‘রাজ্য প্রশাসনের পর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে দেব না’ ৩ আইপিএসকে ডেপুটেশনে পাঠানোয় ক্ষুব্ধ মমতা

সেদিন নাড্ডার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন এই তিন আইপিএস অফিসার।

'রাজ্য প্রশাসনের পর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে দেব না'  ৩ আইপিএসকে ডেপুটেশনে পাঠানোয় ক্ষুব্ধ মমতা
ডানদিক থেকে রাজীব মিশ্রা, ভোলানাথ পাণ্ডে, প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী

কলকাতা: ডায়মন্ডহারবারে জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার জের। রাজ্যের তিন আইপিএস অফিসারকে (IPS Officer) ডেপুটেশনে পাঠাল কেন্দ্র।

  • আইজি দঙ্গিণবঙ্গ রাজীব মিশ্রকে ৫ বছরের জন্য ইন্দো টিবেটান বর্ডার পুলিস বা ইন্দো-তিব্বতীয় সীমান্ত পুলিসে (আইটিবিপি)-তে পাঠানো হচ্ছে।
  • ডিআইজি প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ প্রবীণকুমার ত্রিপাঠীকে ৫ বছরের জন্য সশস্ত্র সীমা বল বা এসএসবি-তে পাঠানো হচ্ছে।
  • ডায়মন্ডহারবার এসপি ভোলানাথ পাণ্ডেকে, ৩ বছরের জন্য পাঠানো হচ্ছে ব্যুরো অফ পুলিস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট বিভাগে।

গত বৃহস্পতিবার ডায়মন্ডহারবারে সভা করতে যাওয়ার পথে শিরাকোলের কাছে হামলার মুখে পড়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়। ঠিক এক সপ্তাহের ব্যবধানেই এই তিন আইপিএস অফিসারকে ডেপুটেশনে পাঠানো হল। সেদিন নাড্ডার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন এই তিন আইপিএস অফিসার।

সূত্রের খবর, নাড্ডার কনভয়ে হামলার পরই আইবি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে যে রিপোর্ট দিয়েছিল, তাতে দেখা যায় এই তিন আইপিএস সেদিন নাড্ডার নিরাপত্তা রক্ষার্থে যথাযথ ভূমিকা পালন করেননি। এরপর মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডিজি বীরেন্দ্রকে। কিন্তু নবান্নর তরফে মুখ্যসচিব চিঠি দিয়ে জানান, এই বৈঠক থেকে যেন তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এরপর ঘটনাকে ঘিরে কেন্দ্র-রাজ্য চাপানউতোর চরমে পৌঁছয়। এবার এই তিন আইপিএস অফিসারকে সরাসরি ডেপুটেশনে পাঠাল কেন্দ্র। সাম্প্রতিক অতীতেই চিটফান্ড কেসে সিবিআই-এর সঙ্গে অসহযোগিতার কারণে রাজীব কুমারের ক্ষেত্রেও কড়া পদক্ষেপ করেছিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফেও তাঁকে ‘শাস্তি’ বদলি করা হয়। ফিরে এসেও পুলিস প্রশাসন থেকে সরে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের সচিব পদে দায়িত্ব নেন।

আরও পড়ুন:  ‘দলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলাম’, সভাপতি পদ ছেড়ে বললেন জিতেন্দ্র

এরপর এই তিন আইপিএস অফিসারকে কেন্দ্রের ডেপুটেশনে পাঠানোকে একপ্রকার ‘শাস্তি’ হিসাবেই দেখছেন পুলিসের শীর্ষ কর্তারা। এই বিষয়টি বাংলার আইপিএস শীর্ষ কর্তাদের কাছে কড়া বার্তাও বটে। বাংলার আইপিএস-রা রাজ্য-কেন্দ্রের এই দড়ি টানাটানিতে উদ্বিগ্ন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্বভারতীয় ক্যাডার অফিসারদের নিয়ে কেন্দ্র রাজ্য বিরোধ থাকলেও, কেন্দ্রের সিদ্ধান্তই যে অগ্রাধিকার পায়, তা স্পষ্ট বার্তাবাহক এই ঘটনা।

যদিও এই ঘটনার কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

টুইটে তিনি লিখেছেন, “রাজ্য প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে দেব না। পশ্চিমবঙ্গ অগণতান্ত্রিক শক্তির সামনে নতিস্বীকার করবে না।”