খুশির ঈদেই মদে অ্যাসিড মিশিয়ে দাদাকে খুন করার অভিযোগ ভাইদের বিরুদ্ধে

খুশির এই দিনে ভাইদের সঙ্গে মদ্যপান করতে বসেছিল দাদা সানি শেখ। ঠিক সেই সময়ে তাঁর কোনও ভাই মদের সঙ্গে রাসায়নিক মিশিয়ে দেয়

খুশির ঈদেই মদে অ্যাসিড মিশিয়ে দাদাকে খুন করার অভিযোগ ভাইদের বিরুদ্ধে
নিজস্ব চিত্র

দক্ষিণ ২৪ পরগনা: খুশির ঈদেই বিষাদময় ঘটনার সাক্ষী থাকল বিষ্ণুপুর। নিজের দাদাকে মদের সঙ্গে অ্যাসিড মিশিয়ে খাইয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠল ভাইদের বিরুদ্ধে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানার অন্তর্গত কাঙ্গনবেড়িয়ার গুলজার মোড়ের শেখপাড়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। গতকাল ছিল ঈদের দিন। খুশির এই দিনে ভাইদের সঙ্গে মদ্যপান করতে বসেছিল দাদা সানি শেখ। ঠিক সেই সময়ে তাঁর কোনও ভাই মদের সঙ্গে রাসায়নিক মিশিয়ে দেয়, এমনই অভিযোগ মৃত সানির সেখের স্ত্রী ও দাদার।

পরিবারের তরফে চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানানো হয়েছে, ঈদের দিন সকালেই সানি ফোন করে আশঙ্কা প্রকাশ করে যে তাঁকে মেরে ফেলা হতে পারে। সানির স্ত্রী রুনা বিবি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, সকালে সানি ফোন করে জানান যে তিনি সন্ধ্যায় গিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে আসবেন রুনাকে। একই সঙ্গে সানি বলেন, ভাইয়েরা তাঁকে ডেকে মদ্যপান করাচ্ছে এবং তাঁকে খুন করা হতে পারে এমন আশঙ্কার কথাও তিনি জানান। কিন্তু সানির সেই আশঙ্কাই যে সত্যি হয়ে যাবে, তা ভাবেননি রুনা।

রুনা জানান, বেলা বাড়তে থাকলে দেখা যায় সানির মোবাইল সুইচ অফ। বারবার ফোন করেও সানির খোঁজ না মেলায় রুনা সপরিবারে সেই গ্রামে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, সানির মৃত্যু হয়েছে। তাঁর নিথর দেহ দেখে আঁতকে ওঠেন রুনা। খবর দেওয়া হয় বিষ্ণুপুর থানায়। পুলিশ এসে মৃতদেহর প্রাথমিক তদন্ত করে জানায়, সানির গায়ে বেশ কিছু জায়গায় চামড়া উঠে গিয়েছিল। অ্যাসিড জাতীয় কোনও জিনিস দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: লকডাউনের শহরে বাইরে বের হতে লাগবে ই-পাস, জেনে নিন কীভাবে সংগ্রহ করবেন…

মৃতদেহ উদ্ধার করে আমতলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সানিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। মৃত সানির শেখের স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে সানির শেখের বাবা, মা, ভাইদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের আটক করে পুলিশ। কোন উদ্দেশে এই খুন করা হল তা জানতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: করোনা বৃদ্ধিতে সরকারের উদাসীনতাকেই দুষলেন আরএসএস প্রধান