করোনাকালে শিশুদের দেহেও ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের হানা, কোন কোন ওষুধে মিলবে মারণ সংক্রমণ থেকে মুক্তি?

সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, করোনা আক্রান্ত কোনও শিশুর মধ্যে যদিমিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ দেখা যায়, তবে কালচার রিপোর্টের অপেক্ষা না করে দ্রুত যেন চিকিৎসা শুরু করা হয়।

করোনাকালে শিশুদের দেহেও ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের হানা, কোন কোন ওষুধে মিলবে মারণ সংক্রমণ থেকে মুক্তি?
মিউকরমাউইকোসিসে আক্রান্ত এক রোগীর মুখে অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে। ছবি:PTI

নয়া দিল্লি: কেবল করোনা সংক্রমণই নয়, গোঁদের উপর বিষফোঁড়া হিসাবে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে মিউকরমাইকোসিস (Mucormycosis) বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস (Black Fungus)। এ দিকে, দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ কমতে না কমতেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে তৃতীয় ঢেউ নিয়ে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে শিশুদের করোনা ও ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের চিকিৎসা নিয়ে গাইডলাইন জারি করা হল।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অধীনে ডিরেক্টর জেনারেল অব হেলথ সার্ভিস(Directorate General of Health Services)-র তরফে একটি গাইডলাইন জারি করে শিশুদের মধ্য মিউকরমাইকোসিসের চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, করোনা আক্রান্ত কোনও শিশুর মধ্যে যদিমিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ দেখা যায়, তবে কালচার রিপোর্টের অপেক্ষা না করে দ্রুত যেন চিকিৎসা শুরু করা হয়, যাতে তাদের মুখমন্ডলীর কোনও অংশ বাদ না দিতে হয়। এছাড়াও চিকিৎসা চলাকালীন কিডনি ও দেহে ইলেকট্রোলাইটের মাত্রা কড়া নজরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা পদ্ধতি-

শিশুদের দেহে মিউকরমাইকোসিসের চিকিৎসার জন্য বেশ কয়েকটি ওষুধের নাম উল্লেখ করেছে কেন্দ্র। এগুলি হল- অ্যাম্ফোটেরিন বি, লাইপোসোমাল অ্যাম্ফোটেরিন বি ও পোজ়াকোনাজ়ল। মূলত এই ওষুধগুলিই বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন মাত্রায় প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অ্যাম্ফোটেরিন বি(Amphotericin B)– আইভি ইনফিউশনের মাধ্যমে অ্যাম্ফোটেরিন বি প্রয়োগ করা যেতে পারে। প্রথম ডোজ়ের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে ১ মিলিগ্রাম অ্যাম্ফোটেরিন প্রয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও সমস্যা দেখা না দিলে ২ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে ০.২৫ থেকে ০.৫০ মিলসিগ্রাম এবং পরে তা প্রতিদিন ০.২৫ মিলিগ্রাম বৃদ্ধি করে দৈনিক ১ থেকে ১.৫ মিলিগ্রাম প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অলংকরণ: অভিজিৎ বিশ্বাস

লাইপোসোমাল অ্যাম্ফোটেরিন বি (Liposomal Amphotericin B)- এই ওষুধটিও একইভাবে ২ থেকে৩ ঘণ্টায় ৫ মিলিগ্রাম করে প্রয়োগ করতে হবে। সুস্থ না হয়ে ওঠা অবধি, যা সাধারণত ৩ থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লগে, ততদিন অবধি এই ওষুধ চলবে। তিন বছরের উর্ধ্ব থেকে ১৭ বছর অবধি প্রথমদিন থেকে দিনে দু’বার ৫ থেকে ৭ মিলিগ্রাম ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। ১৮ উর্ধ্বদের ক্ষেত্রে ইসাভুকোনাজ়ল ব্যবহার করা যেতে পারে।

পোজ়াকোনাজ়ল (Posaconazole)- অ্যাম্ফোটেরিন বি-র বিকল্প হিসাবে এই ওষুধটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বয়স অনুযায়ী এই ওষুধের মাত্রা ভিন্ন রয়েছে। ১১ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে প্রথম দিন ৭-১২ মিলিগ্রাম করে দিনে দু’বার প্রয়োগ করতে হবে। দ্বিতীয় দিন থেকে দিনে একবার সমমাত্রার ডোজ়ই প্রয়োগ করতে হবে।

আবার কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে এই ডোজ়ের মাত্রা কিছুটা বেশি হবে। সেক্ষেত্রে প্রথম দিন ৩০০ মিলিগ্রাম করে দিনে দু’বার করে প্রয়োগ এবং দ্বিতীয় দিন থেকে দিনে একবার সমমাত্রার ডোজ় প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: রিলিজ করছে সুশান্তের মৃত্যু নিয়ে সিনেমা, ছাড়পত্র দিল্লি হাইকোর্টের