আমাদের সদস্যরা রাস্তায় বেরোলেই তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। জায়গায় জায়গায় বিজেপির দুষ্কৃতীরা জমায়েত করছে, পাথর ছুঁড়ছে। রড, বল্লম, দাঁ দিয়ে আক্রমণ করছে। তখন পুলিশ কিছু দেখতে পাচ্ছে না।”

২০২৩ সালে বিজেপি শাসিত ত্রিপুরায় বিধানসভা ভোট। সেই ভোটে বিপ্লব দেবের সরকারকে পর্যুদস্ত করার ডাক দিয়ে এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি, “এই দ্বিচারিতা বেশিদিন চলবে না। ১৭ কী ১৮ মাস! বিপ্লববাবুর শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে। আর বিজেপিকে কী করে হারাতে হয় তৃণমূল কংগ্রেস জানে।”

তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় এদিন জানিয়েছেন, “যে ভাবে ত্রিপুরাতে তৃণমূল নেতাদের উপর বর্বরোচিত হামলা হয়েছে তার প্রতিবাদে সোমবার সংসদের গান্ধী মূর্তির সামনে সকাল সাড়ে ১০টায় আমাদের দলের রাজ্যসভা ও লোকসভার সমস্ত উপস্থিত সাংসদ বিক্ষোভ প্রদর্শন করব।”

এই ঘটনাকে ত্রিপুরার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসাবে দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। টুইটারে বিপ্লব দেব লেখেন, “ত্রিপুরার উন্নয়নের গতিকে রুখে দিতে সক্রিয় একটা অংশ, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে রাজ্যে ষড়যন্ত্র করছে।  কিন্তু ত্রিপুরার সচেতন নাগরিক, ত্রিপুরেশ্বরী মায়ের এই ভূমিতে কোনও ধরনের ষড়যন্ত্র সার্থক হতে দেবেন না।”

ত্রিপুরা প্রসঙ্গে প্রবীণ বিজেপি নেতা তথাগত রায়ের দাবি, ঝামেলা করতে বিমানে চাপিয়ে লোক নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ত্রিপুরায়। ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায় বলেন, “ত্রিপুরায় এর আগে এমন কোনও ঘটনার কথা শোনা যায়নি। হঠাৎ সেখানে প্লেন ভর্তি করে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের টাকায় তৃণমূলের কিছু লোক চলে গেল। গিয়েই শুরু অশান্তি। এর থেকে কী মনে হয়, এরাই অশান্তি করতে গিয়েছে। এদের যে মারধর, খুন খারাপি করার স্বভাব সেটা তো পশ্চিমবঙ্গেই বোঝা যাচ্ছে। ১৪০-এর উপরে লোক খুন হয়েছে ভোটের আগে এবং পরে। এর আগে কখনও ত্রিপুরায় এ ধরনের অশান্তির খবর শোনা যায়নি।” আরও পড়ুন: জামিন দেবাংশু, সুদীপ, জয়াদের! তখনও থানায় ঠায় বসে অভিষেক

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla