বঙ্গে উপনির্বাচন, শমীকের চোখে তামাশা
BJP: নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণা তামাশা বই আর কিছু নয় বলে মন্তব্য করলেন রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)।
কলকাতা: একুশের বিধানসভা ভোটের পর চারমাস কেটে গেলে ও কেন উপনির্বাচন ঘোষণা করছে না, এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছে তৃণমূল। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) সাংবাদিক বৈঠক থেকে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী যেন উপনির্বাচনটা ‘ক্লিয়ার’ করে দেন। ইঙ্গিত ছিল সেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার দিকে। আর শনিবারের বেলায় ভবানীপুর এবং মুর্শিদাবাদের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর বিজেপি (BJP)-ও আঙুল তুলল কমিশনের দিকে! নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণা তামাশা বই আর কিছু নয় বলে মন্তব্য করলেন রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)।
শনিবার দুপুরে নিজের সল্টলেকের বাসভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে শমীকের মন্তব্য, “বিজেপি চায় প্রত্যেক নির্বাচন। সে পৌর নির্বাচন হোক আর বিধানসভা ভোট। কিন্তু নির্বাচন কমিশন যেভাবে বেছেবেছে নির্বাচন ঘোষণা করল, তা তামাশা ছাড়া কিছু নয়।” একইসঙ্গে বিজেপি নেতার সংযুক্তি, ‘এই সিদ্ধান্ত মানুষ মেনে নিতে পারছে না এবং আমাদের কর্মীরাও ক্ষুব্ধ।’
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে হারের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছয় মাসের মধ্যে উপনির্বাচন জিতে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে তিনি তাঁর পুরনো কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেই সম্ভবত প্রার্থী হবেন। আর শনিবার অন্যান্য কেন্দ্র ব্যতীত কেবল ওই কেন্দ্রের উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরই বিজেপির নিশানায় নির্বাচন কমিশন। এতদিন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করে এসেছে রাজ্যের শাসক দল। আর শনিবার তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল বঙ্গ বিজেপি।
এদিন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আমরা চিন্তায় আছি। হঠাৎ ভবানীপুরেই কেন? তাহলে বাকি কেন্দ্রে কেন নয়?’ শুধু তাই নয়, কমিশন প্রভাবিত হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে রাজ্য বিজেপির তরফে প্রশ্ন তোলা হবে, তবে কমিশনে এই নিয়ে কোনও চিঠি দেওয়া হবে কি না, তা স্পষ্ট করেননি বিজেপি নেতা। আর শমীক বললেন, ‘অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যবস্থা আশা করি করবে নির্বাচন কমিশন। কেন অন্য জায়গায় উপনির্বাচন হল না, তার জবাব দিক নির্বাচন কমিশন।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্কুল কলেজ বন্ধ, ট্রেন চলছে না, কী করে নির্বাচন হবে? নিজেদের তামাশায় নামিয়ে আনল নির্বাচন কমিশন।’
বাংলায় এখন উপনির্বাচনের পরিস্থিতি নেই, তাই আয়োজন করা যাবে না বলে আগেই কমিশনকে চিঠি দিয়েছিল বিজেপি। এর পিছনে মূলত ৮ টি কারণও সামনে আনেন দিলীপ ঘোষরা। তাঁদের দাবি ছিল, রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি চলছে, লোকাল ট্রেন চলছে না। রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাও ঘটছে। তাই ভোট হওয়া সম্ভব নয়। তৃণমূল যখন উপনির্বাচনের দাবি তুলছিল, তখন বিজেপির পাল্টা দাবি ছিল আগে রাজ্যে একশোর বেশি পুরসভার নির্বাচনের আয়োজন করানো হোক। তবে কমিশনের এদিনের ঘোষণার পর দৃশ্যতই না-খুশ বঙ্গ বিজেপি। আরও পড়ুন: ‘হঠাৎ ভবানীপুরেই কেন ভোট? কমিশন অবশ্যই প্রভাবিত হয়েছে’