বাংলায় নাগরিকত্ব আইনের জালেই জড়িয়ে ৩৫৬ ধারার চাবিকাঠি? প্রমাদ গুনছে পদ্ম

বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব আপাতত তেমনটা চাইছে না। বরং সঠিক সময়ে সঠিক ইস্যুকে হাতিয়ার করতে চাইছেন দিল্লির নেতারা। তাই আপাতত সরাসরি সেই পথে না হেঁটে সরকার বিরোধিতা কী ভাবে তুঙ্গে তোলা যায়, সেটাকেই পাখির চোখ করছে শীর্ষ নেতৃত্ব।

বাংলায় নাগরিকত্ব আইনের জালেই জড়িয়ে ৩৫৬ ধারার চাবিকাঠি? প্রমাদ গুনছে পদ্ম
অলংকরণ- অভীক দেবনাথ

কলকাতা: ভোটে জয়লাভ করা হয়নি গেরুয়া শিবিরের। কিন্তু বাংলাকে এত সহজে হাতছাড়া করতে রাজি নয় বিজেপি। ভোটের ফলাফলের পর দীর্ঘ কয়েকদিন বিজেপি নেতাদের একটু হতাশা গ্রাস করেছিল ঠিকই। কিন্তু বর্তমানে নতুন উদ্যমে রাজ্য সরকারের চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিজেপি। বাংলার পদ্ম নেতাদের একটা বড় অংশ যদিও এখনই রাজ্যে ৩৫৬ ধারা জারি করার পক্ষে। কিন্তু বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব আপাতত তেমনটা চাইছে না। বরং সঠিক সময়ে সঠিক ইস্যুকে হাতিয়ার করতে চাইছেন দিল্লির নেতারা। তাই আপাতত সরাসরি সেই পথে না হেঁটে সরকার বিরোধিতা কী ভাবে তুঙ্গে তোলা যায়, সেটাকেই পাখির চোখ করছে শীর্ষ নেতৃত্ব। যার প্রথম পদক্ষেপ হতে চলেছে সিএএ, অর্থাৎ নাগরিকত্ব আইন কার্যকর।

এ রাজ্যে ভোট প্রচারে এসে ঠাকুরনগরের সভায় অমিত শাহ বলেছিলেন, একবার টিকাকরণের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলেই নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে কেন্দ্র। বর্তমানে যে গতিতে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে, তাতে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের কেরামতি ছাড়া এ বছরের মধ্যে সবাইকে ভ্যাকসিন দেওয়া অলীক স্বপ্ন সমান। তখন অবশ্য ২০০-র বেশি আসন জয়ের স্বপ্নে বিভোর ছিল বিজেপি। কিন্তু বাস্তবে সেই স্বপ্ন তৃণমূলের পূরণ হয়েছে। তাই টিকাকরণের কাজ হোক বা না হোক, সিএএ কার্যকর করার ক্ষেত্রে দেরি করতে চাইছে না বিজেপি। বঙ্গ বিজেপি নেতাদের কথায় অন্তত সেই বিষয়টা দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।

দিল্লি থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “সিএএ হবে। তারপর আমরা এনআরসি-ও চাই। এটা আমাদের দাবি।” অন্যদিকে আজ বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু TV9 বাংলাকে বলেছেন, “সিএএ তো হবেই। এই আইন ভারতের সংসদ পাশ করেছে। ধর্মীয় কারণে যারা নিপীড়িত হয়ে এসেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ সরকার করবে। এটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আজ নয়তো কাল হবেই।”

কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার তো সিএএ বিরোধী! এ ক্ষেত্রে তৃতীয়বার জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাজ্য সরকার যদি বিরোধিতা করে, তখন তো নতুন করে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে উঠতে পারে? সে সব নিয়ে অবশ্য মাথা ঘামাচ্ছে না বিজেপি, সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন সায়ন্তন। তাঁর কথায়, “রাজ্য এটার বাধা দিতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার যদি সেটার বাধা দেয়, তবে তা সংবিধান বিরোধী হবে। তখন ভারত সরকার আইনগতভাবে যা ব্যবস্থা নেওয়ার তাই নেবে।” ঠিক এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কোন ‘ব্যবস্থা’ নেওয়ার দিকে ইঙ্গিত করছেন সায়ন্তন? বিজেপির একটি সূত্র জানাচ্ছে, সিএএ কার্যকর করতে গিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যদি তৈরি হয়, সেই সময় ৩৫৬ ধারার কথা ভাবতে পারে কেন্দ্র।

আরও পড়ুন: ‘মুকুল তো অপমান করেননি…’, কিসের ইঙ্গিত দিলেন সৌগত!

কারণটা স্পষ্ট। বর্তমানে ভোট পরিবর্তী হিংসা বাদে আর কোনও বড় ইস্যু বিজেপির হাতে নেই যা দিয়ে তৃণমূল সরকারকে বিপাকে ফেলা যাবে। আর এই ইস্যুতেও খুব বেশি দিন চিঁড়ে ভিজবে না বলেই মনে করছেন রাজনীতির কারবারিরা। এই অবস্থায় রাজ্য সরকারের বিরোধিতা করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এমনটা গোটা দেশের সামনে তুলে ধরতে প্রয়োজন অন্য বড় ইস্যু। যেহেতু তৃণমূল সরকার ঘোর সিএএ বিরোধী, এবং নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিজেপির প্রাথমিক ইস্তাহারেই রয়েছে, সেই কারণে এর থেকে ভাল আর কোনও পন্থা আপাতত নেই রাজ্যকে চাপে রাখার। এবং অদূর ভবিষ্যতে সেটাই করার পথে এগোবে বিজেপি।

গেরুয়া শিবিরের এই পরিকল্পনা আঁচ করতে শুরু করেছে শাসকদল তৃণমূলও। বিধানসভার চিফ ডেপুটি হুইপ তাপস রায় এই প্রসঙ্গে TV9 বাংলাকে জানান, “ওদের দলে কাদের গুরুত্ব বাড়ল কাদের কমল এই নিয়ে ওরা খুব মনকষ্টে আছে। ক্ষমতা থাকলে ওরা করে দেখাক না ৩৫৬। বাংলা থেকে উখাড়কে ফেক দুঙ্গা বলেছিল, বাংলার মানুষ ওদের তুলে ফেলে দিয়েছে। ৩৫৬ করে দেখুক ২০২৪ সালে ভারতবর্ষের মানুষ ওদেরকে ছুড়ে ফেলে দেবে।”

আরও পড়ুন: সাপুরজি এনকাউন্টারে তীব্র জঙ্গি যোগ, এনআইএ তদন্তের দাবিতে শাহকে চিঠি সৌমিত্রর