ছয় ছক্কায় কী প্রতিক্রিয়া ছিল ধোনির, খোলসা যুবির

যুবরাজের সঙ্গে খেলার সময় ধোনি ২০০৭ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup) নন স্ট্রাইকার এন্ডে দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন। আর যুবি সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট ব্রডের এক ওভারে ছয় বলে ছয় ছক্কা মেরেছিলেন। সেই সময় ক্রিজের অপর প্রান্ত থেকে ধোনি সেই দৃশ্য দেখেছিলেন।

ছয় ছক্কায় কী প্রতিক্রিয়া ছিল ধোনির, খোলসা যুবির
মহেন্দ্র সিং ধোনি ও যুবরাজ সিং

নয়াদিল্লি: মহেন্দ্র সিং ধোনি (MS Dhoni) ভারতকে (India) অনেক ম্যাচে জিতিয়েছেন। হাত থেকে প্রায় ফস্কে যাওয়া ম্যাচও দক্ষতার সঙ্গে টেনে বের করেছেন মাহি। তবেই না তাঁকে সেরা ফিনিশার বলা হয়। তবে মাহিও কোনও কোনও সময় দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে ছক্কা মেরে ভারতকে জেতান ক্যাপ্টেন কুল। সেই সময় নন স্ট্রাইকার এন্ডে ছিলেন যুবরাজ সিং (Yuvraj Singh)। সেই অভিজ্ঞতার কথা কোনওদিন ভোলার নয়, বলেছেন যুবি। তবে, যুবরাজের সঙ্গে খেলার সময় ধোনিও ২০০৭ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup) নন স্ট্রাইকার এন্ডে দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন। আর যুবি সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট ব্রডের এক ওভারে ছয় বলে ছয় ছক্কা মেরেছিলেন। সেই সময় ক্রিজের অপর প্রান্ত থেকে ধোনি সেই দৃশ্য দেখেছিলেন। যুবির কথায়, মাহি ভীষণ খুশি হয়েছিল তাঁকে ছয় বলে ছয় ছক্কা মারতে দেখে।

সম্প্রতি গৌরব কাপূরের ‘২২ ইয়ার্নস’ পডকাস্টে যুবরাজ সিং বলেন, “আমি মনে হয়, এমএস তখন খুব খুশি হয়েছিল। আপনি যদি অধিনায়ক হন, এবং অন্য প্রান্তে থাকা ক্রিকেটার ছয়ের পর ছয় মারতে থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সে খুশি হবে। কারণ তখন একদিকে যেমন স্কোর বাড়ছিল, অন্যদিকে আমরা জয়ের আরও কাছে যাচ্ছিলাম।” প্রসঙ্গত, সেই ম্যাচে যুবরাজ ১২ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। সেই টুর্নামেন্টে ধোনির ভারত পাকিস্তানকে হারিয়ে প্রথম বার টি-২০ চ্যাম্পিয়ন হয়।

যুবরাজ আরও বলেন, “আমার মনে আছে, আমি ফ্লিনটফেকে দুটো ভাল বাউন্ডারি মেরেছিলাম। যা স্পষ্টতই ওর পছন্দ হয়নি। ও আমাকে কিছু বলেছিল এবং আমিও তার জবাব দিয়েছিলাম। সেই সময় বেশ কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। আমাদের মধ্যে আম্পায়াররাও এসেছিলেন। আমার মনের মধ্যে তখন ঘুরপাক খাচ্ছিল যে, পার্কের বাইরে প্রতিটি বল পাঠাতে হবে আমাকে।”

তাঁর কথায়, “সৌভাগ্যক্রমে, আমি ব্রডকে যে প্রথম বলটি মেরেছিলাম, সেটা পার্কের বাইরে চলে গিয়েছিল। দ্বিতীয় বলটা গিয়ে পড়ে ভিড়ের মধ্যে। তৃতীয় বলটা আমি ওভার পয়েন্টে টার্গেট করেছিলাম, ওই অঞ্চলে আমার কেরিয়ারে কোনদিন বাউন্ডারি পাইনি। কিন্তু সেদিন পাই। তারপর সেখানে ব্রডের কাছে কলিংউড আসে, এবং ব্রডকে বলে অফ স্টাম্পের বাইরে ইয়ার্কার দিতে। তবে ব্রড আমার পায়ে বল করার কথা ভেবেছিল। তাই যখন ও এটা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন আমি জানতাম যে ও সমস্যায় পড়েছে। পাঁচ নম্বর বলটি আমার ব্যাটের ঠিক নীচের দিকে হিট করেছিল, একটি ছোট বাউন্ডারি ছিল যা ফ্লিনটফের ওপর দিয়ে গিয়েছিল। ছ’নম্বর বলটা আমি জানতাম ইয়র্কার আসবে। সুতরাং, আমি সরাসরি বড় হিট মারতে প্রস্তুত ছিলাম।”

এক ওভারে ছটি ছয় মারার পর কেমন রিঅ্যাকশন ছিল যুবির তা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “আমি প্রথমেই ফ্লিনটফের দিকে তাকিয়ে হেসেছিলাম। দ্বিতীয়ত আমি তাকিয়েছিলাম দিমিত্রি মাসকারেনহাসের দিকে। তাঁকে বলার জন্য যে স্কোর সেটল করে দিয়েছি। আর তার ঠিক পরই আমি ধোনির সঙ্গে উদযাপন করেছিলাম। তবে সেই সময় আমার কাছে ছটা ছক্কা মারার বিষয়টি মূল ছিল না। দলের হয়ে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে রান করাটাই মূল ছিল।”

আরও পড়ুন: আর্জেন্তিনার কোপার দলে বাদ অকাম্পোস, ফয়েথ