লকডাউন পরবর্তীকালে নয়া ট্রেন্ড ‘রিভেঞ্জ ট্রাভেল’! পর্যটন শিল্পে ফের জোয়ার আসার অপেক্ষা

শুধুমাত্র কৌতূহলবশতই নয়, মানসিকভাবেও মানুষ একটু বেড়িয়ে আসতে চাইছে। করোনার জেরে লকডাউন পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বের মানুষ এই মুহূর্তে নিউ নর্ম্যালের জীবন কাটাচ্ছেন।

লকডাউন পরবর্তীকালে নয়া ট্রেন্ড 'রিভেঞ্জ ট্রাভেল'! পর্যটন শিল্পে ফের জোয়ার আসার অপেক্ষা
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভ্রমণের স্মৃতিচারণা করেই ভার্চুয়ালি ভ্রমণ সেরে ফেলছে।

করোনার জেরে টানা দেড় বছর ঘরবন্দি। ফলে মানুষের মন ছুটেছে বাড়ির বাইরের দিকে। করোনার দাপটে ট্রেন ও ফ্লাইট চললেও তুলনামূলকভাবে অনেক কম চলছে। মারণভাইরাসের আতঙ্কে মানুষ দূরে কোথাও যেতে ভয় পাচ্ছে। ফলে হোটেলগুলিও দীর্ঘদিন ধরে লাভের মুখে দেখেনি। তবে মানুষ কি ঘুরতে ভুলে গিয়েছে? মোটেও না । সোশ্যাল মিডিয়ায় ভ্রমণের স্মৃতিচারণা করেই ভার্চুয়ালি ভ্রমণ সেরে ফেলছে। তাতে কী ইচ্ছেপূরণ ঘটে? তবে একটাই আশার আলো যে, ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ সম্পূর্ণ হলেই বিদেশ ও দেশের নানা প্রান্তে যাওয়ার অনুমতি মিলবে।

ভ্রমণপ্রেমীরা ইতোমধ্যেই পরবর্তী ভ্রমণের পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে। তবে ভ্যাকসিন নিলেও ভ্রমণের সময় মহামারীর সনস্ত বিধি-নিষেধ পালন করা বাধ্যতামূলক। অতিমারি-পরবর্তী ভ্রমণ বছরের শেষের দিকে বুকিংয়ে ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। যার ফলে ফের একবার মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে হোটেলব্যবসা ও পর্যটনশিল্প। একবছরের বেশি সময় ধরে ঘরবন্দি থাকার পরে যে খিদে নিয়ে মানুষে বাইরে বের হবেন তাতে ‘রিভেঞ্জ ট্রাভেল’ ধারণাটি প্রকাশ পেলে অবাক হবেন না।

রিভেঞ্জ ট্রাভেল কি?

টিকা গ্রহণের পর ভ্রমণ যাত্রায় গতি বাড়তে পারে,পর্যটনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ফ্লাইট / ট্রেন ও হোটেল বুকিংয়ের মূল্যেও সেইহারে বেড়ে যেতে পারে। ঘরবন্দি থাকার ভয়ঙ্কর বিরূপতার পরে, ভ্রমণ উত্সাহীরা দীর্ঘ এবং আরও বিলাসবহুল ছুটির পরিকল্পনা শুরু করার চেষ্টা করবেন। এমনটাই তো আন্দাজ করছেন বিশেষজ্ঞরা। সুতরাং, এর ফলে রিভেঞ্জ ট্রাভেল একটি ট্রেন্ড হয়ে যেতে পারে। “প্রতিশোধের যাত্রা এখন একটি ঘটনা হয়ে দাঁড়াবে”। শুধুমাত্র কৌতূহলবশতই নয়, মানসিকভাবেও মানুষ একটু বেড়িয়ে আসতে চাইছে। করোনার জেরে লকডাউন পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বের মানুষ এই মুহূর্তে নিউ নর্ম্যালের জীবন কাটাচ্ছেন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে , জীবনকে পুরোপুরি উপভোগ করতে মানুষ কোথাও একটা জায়গা থেকে বেড়িয়ে আসতে চাইছে। মনোরম, সুন্দর ও রোমাঞ্চকর জায়গায় গিয়ে এতদিনের সব যন্ত্রণাকে ছুঁড়ে ফেলতে চাইছে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে হোটেলের বুকিং, কোথায় যাবেন, তা নিয়ে বিদে পরিকল্পনা করা হয়ে গিয়েছে। প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে অধিকাংশই এখন ল্যাপটপ বন্ধ করে একছুট দিয়ে বাড়ির বাইরে যেতে চাইছে।

আরও পড়ুন: নিষিদ্ধ, তবুও ভারতে রয়েছে ন্যুড বিচ!

লকডাউন পরবর্তী জীবনেও পালন করতে হবে কোভিড বিধি- নিষেধ। নিউ নর্ম্যাল লাইফের শেষ কোথায় জানা নেই। চাই ভ্রমণ করার সময় আরটি-পিসিআর পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট সঙ্গে নিতেই হবে। বিমানবন্দর, ট্রেনে যাত্রা সময় সেই রিপোর্ট জমা দিতেও হতে পারে। এমনকি বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনগুলিতে স্বাস্থ্যপরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।