Sukanta Majumdar: তৃণমূলের অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপার সদস্য ছিলেন সুকান্ত? মুখ খুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি
WBCUPA vs Sukanta Majumdar: ওয়েবকুপার সদস্যপদের ওই আবেদনপত্রটি বঙ্গ বিজেপির সভাপতিরই ছিল কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। সুকান্ত বাবু নিজেও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানাননি।
কলকাতা : রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছে বিজেপি (BJP)। আর সেই চাপ সামাল দিতে পাল্টা দিচ্ছে তৃণমূলও। দিলীপ ঘোষের আমলের বিজেপি বনাম সুকান্ত মজুমদারের আমলের বিজেপি – এই দুই নিয়ে নাগাড়ে খোঁচা দিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। আর এরই মধ্যে একটি তৃণমূলের অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপার (WBCUPA) একটি সদস্যপদের আবেদনপত্র প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে সদস্যপদের জন্য আবেদনকারী হিসেবে নাম রয়েছে সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumdar)। এমনকী ওই ফর্মে উল্লেখিত সুকান্ত মজুমদারে বাকি যা যা তথ্য রয়েছে, সেগুলিও সব মিলে যাচ্ছে বঙ্গ বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতির সঙ্গে। যদিও এই আবেদনপত্রের সত্যতা যাচাই করেনি TV9 বাংলা। তবে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক চাপান উতোর। কিন্তু ওয়েবকুপার সদস্যপদের ওই আবেদনপত্রটি বঙ্গ বিজেপির সভাপতিরই ছিল কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। সুকান্ত বাবু নিজেও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানাননি।
মঙ্গলবার বিকেলের সাংবাদিক বৈঠকে এই নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমার ভাল লাগছে যে এত বড় নেতা হয়েছি যে তৃণমূল এইসব বলছে। ১৯৯৮ সাল থেকে গৈরিক আর্দশের সঙ্গে পরিচয়, সেইসময় তৃণমূলের জন্ম হয়।” বিষয়টি নিয়ে ওয়েবকুপার সভানেত্রী কৃষ্ণকলি বসুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “২০১৭ সাল থেকে আমাদের ডেটাবেস অনলাইনে চলে যায়। আগে ২০১২-২০১৩ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আমাদের সদস্যপদ গ্রহণ, সদস্যপদ নবীকরণ ইত্যাদি সবই ম্যানুয়ালি হত আবেদনপত্রের মাধ্যমে। আমরা সেই পুরানো কাগজপত্রগুলিই নাড়াচাড়া করছিলাম। পুরানো সদস্য কারা কারা ছিলেন, সেই সব দেখা হচ্ছিল। তখনই দেখা যায়, ২০১৩ সালের একদম গোড়ায় গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ইউনিট খোলা হয়েছিল, সুকান্ত মজুমদার সেই ইউনিটের সদস্যপদ নেন।”
তবে সেই সুকান্ত মজুমদারই বঙ্গ বিজেপির বর্তমান সভাপতি কি না, সেই বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলতে পারেননি কৃষ্ণকলি বসু। প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে তো একজনই সুকান্ত মজুমদার ছিল। তবে ওনার সঙ্গে আমার কোনওদিন দেখা হয়েছিল বলে মনে পড়ে না।”
ওয়েবকুবার তরফে যে তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছে সেই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যে কোনও সংগঠনে যুক্ত হতে পারেন। ২০১৩ সালে আমাদের কোনও সংগঠন ছিল না। আমাদের বহু লোক যাঁরা তৃণমূলকে সমর্থন করেছেন, তৃণমূলের সংগঠনে থেকেছেন। চাকরি করতে গেলে হয় তৃণমূলের দিকে যেতে হবে, নয় সিপিএমের দিকে যেতে হবে। তখনকার দিনে যারা দক্ষিণপন্থী রাজনীতি করেছেন, তাঁরা যুক্ত হয়েছেন। বিভিন্ন দল থেকে এসেছেন। পেশার জন্য বিভিন্ন সংগঠনের যুক্ত হতে হয়েছিল। আমরা সবাইকে নেতা বানিয়েছি। আমাদের যিনি বিরোধী নেতা, তিনি এক বছর আগেও তৃণমূলের বিধায়ক, মন্ত্রী ছিলেন। বিজেপির আদর্শ নিয়ে যদি কেউ কাজ করতে চান, সব সময় স্বাগত। তাঁকে যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়া হবে। পরবর্তীকালে যখন আরএসএস প্রভাবিত সংগঠন শুরু হয়, তিনি (সুকান্ত মজুমদার) তার উত্তরবঙ্গের আহ্বায়ক ছিলেন।”