গুয়ার্দিওলার ভুলে স্বপ্নপূরণ চেলসির

চেলসি চ্য়াম্পিয়ন হওয়ার জন্যই যেন মাঠে নেমেছিল। ম্যাচের শুরুর দিকেই টিমো ওয়ার্নার দুটো সুযোগ পেয়েছিলেন। কাজে লাগাতে পারলে সিটি হারিয়ে যেতে পারত তখনই।

গুয়ার্দিওলার ভুলে স্বপ্নপূরণ চেলসির
গুয়ার্দিওলার ভুলে স্বপ্নপূরণ চেলসির (সৌজন্যে-চেলসি টুইটার)

চেলসি-১ : ম্যাঞ্চস্টার সিটি-০
(হাভার্টজ় ৪২)

পোর্তো: এস্তাদিও দো দ্রাগাওতে যখন ট্রফির সেলিব্রেশন চলছে, সীমাহীন উচ্ছ্বাসে ভাসছেন কাই হাভার্টজ়, ম্যাসন মাউন্টরা, তখন ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড কোথায় ছিলেন? ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে গত জানুয়ারিতে সরে যেতে হয়েছিল তাঁকে। ল্যাম্পার্ড সরতেই উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল নীল জার্সি। পোর্তোর ওই আতসবাজির রোশনাইয়ের মধ্যে কি ল্যাম্পার্ডকে ভুলে যাওয়া যায়? কিংবদন্তির হাত ধরেই কিন্তু পোর্তোর পথে যাত্রা শুরু হয়েছিল চেলসির। মরসুমে শেষে এসে ইউরোপ সেরার খেতাব। থমাস তুচেলের (Thomas Tuchel) হাত ধরে।

ফুটবল কি শুধুই গতি আর দৌড়বাজদের খেলা? ফুটবল কি দাবা নয়? বিপক্ষের বিরুদ্ধে একটা নিখুঁত ছক যেমন নব্বই মিনিটের ওপারে জয়ের কোরাস রাখে, একটা ভুল হাহাকারের অন্ধকারে ঠেলে দেয়। ছক, ধরা-ছাড়া, গতি বদল, পাল্টা আক্রমণ— সব মিশে রয়েছে একটা ফুটবল ম্যাচে। কোচ এই সব ম্যাচে যেন ফাইভস্টার হোটেলের শেফের মতো! স্বাদের সামান্য ভুলচুক, আর স্পেশাল ডিস ভণ্ডুল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে সিটির কোচ সেই ভুলটাই করে বসলেন। যে স্টাইল, প্যাটার্ন, ব্যালান্সের জন্য বিখ্যাত্‍ পেপ গুয়ার্দিওলা, সেখানেই হঠাত্‍ ফাঁক রেখে গেলেন। দুই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ফার্নান্দিনহো আর রদ্রিওকে বসিয়ে দিলেন। ম্যাচের আগে টিমলিস্ট দেখেই বোধহয় জয়ের পূর্বাভাস পেয়ে গিয়েছিলেন তুচেল। যে চেলসির (Chelsea) কাছে আগের দুটো ম্যাচ হেরেছে সিটি, তাদের বিরুদ্ধে এমন স্ট্র্যাটেজি!

ভুল মানুষ করে! ভুল করে বলেই ইতিহাস হয়! যেমন তুচেল এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়ে গেলেন। জানুয়ারি মাসে যখন চেলসিতে এসেছিলেন, তখন থেকেই বোধহয় পোর্তোর স্বপ্নটা দেখতে শুরু করেছিলেন তিনি। টিমের মধ্যে সেটাই ধীরে ধীরে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। সময় যত গড়িয়েছে, ততই অফুরান দৌড় শুরু হয়েছে ইউরোপ খেতাবের দিকে। রবি-রাতে এস্তাদিও দো দ্রাগাওতে এসে ভিকট্রিল্যাপে শেষ করলেন। শুধু কি টিমের, তাঁর নিজের নয়? প্যারিস সাঁজার কোচ হিসেবে গতবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে উঠলেও ট্রফির স্বাদ পাননি। বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে গিয়েছিল তাঁর পিএসজি। বছর ঘুরতে না ঘুরতে তুচেল বুকে জড়িয়ে ধরলেন ইউরোপ সেরার খেতাব।

চেলসি চ্য়াম্পিয়ন হওয়ার জন্যই যেন মাঠে নেমেছিল। ম্যাচের শুরুর দিকেই টিমো ওয়ার্নার দুটো সুযোগ পেয়েছিলেন। কাজে লাগাতে পারলে সিটি হারিয়ে যেতে পারত তখনই। ৪২ মিনিটে অবশ্য ভুল করেননি হাভার্টজ়। মাউন্টের ডিফেন্স চেরা পাস থেকে ১-০। তার পরও অবশ্য গোল আসতে পারত, ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ যদি ভুল না করতেন। তবে এই ম্যাচে দাপিয়ে খেলে গেলেন কান্তে। ২০১৮ সালে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ দেওয়া, ২০১৯ সালে ইউরোপা লিগে চেলসিকে সেরা করা। এ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ দিলেন ফরাসি কান্তে।

আরও পড়ুন: ব্লুজ় ফাইনালে নায়ক কান্তে

সাফল্যের এই এক মজা। ছোটখাটো ভুলগুলো চোখে পড় না। লোকে শুধু মনে রাখে হাইলাইটসটা। ম্যাচের সেরা ঝলক। বহুদিন পর অল-ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে পেপ গুয়ার্দিওলা নামের এক বিখ্যাত্‍ কোচের বিখ্যাত্‍ ভুল মনে থাকবে। মনে থাকবে থমাস তুলেচের ছটফটে একটা টিমকে। যাঁরা ইতিহাস তৈরির জন্যই নেমেছিল মাঠে! চেলসির এই ইতিহাসের শরিক ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডও তো!

আরও পড়ুন: ইউরোপ সেরা চেলসি