মৃত করোনা রোগীর দেহ সৎকারে বাধা, বিকল্প শ্মশানের খোঁজে পুরপ্রশাসক গৌতম দেব

জমি পরিদর্শনে এসে গৌতম জানান, শিলিগুড়িতে সাহুডাঙ্গি শ্মশানে কোভিড রোগীদের মৃতদেহ দাহ করা হয়। কিন্তু, যে হারে মৃত্য়ু বাড়ছে, তাতে একটি শ্মশানের উপর নির্ভর করে থাকলে ক্রমশই চাপ বাড়ছে। তাই আরও বিকল্প দাহঘাটের সন্ধান চলছে।

মৃত করোনা রোগীর দেহ সৎকারে বাধা, বিকল্প শ্মশানের খোঁজে পুরপ্রশাসক গৌতম দেব
নিজস্ব চিত্র

শিলিগুড়ি: লাগামছাড়া করোনা সংক্রমণ। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু। কোভিডে মৃত্যু হলেও আতঙ্কে অনুশীলিত হচ্ছে ‘ছুঁৎমার্গ’। করোনা রোগীর দেহ ছোঁওয়া তো দূর, দাহকার্যেও মিলছে না শ্মশান (Burning Ghat)। গোটা রাজ্য জুড়ে করোনায় মৃত রোগীদের সৎকার ঘিরেই চলছে এই বিশৃঙ্খলার ছবি। কোথাও, দেহ জমছে মর্গে, কোথাও বা জলে ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে মরদেহ। কোথাও এলাকার বাইরে কোনওরকমে মাটি চাপা দিয়েই চলছে অন্তেষ্ট্যিক্রিয়া। মৃতের প্রতি সামান্য যত্নেরও ছোঁওয়া নেই কোথাও। প্রায় একই ছবি এ বার শিলিগুড়িতে। করোনা রোগীর (COVID patient) মৃতদেহ দাহ করতে এ বার বিকল্প শ্মশানের খোঁজে নামলেন খোদ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, অধুনা  শিলিগুড়ির পুরপ্রশাসক গৌতম দেব (Gautam Deb)। সোমবার, মহানন্দা নদীর চরের জমিতেই বিকল্প শ্মশান তৈরির পরিকল্পনা করলেন পুরপ্রশাসক।

এ দিন, জমি পরিদর্শনে এসে গৌতম জানান, শিলিগুড়িতে (Siliguri) সাহুডাঙ্গি শ্মশানে কোভিড রোগীদের মৃতদেহ দাহ করা হয়। কিন্তু, যে হারে মৃত্য়ু বাড়ছে, তাতে একটি শ্মশানের উপর নির্ভর করে থাকলে ক্রমশই চাপ বাড়ছে। তাই আরও বিকল্প দাহঘাটের সন্ধান চলছে। সাহুডাঙ্গি ছাড়া শিলিগুড়ির অন্যান্য় শ্মশানগুলির মধ্যে রয়েছে, রামঘাট ও কিরণচন্দ্র শ্মশানঘাট। এর মধ্য়ে রামঘাটে বৈদ্য়ুতিক চুল্লি নেই। অন্যদিকে, কিরণচন্দ্র ঘাটে মৃতদেহ সৎকারে বাধা দিচ্ছেন কিছু মানুষ। গৌতম দেবের দাবি, যাঁরা দাহকাজে বাধা দিচ্ছেন তাঁরা আসলে কিছু সমাজবিরোধী মানুষ। তাঁদের শক্ত হাতে দমন করা হবে। কিন্তু, রামঘাট, কিরণচন্দ্র ও সাহুডাঙ্গির বিকল্প খুঁজতেই মহানন্দা নদীর চরে আরও একটি শ্মশানঘাট করা হবে বলে জানান পুরপ্রশাসক। জানা গিয়েছে,  প্রায় এক থেকে দেড় একর জমি নিয়ে এই বিকল্প ঘাটটি তৈরি হবে। জমি নিয়ে পরিকাঠামোগত কিছু কাজ সেরে নিয়েই ঘাটের নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পুর প্রশাসক।

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়ে গত ৭মে শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসকের দায়িত্ব নেন গৌতম দেব। আর দায়িত্ব নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মতো করোনা মোকাবিলায় কড়া ভূমিকা নিয়েছেন তিনি৷ করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই পুরসভার কর্মীদের সমস্ত ছুটি বাতিল করেছেন তিনি। পাশাপাশি পুরনিগমে যে সমস্ত কর্মীদের বিশেষ কোনও কাজ নেই, তাঁদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে নানা কাজে লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন গৌতম দেব।

প্রসঙ্গত, রাজ্যে বেলাগাম করোনা সংক্রমণ। দৈনিক করোনা সংক্রমণ ফের ১৯ হাজার পার। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১৯ হাজার ৪৪১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ১২৪ জনের, কলকাতায় আক্রান্ত ৪ হাজার ছুঁইছুঁই, মৃত্যু ২৮ জনের। উত্তর ২৪ পরগনাতেও সংক্রমিত প্রায় ৪ হাজার, মৃত ৩৪। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ১৬১ জন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩৭৫৪ জনের।  এই নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২ কোটি ২৬ লক্ষ ৬২ হাজার ৫৭৫-এ।  বর্তমানে দেশে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৩৭ লক্ষ ৪৫ হাজার ২৩৭। গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে সুস্থতার হারও, একদিনেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ লক্ষ ৫৩ হাজার ৮১৮ জন। এই নিয়ে দেশে মোট ১ কোটি ৮৬ লক্ষ ৭১ হাজার ২২২ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ২ লক্ষ ৪৬ হাজার ১১৬ জনের।

আরও পড়ুন: একান্তবাসেও শেষরক্ষা হল না, কোভিড আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত মালদা জেলার জয়েন্ট বিডিও