IPL 2021: ‘গুরু’ ধোনিকে হারিয়ে জয়ের শিখরে ‘শিষ্য’ পন্থ
এই ম্যাচটা ছিল গুরু-শিষ্যের। দিল্লির (Delhi Capitals) নতুন ক্যাপ্টেন ঋষভ পন্থ (Rishabh Pant) বনাম চেন্নাইয়ের (Chennai Super Kings) মহেন্দ্র সিং ধোনির (MS Dhoni)। আমি পন্থের ভক্ত। তার পরও বলব, ধোনির যা সাফল্য, তা ছুঁতে হলে ওকে লম্বা পথ যেতে হবে। তবে প্রথম ম্যাচে ক্যাপ্টেন হিসেবে ওকে খারাপ লাগল না। যত পরিণত হবে, ততই মেলে ধরতে পারবে নিজেকে।
শরদিন্দু মুখোপাধ্যায়
চেন্নাই সুপার কিংস ১৮৮-৭ (২০ ওভারে) দিল্লি ক্যাপিটালস ১৯০-৩ (১৮.৪ ওভারে)
ওয়াংখেড়ে তিনটে শিক্ষা দিল। এক, ২০০ রানের টার্গেটও মুম্বইয়ের মাঠে নিরাপদ নয়। দুই, বিপক্ষকে থামাতে হলে তীব্র গতির পেসার দরকার, না হলে ভালো স্পিনার চাই। এই দুটো জায়গাতেই মহেন্দ্র সিং ধোনির (MS Dhoni) চেন্নাই ফ্লপ করল। ঋষভ পন্থের (Rishabh Pant) দিল্লি (Delhi Capitals) তাড়াহুড়ো না করে বড় পার্টনারশিপ বানিয়ে ম্যাচটা পকেটে পুরে ফেলল। আর তিন, পাওয়ার প্লে যদি কাজে লাগানো যায়, তা হলে পরের দিকে ব্যাটসম্যানদের কাছে বাকি কাজটা সহজ হয়ে যাবে। চেন্নাই পাওয়ার প্লে কাজে লাগাতে পারেনি। দিল্লি সেটাই দারুণ ব্যবহার করল।
সিএসকের ইনিংস দেখার পরই আমার মনে হচ্ছিল, দিল্লি যদি কয়েকটা পার্টনারশিপ তৈরি করতে পারে ম্যাচটা জিতে যাবে। শিখর ধাওয়ান আর পৃথ্বী শ চমত্কার ব্যাট করে গেল। শিখরের ৮৫ আর পৃথ্বীর ৭২। ওদের ১৩৮ রানের পার্টনারশিপটাই ম্যাচ জেতার আসল কারণ। দু’জন মিলে ধৈর্যশীল ব্যাটিং করে গেল। চেন্নাইয়ের অবশ্য চাপে ফেলার মতো বোলারও ছিল না। যে কারণে সিএসকের ১৮৮-৭ এর জবাবে ৮ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে জিতে গেল দিল্লি (১৯০-৭)।
? ? ?????? ???????? ???? ?? ????? ?
Couldn’t have asked for a better start from our DC boys, could we? ?#YehHaiNayiDilli #IPL2021 #CSKvDC pic.twitter.com/6IrYZIRVPo
— Delhi Capitals (@DelhiCapitals) April 10, 2021
চোট আঘাত, করোনার থাবা, ব্যক্তিগত সমস্যা— নানা কারণে গতবার আমিরশাহির আইপিএলে সাফল্য পায়নি চেন্নাই। ধোনির টিমের বিশেষত্বই হল ধারাবাহিকতা আর টিমগেম। এই আইপিএলে নতুন করে যে ধোনি ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে, টিমকে সাফল্য দিতে চাইবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সেই স্বপ্ন নিয়েই যেন ওয়াংখেড়েতে আইপিএল ১৪-র প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল। দিল্লির বিরুদ্ধে শুরুতে ব্যাট করে কিন্তু খারাপ টোটাল তোলেনি সিএসকে। আর সেটা সম্ভব হল কয়েকটা ছোট ছোট পার্টনারশিপের জন্য।
মুগ্ধ হয়ে গেলাম সুরেশ রায়নাকে দেখে। ও গতবার পারিবারিক কারণে খেলতে পারেনি। কিন্তু এই আইপিএলে প্রথম ম্যাচে ওকে দেখে মনেই হল না যে, এক বছরেরও বেশি সময় খেলেইনি। ৩৬ বলে ৫৪ রানের ইনিংস খেলে গেল। ৪টে ছয় ও ৩টে চার দিয়ে সাজিয়েছে ইনিংস। ও ক্লান্ত না হয়ে পড়লে পন্থদের আরও বড় টার্গেট দিতে পারত চেন্নাই।
শুরুতেই পর পর ঋতুরাজ গায়কোয়াড় (৫) আর ফাফ দু প্লেসির (০) উইকেট পড়ে গেলেও চেন্নাইকে মঈন (৩৬), রায়না, অম্বাতি রায়াডুরা (২৩) ম্যাচে ফিরিয়েছিল। শেষ দিকে রবীন্দ্র জাডেজা (নট আউট ২৬) আর স্যাম কারান (নট আউট ৩৪) ১৮৮-৭ এ পৌঁছে দিয়েছিল।
এই ম্যাচটা ছিল গুরু-শিষ্যের। দিল্লির নতুন ক্যাপ্টেন ঋষভ পন্থ বনাম চেন্নাইয়ের মহেন্দ্র সিং ধোনির। আমি পন্থের ভক্ত। তার পরও বলব, ধোনির যা সাফল্য, তা ছুঁতে হলে ওকে লম্বা পথ যেতে হবে। তবে প্রথম ম্যাচে ক্যাপ্টেন হিসেবে ওকে খারাপ লাগল না। যত পরিণত হবে, ততই মেলে ধরতে পারবে নিজেকে।
এই ম্যাচে একটা কথা খুব পরিষ্কার বলে দেওয়া উচিত, ধোনির অতীত যাই হোক না কেন, এখনকার পরিস্থিতিটা অন্যরকম। ধোনির উচিত ফিনিশার ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসা। ও আরও উপরে তুলে নিয়ে আসুক নিজেকে। না হলে আবেশ খানের মতো তরুণ বোলারদের বলে মারতে গিয়ে বোল্ডই হতে হবে বারবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: চেন্নাই সুপার কিংস ১৮৮-৭ (রায়না ৫৪, মঈন ৩৬, স্যাম ৩৪, ওকস ২-১৮, আবেশ ২-২৩)। দিল্লি ক্যাপিটালস ১৯০-৩ (শিখর ৮৫, পৃথ্বী ৭২, শার্দূল ২-৫৩, ব্র্যাভো ১-২৮)।