AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

প্রধানমন্ত্রী মোদীর সূক্ষ কূটনীতিতেই গ্লোবাল সফট পাওয়ার হয়ে উঠছে ভারত

WITT: শুধু উন্নয়নই নয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বাঁচাতেও উদ্যোগী ভারত। এর সাম্প্রতিক উদাহরণ হল, বিশেষ প্রদর্শনীর জন্য ভগবান বুদ্ধের দেহাবশেষ ভারত থেকে থাইল্যান্ডে পাঠানো হচ্ছে। এই বিরল প্রত্নবস্তুগুলি AA শ্রেণির অন্তর্গত। এগুলি অত্যন্ত পুরনো ও ভঙ্গুর প্রকৃতির হওয়ায়, তা প্রদর্শনীর জন্য ধার দেওয়া হয় না।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর সূক্ষ কূটনীতিতেই গ্লোবাল সফট পাওয়ার হয়ে উঠছে ভারত
Image Credit: TV9 Bharatvarsh
| Updated on: Feb 22, 2024 | 12:26 PM
Share

নয়া দিল্লি: দেশের এক নম্বর নিউজ নেটওয়ার্ক TV9  আয়োজন করেছে বার্ষিক সম্মেলন, ‘হোয়াট ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুডে’। আগামী ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এই সম্মেলন। এটি TV9  নেটওয়ার্কের বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় সংস্করণ। এই অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত থাকবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বরাও উপস্থিত থাকবেন এই সম্মেলনে। এই অনুষ্ঠানের থিম রাখা হয়েছে, “ইন্ডিয়া: পয়েজড ফর দ্য নেক্সট বিগ লিপ”।

আগামী ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারত কীভাবে একটি শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর দেশ হয়ে উঠবে, তা নিয়েই বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উন্নয়নের রোডম্যাপ নিয়ে হবে আলোচনা। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারত কীভাবে বিশ্বের কাছে “সফট পাওয়ার” হিসাবে উঠে এসেছে, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে। ক্রীড়া থেকে বিনোদন, স্বাস্থ্য-সংস্কৃতি সহ সমস্ত বিষয় নিয়েই হবে আলোচনা।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শাসনকালে বিশ্বে উজ্জ্বল হয়েছে ভারতের ভাবমূর্তি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে সমাদৃত হচ্ছে ভারত। তা সে শিল্পই হোক বা সংস্কৃতির প্রচার। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করা থেকে বাণিজ্যিক বৃদ্ধি-সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ভারত। বিশেষ করে করোনাকালে যেভাবে ভ্যাকসিন দিয়ে বিশ্বের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত, তা বিপুল প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় এগিয়ে চলেছে ভারত-

শুধু উন্নয়নই নয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বাঁচাতেও উদ্যোগী ভারত। এর সাম্প্রতিক উদাহরণ হল, বিশেষ প্রদর্শনীর জন্য ভগবান বুদ্ধের দেহাবশেষ ভারত থেকে থাইল্যান্ডে পাঠানো হচ্ছে। এই বিরল প্রত্নবস্তুগুলি AA শ্রেণির অন্তর্গত। এগুলি অত্যন্ত পুরনো ও ভঙ্গুর প্রকৃতির হওয়ায়, তা প্রদর্শনীর জন্য ধার দেওয়া হয় না। বিগত পাঁচ দশকে মাত্র আটবার এই দেহাবশেষ ভারতের বাইরে পাঠানো হয়েছে। ১৯৭৬ ও ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কায়  পাঠানো হয়েছিল এই দেহাবশেষ। ১৯৯৩ ও ২০২২ সালে মঙ্গোলিয়া, ১৯৯৪ ও ২০০৭ সালে সিঙ্গাপুর, ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ওই বছরই থাইল্যান্ডে কিছুদিনের প্রদর্শনীর জন্য পাঠানো হয়েছিল।

সংস্কৃতি প্রচার-

বুদ্ধের দেহাবশেষের এই প্রদর্শনীটির জন্য বিশেষ অনুরোধ এসেছিল থাই সরকারের তরফে। বৌদ্ধ সন্ন্যাসী সহ ২২ সদস্যের প্রতিনিধিদল গৌতম বুদ্ধের এই দেহাবশেষ নিয়ে যাবে থাইল্য়ান্ডে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নত করতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘সফট’ কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এটি। সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিব গোবিন্দ মোহন এই উদ্যোগকে ভারত-থাইল্যান্ডের পারস্পরিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে উল্লেখ করেছেন। দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ককে আরও উন্নত করবে এই উদ্য়োগ, এমনটাই তিনি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ, মঙ্গোলিয়া, লিবিয়ায় ভারতীয় মিশনে কর্মরত রাষ্ট্রদূত অনিল ত্রিগুনায়াত বলেন, “বৌদ্ধধর্ম ভারতের সাংস্কৃতিক ও সভ্যতার ঐতিহ্য। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র এটি।”

পাণ্ডুলিপি বিনিময়-

রাষ্ট্রদূত ত্রিগুনায়াত বলেছেন যে ভারত সরকার বিশ্বে বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার এবং এর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ককে মজবুত করেছে। বৌদ্ধ সার্কিট তৈরি করে ধর্মীয় তীর্থযাত্রাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং তথ্য, ধ্বংসাবশেষ ও পাণ্ডুলিপির আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করেছে সরকার। এই সবই উদ্যোগ বৃহত্তর ও গভীর জনসম্পর্ক তৈরি করে। পাকিস্তান এবং সিঙ্গাপুরে প্রাক্তন ভারতীয় হাইকমিশনারও বলেছেন যে এই উদ্যোগকে লেনদেন বা সুবিধার প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত নয়। ভারতেই যেহেতু বৌদ্ধধর্মের প্রথম উত্থান ঘটেছিল, তাই এটি আমাদের দায়িত্বও।

 স্মার্ট শক্তি

দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের সংস্কৃতির অন্যতম প্রচারক ছিল কেবল বলিউড। কিন্তু মোদী সরকারের আমলে ভারত “সফট পাওয়ার” হিসাবে উঠে এসেছে এবং বিকশিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রচেষ্টাতেই রাষ্ট্রপুঞ্জ ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসাবে ঘোষণা করেছে এবং ২০২৩ সাল আন্তর্জাতিক মিলেট বর্ষ  হিসাবে পালিত হয়েছে।

যেখানে যুদ্ধ জয়ের জন্য অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি জরুরি, সেখানেই জনমত অর্জনের জন্য প্রয়োজন সফট পাওয়ার।   প্রবাসী ভারতীয়দের কাছে পৌছনোর জন্য ভারত সরকার একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা করেছে। বিদেশে ভারতীয় ভাবমূর্তি গঠনে প্রবাসী ভারতীয়দের ভূমিকাকে তুলে ধরা ও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

ভারতের প্রভাব বিস্তারে জোর-

ভারতের সফট পাওয়ারের অন্যতম উদাহরণ হল,  কোভিডকালে  পিছিয়ে পড়া দেশগুলিকে ভ্যাকসিন পাঠানো,  জি-২০ সম্মেলনে বাজরা কেন্দ্রিক মেনু পরিবেশন, আফগানিস্তানে সালমা বাঁধ নির্মাণ এবং কম্বোডিয়ার আঙ্কোরভাট মন্দিরের পুনরুদ্ধারের জন্য অর্থ বরাদ্দ৷ এই প্রচেষ্টাগুলি বিশ্বমঞ্চে ভারতের প্রভাব বাড়াতে সাহায্য করেছে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্ব এবং বিশ্বনেতা হিসাবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।

Follow Us