লক্ষ্য জনসংযোগ, ভোটের মুখে গাড়ি-নিরাপত্তা ছেড়ে মানুষের দুয়ারে তৃণমূল বিধায়ক

ভোটের মুখে ডাবগ্রামে বাড়িভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেছেন শিলিগুড়ির মন্ত্রী, এবার উত্তরবঙ্গের এক বিধায়ক ছাড়লেন সরকারি গাড়ি ও নিরাপত্তা রক্ষী

  • TV9 Bangla
  • Published On - 16:45 PM, 22 Feb 2021
লক্ষ্য জনসংযোগ, ভোটের মুখে গাড়ি-নিরাপত্তা ছেড়ে মানুষের দুয়ারে তৃণমূল বিধায়ক

আলিপুরদুয়ার: এখনও ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়নি। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা হয়নি। তবে প্রার্থী হচ্ছেন ধরে নিয়েই শিলিগুড়ির ডাবগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেছেন মন্ত্রী গৌতম দেব। এবার উত্তরবঙ্গের আরও এক বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীও (Sourav Chakrabarty) দিলেন নয়া চমক। ভোটের মুখে জনসংযোগ বাড়াতে সরকারি গাড়ি ও নিরাপত্তারক্ষী ছেড়ে এখন মোটর সাইকেলে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক।

সামনে বিধানসভা ভোট। রাজ্য তো বটেই উত্তরবঙ্গে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে রাজ্যের শাসক দল। ২০১৯ লোকসভা ভোটে সারা উত্তরবঙ্গ থেকে একটি আসনও পায়নি তৃণমূল। যা নিয়ে উত্তরবঙ্গ সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রীর গলাতেও অভিমানের সুর শোনা গিয়েছে। এখন ভোটের মুখে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও দলত্যাগ নিয়েও যথেষ্ট চাপে তৃণমূল। এই প্রেক্ষিতে আরও বেশি করে জনসংযোগ বাড়ানোর প্রয়াস নিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী।

এতদিনের নিরাপত্তা রক্ষী,পাইলট ভ্যান, দুধসাদা স্করপিও গাড়ি ছেড়ে মোটর বাইকে সওয়ার হয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক। নিজেই জানালেন, আলিপুরদুয়ারের মানুষ সৌরভ চক্রবর্তীকে নন, তাঁদের চেনা ‘গুটিস’ কে চান। উল্লেখ্য এটা তাঁর ডাকনাম। তাই এলাকা জুড়ে দেয়াল লিখনের কাজ শুরু হতেই সরকারি গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক। তাঁর কথায়, “আমি আজ থেকে সরকারি গাড়ি ছেড়ে দিলাম। আরও বেশি করে মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করব। তাই মোটর সাইকেলই নয়, টোটো, অটো, বাস, স্কুটি যখন যে রকম যান পাব তাতে করেই ঘুরে বেড়িয়ে মানুষের সঙ্গে মিশব। আরও বেশি করে তাঁদের কথা শুনতে হবে।” এই প্রক্ষিতে যে প্রশ্নটা স্বাভাবিকভাবে উঠে এসেছে, তা হল এবারেও আলিপুরদুয়ার থেকে কি তিনিই প্রার্থী? এর অবশ্য পরিষ্কার উত্তর দেননি সৌরভ। তবে তাঁর বক্তব্য, কোনও চমক নয়, দল যা দায়িত্ব দিয়েছে তা শুধু অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন। আপাতত একটাই লক্ষ্য- জনসংযোগ।

আরও পড়ুন: লক্ষ্য জনসংযোগ, বহিরাগত তকমা এড়াতেই কি বিধানসভা কেন্দ্রে বাড়ি ভাড়া নিলেন মন্ত্রী! 

তবে তৃণমূল বিধায়কের এই সিদ্ধান্ত শুধু চমক ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মন্তব্য করেন জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সুমন কাঞ্জিলাল। তাঁর কটাক্ষ, ‘ভোটের প্রচারে অনেক চমক থাকবে। দশ বছর ওঁদের লাইফ স্টাইল মানুষ দেখেছে। গত পাঁচ বছরে তা আরও বেশি করে দেখেছে। ওঁদের জীবনধারা এমন তাতেই মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছেন। এখন রাতারাতি সেই জীবন যাত্রা পরিবর্তন করে মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।’