বিরাটরা কিন্তু উইলিয়ামসনদের থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে

এই আত্মবিশ্বাসটা ধরে রেখেই ১৮ জুন লর্ডসে ঐতিহাসিক ফাইনাল খেলুক ভারত। নিউজিল্যান্ডের চেয়ে ধারে-ভারে অনেক এগিয়ে কোহলিরা। তখন হয়তো জাদেজা আরও ফিট হয়ে উঠবে। হার্দিক পান্ডিয়াও থাকবে দলের সঙ্গে।

  • TV9 Bangla
  • Published On - 18:26 PM, 6 Mar 2021
বিরাটরা কিন্তু উইলিয়ামসনদের থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে

ইংল্যান্ড- ২০৫ ও ১৩৫
ভারত- ৩৬৫

শরদিন্দু মুখোপাধ্যায়

এ বারও কি ইংল্যান্ড খারাপ পিচের দোহাই দেবে? যারা ইনিংস হার বাঁচাতে পারে না, তাদের কোনও কথাই বলা উচিত নয়। স্পিনারদের কি ভাবে খেলতে হয়, তা ভারতকে দেখে শিখুক ইংল্যান্ড। এর পর এ দেশে খেলতে এলে, স্পিন খেলার টেকনিকটা শিখে আসুক ইংরেজরা। আগের টেস্টটা দু’দিন আর এই টেস্টটা মাত্র তিন দিনে শেষ। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং বিভাগকে স্কুলস্তরে নামিয়ে এনেছে অক্ষর-অশ্বিনরা। এক নম্বর দল হিসেবে লর্ডসে ঐতিহাসিক বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলবে ভারত। এর চেয়ে গর্বের আর কি হতে পারে! ক্রিকেটের সমর্থক হিসেবে বিরাট কোহলি এবং তার দলকে বিরাট অভিনন্দন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সিরিজ শুরুর আগে কোহলির ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে অনেকে সরব হয়েছিল। রাহানেকে নেতৃত্বের ভার দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছিল। সবার মুখ কুলুপ এঁটে দিল কোহলি। আমি বলেছিলাম, ৩টি ফরম্যাটে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে একমাত্র বিরাট কোহলির। আবারও সেটা ও করে দেখাল। প্রথম টেস্ট হারের পরও দুর্দান্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জয়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ওদের পেস আক্রমণের বিরুদ্ধে সিরিজ জিতে দেখিয়েছিল রাহানেরা। এ বার ঘরের মাঠে টার্নিং ট্র্যাকেও পিছিয়ে পড়েও সিরিজ জয়।

 

 

গতকালই বলেছিলাম, ১৫০ রানের লিডই যথেষ্ট। অষ্টম উইকেটে ওয়াশিংটন সুন্দর-অক্ষর প্যাটেল জুটির ১০৬ রানের পার্টনারশিপের সুবাদেই ১৬০ রানের লিড রাখতে সক্ষম হয় টিম ইন্ডিয়া। ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামলে একজন পেসার আর একজন স্পিনারকে দিয়ে বোলিং আক্রমণ শুরু করে কোহলি। গতকালই এই কথাটা বলেছিলাম। টার্নিং ট্র্যাকে অশ্বিন আর অক্ষর দু’জনেই দ্বিতীয় ইনিংসে ৫টা করে উইকেট ভাগাভাগি করে নিল। ইশান্ত শর্মাকে বলই করতে হয়নি। অশ্বিন-অক্ষর জুটির ঘূর্ণিতে ১৩৫ রানেই গুটিয়ে গেল ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস। অভিষেক টেস্ট সিরিজেই ২৭ উইকেট নিল অক্ষর প্যাটেল। ভেঙে দিল অজন্তা মেন্ডিসের রেকর্ড। এই উইকেটে অক্ষরের বল খেলা খুবই দুষ্কর। কারণ অক্ষরের সোজা বলটা সবচেয়ে বিপজ্জনক। রবীন্দ্র জাদেজার অভাব বুঝতে দেয়নি ও। শুধু বোলিং নয়, ব্যাটিং আর ফিল্ডিংয়েও সমান দক্ষতা দেখিয়েছে অক্ষর। অশ্বিনকে নিয়ে যত বলব, ততই যেন কম মনে হবে। ৩২ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা হল অশ্বিন। এই নিয়ে ২ বার কোনও সিরিজে ৩০ টার বেশি উইকেট নিল ও। ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৩১টা উইকেট নিয়েছিল। প্রথম ভারতীয় হিসেবে এমন অনন্য নজির গড়ল। শুধুই কি বোলিং! ব্যাট হাতেও রয়েছে মূল্যবান ১৮৯ রান। একটি সিরিজে ৩০-র বেশি উইকেট আর ১০০-র বেশি রান করে ইমরান খান, ইয়ান বথাম, রিচি বেনো আর জর্জ গিফেনের সঙ্গে এক আসনে বসল অশ্বিন। টেস্টে ৩০ বার এক ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট নিয়ে অ্যান্ডারসনকে স্পর্শ করল। আর বছর তিনেক খেললে অশ্বিন হয়তো ৬০০ উইকেটের মাইলস্টোন ছুঁয়ে ফেলবে।

 

 

এই টেস্ট সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব সবার। দলগত পারফরমেন্সেই ইংরেজদের সহজে কুপোকাত করা সম্ভব হয়েছে। ভারতীয় দলের রিজার্ভ বেঞ্চ এখন অনেক শক্তিশালী। যে আসছে, সেই পারফর্ম করছে। অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে দেখছি। কেউ নিরাশ করেনি। এটাই তো একটা দলের ইউএসপি। তবে সবার চেয়ে একটু হলেও আমি এগিয়ে রাখব ঋষভ পন্থকে। দুটো সিরিজ জয়ের পিছনেই ওর অবদান অনস্বীকার্য। এই টেস্টে ১২৫ রানে ৫ উইকেট পড়ে গিয়েছিল ভারতের। সেখান থেকে ওয়াশিংটন সুন্দরের সঙ্গে জুটি বেঁধে স্কোরবোর্ডকে এগিয়ে নিয়ে গেল। প্রথমে ধরে ধরে ব্যাটিং করল। আর তারপর অ্যান্ডারসনদের পাল্টা আক্রমণ করে স্কোরবোর্ডকে দুশোর গণ্ডি পার করল। একেই তো বলে ম্যাচিউরড ক্রিকেট।

আরও পড়ুন: বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল নিয়ে ভাবিইনি, বলছেন রবি

এই আত্মবিশ্বাসটা ধরে রেখেই ১৮ জুন লর্ডসে ঐতিহাসিক ফাইনাল খেলুক ভারত। নিউজিল্যান্ডের চেয়ে ধারে-ভারে অনেক এগিয়ে কোহলিরা। তখন হয়তো জাদেজা আরও ফিট হয়ে উঠবে। হার্দিক পান্ডিয়াও থাকবে দলের সঙ্গে। লোয়ার অর্ডারে ভারতের ব্যাটিং শক্তি আরও বাড়বে। বুমরা-সামিরা ফিরলে বোলিং বিভাগও আরও জোরদার হবে। ইংরেজদের দুর্গে তেরঙ্গা ওড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দিয়েছি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত ৩৬৫ (ওয়াশিংটন সুন্দর ৯৬, অক্ষর ৪৩, স্টোকস ৪/৮৯), ইংল্যান্ড ১৩৫ (লরেন্স ৫০, অশ্বিন ৫/৪৭, অক্ষর ৫/৪৮)